বন্যেরা বনে সুন্দর, আর ষড়যন্ত্রকারীরা আড়ালে; কিন্তু যখন সত্যের আলো পড়ে, তখন তাদের পালানোর পথ থাকে না। "১৮ মাস ধরে যে নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছিল জামাত আর তাদের বি-টিম এনসিপি, আজ সেই নাটকের যবনিকা ঘটল! ড. ইউনুসকে ঢাল বানিয়ে রাষ্ট্রকে গিলে খাওয়ার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, তা চুরমার করে দিয়েছে বিএনপির অতন্দ্র প্রহরীরা। কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েও কেন তারা ব্যর্থ হলো? জানতে হলে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
আবেগ নয়, আজ বিবেক দিয়ে সত্যটা জানার সময় এসেছে। আমরা যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, তাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ। এটাই বিএনপির মূলমন্ত্র এবং এটাই আমাদের অস্তিত্ব। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের চায় না। তারা চায় উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রতিফলন। সেই সত্যের জয় হয়েছে যা কেউ চাপা দিতে পারেনি।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। কিন্তু বিএনপি জানত, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সরিয়ে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছিল। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ‘বিপ্লবী সরকার’ নামে এক ভয়াবহ ডানপন্থী ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি আমরা শুনতে পেয়েছিলাম। বিএনপি কেবল রাষ্ট্রপতির পদ রক্ষা করেনি, বরং দেশের শাসনতন্ত্রকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের হাত থেকে বাঁচিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল জনগণের স্বার্থে।
আমরা সবাই দেখেছি, ড. ইউনুস সরকারকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন আটকে রাখতে চেয়েছিল। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল মাত্র কয়েক মাস, সেখানে তারা ১৮ মাস পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করেছে। কেন এই ১৮ মাস? উত্তরটা পরিষ্কার—যাতে তারা প্রশাসনের প্রতিটি রন্ধ্রে নিজেদের লোক বসিয়ে রাষ্ট্রকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং জাতীয়তাবাদকে চিরতরে মুছে দিতে পারে।
জামাত তাদের তথাকথিত ‘বি’ টিম এনসিপি বা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে নিয়েছিল। এককথায়, তারা ড. ইউনুস সরকারকে কেবল একটি সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে পেছনে থেকে ছায়া সরকার চালাচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের সমর্থন ছাড়াই আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকা। কিন্তু বিএনপির দূরদর্শী নেতৃত্ব এই ভয়ঙ্কর নীল নকশা শুরুতেই ধরে ফেলেছিল এবং প্রতিরোধ গড়েছিল।
এই ষড়যন্ত্রকারীরা কেবল প্রশাসন নয়, আমাদের শিক্ষাঙ্গনকেও কলুষিত করেছে। বিভিন্ন কৌশলে এবং তথাকথিত বিপ্লবের দোহাই দিয়ে তারা ডাকসুসহ প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ জবরদখল করে নেয়। ছাত্রদের পবিত্র ইশতেহারকে তারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ বুঝতে পেরেছে, এই বট বাহিনী আসলে দেশের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করে নিজেদের ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলার পাঁয়তারা করছিল মাত্র।
নির্বাচন বানচালের সব ষড়যন্ত্র যখন ব্যর্থ হলো, তখন তারা মেতে উঠল নতুন নোংরা খেলায়। নির্বাচনে তারা ব্যবহার করল নিজেদের তৈরি করা অনুগত প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবৈধ টাকার পাহাড়। তারা ভেবেছিল অর্থের বিনিময়ে মানুষের ইমান কিনে নেবে। কিন্তু বিএনপির কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ পাহারাদারের মতো ভোটকেন্দ্র রক্ষা করেছে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে জনতা তাদের রায় দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির পক্ষে।
এই ক্রান্তিকালে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। রাষ্ট্রীয় সহিংসতা দমনে এবং মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর কঠোর ভূমিকার কারণেই ষড়যন্ত্রকারীরা বুথ দখল বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে সাহস পায়নি। ফলে নানামুখী প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের পাহাড় টপকে জনতার বিপুল রায় আজ বিএনপির ঘরেই এসেছে, যা এক বড় বিজয়।
এত বাধার পরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যায়নি। নির্বাচনের দিনও আমরা দেখেছি ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সূক্ষ্ম কারচুপি। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বলছে, অনিয়ম এবং জাল ভোটের মাধ্যমে তারা বিএনপির নিশ্চিত অন্তত ৭৭টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। এই আসনগুলো তারা কেড়ে না নিলে বিএনপির বিজয় হতো আকাশচুম্বী। তবে এই জালিয়াতি সত্ত্বেও জনগণের হৃদয় থেকে বিএনপিকে মুছে ফেলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি কোনোভাবেই।
এখন পরাজয় নিশ্চিত দেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানোর নতুন মিশন শুরু করেছে। তাদের পায়ের তলার মাটি এখন নেই বললেই চলে, তাই তারা মরিয়া হয়ে আবোলতাবোল বকছে। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, এসব গুজবে কান দেবেন না। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়া এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিরতরে বিতাড়িত করা। সত্যের সূর্য এখন উদিত হয়েছে।
জামাত এবং তাদের দোসর এনসিপি রাষ্ট্রকে যে খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে উদ্ধার করার দায়িত্ব এখন বিএনপির। আমাদের নেতারাই পারেন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া মানেই দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া। ষড়যন্ত্রকারীরা যতোই শক্তিশালী হোক না কেন, জনতার ঐক্যের সামনে তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে—এটাই ইতিহাসের অমোঘ এবং চিরন্তন সত্য।
শেষে বলতে চাই, যারা ধর্মের নাম দিয়ে অধর্ম করে এবং বিপ্লবের নামে ক্ষমতার দালালি করে, তাদের দিন শেষ। বিএনপি মানেই উন্নয়ন, বিএনপি মানেই সুরক্ষা। আগামী দিনে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই বিজয় কেবল বিএনপির নয়, এই বিজয় সারা বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের। ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে আমরা গড়বো এক নতুন ও সার্বভৌম আধুনিক বাংলাদেশ।
আসুন আমরা সবাই মিলে শপথ নিই, আর কোনো ছায়া সরকারকে এই বাংলার মাটিতে জায়গা দেব না। যারা জনগণের ভোট চুরি করে, তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করার সময় এখনই। বিএনপি আছে আপনাদের পাশে, অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মনে রাখবেন, অন্ধকারের পরেই আলোর দেখা মেলে। বাংলাদেশের আকাশে সেই নতুন ভোরের আলো আজ উদ্ভাসিত হয়েছে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।
