যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, তারাই এখন জনগণের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! বিএনপি যখন রাজপথের লড়াই সংগ্রাম শেষে জনগণের বিপুল ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন, ঠিক তখনই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দিলেন এক চরম উসকানিমূলক বক্তব্য। তিনি কি পরাজয়ের গ্লানি সইতে পারছেন না, নাকি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই তার আসল উদ্দেশ্য? বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি সবসময়ই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি ইফতার মাহফিলে দাঁড়িয়ে বিএনপির এই ঐতিহাসিক বিজয়কে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি নাকি 'ইঞ্জিনিয়ারিং' করে ক্ষমতায় এসেছে।

আসলে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ যখন দেখছে বিএনপি দেশের অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে, তখন ডা. শফিক জনগণের ম্যান্ডেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। তার এই ধরনের মন্তব্য কি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সেই পুরনো সুরের প্রতিধ্বনি নয়? প্রশ্ন উঠেছে, কার ইশারায় তিনি এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা করছেন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কথা বলছেন?

বিগত ১৬ বছর বিএনপি রাজপথে রক্ত দিয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী সবসময়ই সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—সবাই বিএনপির ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত আমির এখন বলছেন যে দেশে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই যে প্রকৃত সার্বভৌমত্বের অধিকারী, তা তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন।

ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগে বলা হয়েছে যে বিভিন্ন স্থানে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক কেন্দ্রে জামায়াতের এজেন্ট দেওয়ার মতো জনবলই ছিল না। তারা জনগণের মন জয় করতে না পেরে এখন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছে। বিএনপি একটি বিশাল গণতান্ত্রিক দল, যার শিকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। সেই দলকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা মানেই হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অপমান করা।

ইফতার মাহফিলের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে বসে অন্যের সমালোচনা করা এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি দাবি করেছেন যে, তার দল নাকি ভবিষ্যতে আরও শক্ত অবস্থান নেবে। এই ‘শক্ত অবস্থান’ কি আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ইঙ্গিত? দেশের মানুষ এখন শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। বিএনপি যখন সেই শান্তি নিশ্চিত করছে, তখন জামায়াতের এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির বিজয়কে খাটো করে দেখা। তারা কয়েকটি আসন পেয়ে সংসদে গিয়ে এখন বড় বড় কথা বলছেন। অথচ নির্বাচনের আগে তারাই বিএনপির সাথে জোটে যাওয়ার জন্য মরিয়া ছিল। যখন তাদের স্বার্থ হাসিল হয়নি, তখনই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। এই দ্বিচারিতা বাংলাদেশের সচেতন মানুষ কখনোই মেনে নেবে না এবং নিতে পারে না।

মিরপুর ও কাফরুল এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ে ডা. শফিকের বক্তব্যটিও হাস্যকর। বিএনপি সরকার ইতিমধ্যেই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে নির্দেশনা দেওয়া মানে হলো প্রশাসনের ওপর অনাস্থা তৈরি করা। বিএনপি জনগণের দল, আর তারেক রহমান জনগণের নেতা। কোনো ষড়যন্ত্রই এই অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি জনগণের পাশে থেকে দেশ গঠনে কাজ করে যাবে।

শেষে বলতে চাই, যারা জনগণের রায়ে বিশ্বাস করে না, তারা গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীকে বুঝতে হবে যে গায়ের জোরে বা অপপ্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে বিএনপি আজ ক্ষমতায়। আমরা আশা করবো, ডা. শফিকুর রহমান তার ভুল বুঝতে পারবেন এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয় এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকবেন।

news