কথায় আছে, 'অতি দর্পে হত লঙ্কা'। অথচ অহংকারী আমেরিকা কি সেই ইতিহাস ভুলে গেল? একদিকে সুপার বোলের উৎসব, আর অন্যদিকে পর্দার আড়ালে ইরানের ওপর হামলার নীল নকশা! ভাবছেন অত্যাধুনিক লেজার গাইডেড রকেট দিয়ে ইরানের বীরত্ব থামানো যাবে? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। আজ উন্মোচন হবে মার্কিনীদের সেই ভণ্ডামির আদ্যোপান্ত!
পৃথিবীর ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, অন্যায়ভাবে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে শেষ পর্যন্ত নিজের পতন অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আমরা ঠিক সেই চিত্রই দেখতে পাচ্ছি। একদিকে মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইরান, আর অন্যদিকে দখলদার ইসরায়েলকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা। সম্প্রতি সুপার বোলের আসরে তারা তাদের শক্তির এক নির্লজ্জ প্রদর্শনী করেছে।
আমেরিকার জাতীয় সংগীত চলাকালীন হঠাৎ ভিডিও স্ক্রিনে দেখা গেল ভয়ংকর এফ-ফিফটিন ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান। এগুলো সাধারণ কোনো বিমান নয়, বরং লেজার গাইডেড এপিকেডব্লিউএস রকেটে ঠাসা। এই প্রদর্শনী মূলত একটি প্রোপাগান্ডা, যা দিয়ে তারা ইরানকে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। তেহরানের ঈমানি শক্তির সামনে আধুনিক এই লোহালক্কড় হয়তো স্রেফ খেলনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সুপার বোলের মতো একটি ক্রীড়া ইভেন্টে যুদ্ধের সরঞ্জামের মহড়া দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ভিডিওর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে তারা যেভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে, তা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে তারা এখন জর্ডানের মাটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই এফ-ফিফটিন বিমানগুলো নাকি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমেরিকা দাবি করছে, এই বিমানগুলো লেজার গাইডেড রকেট দিয়ে অনায়াসেই যেকোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, গত এপ্রিলে ইরান যখন শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তখন ইসরায়েল আর আমেরিকার অত্যাধুনিক সব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। তাদের প্রযুক্তি আজ প্রশ্নের মুখে।
জর্ডানের সেই ঘাঁটিতে এখন শুধু এফ-ফিফটিন নয়, বরং এ-টেন ওয়ারথগ, এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন এবং আরও অনেক মারণাস্ত্র জড়ো করা হয়েছে। এমনকি ভারমন্ট থেকে এফ-থার্টি ফাইভ স্টিলথ ফাইটারও সেখানে পাঠানোর তোড়জোড় চলছে। এত আয়োজন কেন? কারণ তারা জানে, ইরানের পালটা জবাব হবে ভয়াবহ। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক চুলও ছাড় দেবে না, আর এটাই আমেরিকার প্রধান মাথা ব্যথার কারণ।
আমেরিকা নিজেকে বিশ্বের পুলিশ মনে করলেও আসলে তারা ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতেই ব্যস্ত। সুপার বোলের ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের সেই ফুটেজটি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন সদস্যের পেছনে এই ঘাতক বিমানগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এটি আসলে যুদ্ধের উসকানি ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ ইরান বরাবরই শান্তির কথা বলে আসছে, কিন্তু তাদের শক্তিকে খাটো করে দেখা হবে বোকামি।
ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হলো ইরানকে কীভাবে চাপে রাখা যায়। ইসরায়েল চাইছে আমেরিকা যেন সরাসরি ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করে। কিন্তু তেহরানের হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনো মুহূর্তে তেল আবিব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। তারা আসলে আগুনের সাথে খেলছে।
গত কয়েক বছরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা যেভাবে বেড়েছে, তা পশ্চিমা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। সস্তা অথচ কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে ইরান এখন বড় বড় শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আমেরিকার এই দামী রকেটগুলো দিয়ে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোন থামানো প্রায় অসম্ভব। একটা এফ-ফিফটিন হয়তো কয়েকটা ড্রোন ফেলবে, কিন্তু যখন হাজার হাজার ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলবে, তখন পালানোর পথ পাবে না মার্কিনীরা।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাথে আলোচনা ইতিবাচক হচ্ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি কেন? ওমান আলোচনায় ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস হবে না। ইরান এখন আর আগের মতো দুর্বল নয়। তাদের হাতে এখন এমন সব অস্ত্র আছে, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে টার্গেটে আঘাত হানতে পারে। মার্কিন দাপট এখন শুধু ভিডিওতেই সীমাবদ্ধ।
জর্ডান সীমান্ত ব্যবহার করে মার্কিনীদের এই তর্জন-গর্জন আসলে তাদের ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি তারা পুয়ের্তো রিকো থেকে আরও যুদ্ধবিমান সেখানে নিয়ে এসেছে। এমনকি শত শত কার্গো বিমানে করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। যদি তারা সত্যিই শক্তিশালী হতো, তবে এত রক্ষাকবচের প্রয়োজন হতো না। ইরান তার অবস্থানে অনড়, আর এটাই প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আমেরিকার সাধারণ মানুষ যখন খেলা নিয়ে ব্যস্ত, তখন তাদের ট্যাক্সের পয়সা খরচ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি জিইয়ে রাখার জন্য। ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আমেরিকা আজ সারা বিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। আর সেই যুদ্ধে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের কবর রচিত হবে বলে সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তেহরান এখন সময়ের অপেক্ষায়।
নেতানিয়াহুর উসকানিতে পা দিয়ে ট্রাম্প যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেন, তবে তার মাশুল দিতে হবে পুরো বিশ্বকে। ইরান বারবার সতর্ক করেছে যে, তাদের সীমানার কাছে কোনো বিদেশি শক্তির উপস্থিতি তারা সহ্য করবে না। সুপার বোলের সেই বিজ্ঞাপন দিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না। বরং এতে ইরানি যোদ্ধাদের মনোবল আরও দৃঢ় হচ্ছে। সত্যের জয় হবেই এবং মিথ্যার বিনাশ হবে অনিবার্যভাবে।
মার্কিন এই এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমানগুলো ল্যাকেনহেথ ঘাঁটি থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে। যারা গত এপ্রিলে ইসরায়েলকে বাঁচাতে আকাশপথে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান আরও উন্নত কৌশল অবলম্বন করছে। দখলদার বাহিনীর পতন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। কোনো আধুনিক প্রযুক্তি বা লেজার গাইডেড রকেট দিয়ে মজলুমের কণ্ঠস্বর চেপে রাখা যায় না। ইতিহাস তার সাক্ষ্য আজীবন বহন করবে।
শেষে বলতে চাই, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন আসন্ন। আমেরিকা যতই অস্ত্র প্রদর্শন করুক না কেন, সত্যের পথে থাকা যোদ্ধাদের সামনে তারা টিকতে পারবে না। ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সুপার বোলের ভিডিও হয়তো সমর্থকদের হাততালি কুড়াবে, কিন্তু রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি হবে সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা সত্যের পক্ষে থাকব এবং সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব। মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়ের সূর্য উদিত হবেই।
আমেরিকার এই রণপ্রস্তুতি নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন? ইরান কি পারবে এই বিশাল পরাশক্তিকে রুখে দিতে? নাকি ইসরায়েলের জয়গানই গাইবে আধুনিক এই মারণাস্ত্রগুলো? আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। দর্শক, ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন এবং আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।
