বনের বাঘে না খেলেও মনের বাঘে খায়। আজ ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা বন্ধুদের অবস্থা ঠিক তেমনই। রাশিয়ার অজেয় শক্তির ভয়ে তারা যতটা না বিপর্যস্ত, তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।

বিশ্ব রাজনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে রাশিয়ার ঐতিহাসিক বীরত্ব এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, অন্যদিকে ইউক্রেনের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর চাপিয়ে দেওয়া এক আত্মঘাতী যুদ্ধ। আজকের ভিডিওতে আমরা বিশ্লেষণ করব কীভাবে রাশিয়া ধাপে ধাপে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কোণঠাসা করছে এবং কেন জেলেনস্কির সরকার এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে।

রাশিয়া সবসময়ই উদ্ভাবনে বিশ্বাসী। সম্প্রতি রাশিয়ার Su-75 'চেকমার্ক' স্টিলথ ফাইটার নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় অনেক নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, রাশিয়া সস্তায় এবং কার্যকরভাবে এমন সব মরণাস্ত্র তৈরি করছে যা আমেরিকার শত কোটি ডলারের F-35 কেও টেক্কা দিতে সক্ষম। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা কেবল যুদ্ধ করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ইউক্রেনকে ব্যবহার করছে। Su-57 এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ইতিমধ্যেই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের দিকে তাকালে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ন্যাটোর প্ররোচনায় পড়ে তারা রাশিয়ার মতো এক সুপারপাওয়ারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। জেলেনস্কি সরকার এখন পুরোপুরি পশ্চিমা সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সত্য হলো, ন্যাটোর দেওয়া ট্যাঙ্ক আর মিসাইল রাশিয়ার উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের সামনে খেলনার মতো অকেজো হয়ে পড়ছে। ইউক্রেন আজ তার তরুণ প্রজন্মকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে এমন এক যুদ্ধে, যে যুদ্ধে জেতার কোনো সম্ভাবনা তাদের নেই। তথ্য প্রমাণ বলছে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মনোবল এখন তলানিতে।

রাশিয়া বর্তমানে ড্রোন যুদ্ধে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সস্তা অথচ বিধ্বংসী ড্রোন দিয়ে তারা ইউক্রেনের কোটি কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুতিনের রণকৌশল হলো 'অ্যাট্রিশন ওয়ারফেয়ার' বা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ। তারা ইউক্রেনকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করছে, তাদের গোলাবারুদ শেষ করে দিচ্ছে এবং পশ্চিমা অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। রাশিয়ার হাইপারসনিক মিসাইল কিঞ্জাল বা জিরকন যখন আঘাত হানে, তখন ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে।

পশ্চিমা দেশগুলো ভেবেছিল নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়াকে ভাতে মারবে। কিন্তু ফলাফল হয়েছে উল্টো। রাশিয়ার অর্থনীতি এখন আগের চেয়েও বেশি স্থিতিশীল। ভারত, চীন এবং আরব দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইউরোপ যখন গ্যাসের অভাবে ভুগছে, রাশিয়া তখন তার তেলের বাজার সম্প্রসারণ করছে। এটিই প্রমাণ করে যে ভ্লাদিমির পুতিন কেবল একজন যোদ্ধা নন, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।

ইউক্রেন যুদ্ধ আসলে একটি সভ্যতার লড়াই। একদিকে রাশিয়ার ঐতিহ্য রক্ষা এবং ন্যাটোর আগ্রাসন ঠেকানোর সংগ্রাম, অন্যদিকে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে পশ্চিমাদের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা। তবে ইতিহাস সাক্ষী, রাশিয়াকে কখনো হারানো যায়নি, আর এবারও যাবে না। ইউক্রেনের পরাজয় এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দর্শক, আপনার কী মনে হয়? জেলেনস্কি কি পারবেন রাশিয়ার এই মহাপরাক্রমী গতির সামনে টিকে থাকতে? নাকি ইউক্রেনকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

news