ভাবুন তো সেই দৃশ্য, যেখানে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি দাবিদাররা একে অপরের সাথে লড়ছে শুধু ইরানকে ভয় পেয়ে! ব্রিটেন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো যাবে না। তবে কি পতনের শুরু হয়ে গেল? বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
কথায় আছে, "ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।" আজ বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিক তেমনটাই ঘটছে। যারা বছরের পর বছর ধরে নিরীহ মুসলিম দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে, আজ তারা নিজেরাই নিজেদের জালে আটকা পড়েছে। ইরানের মতো একটি সাহসী দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে গিয়ে আজ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেই শুরু হয়েছে চরম বিভেদ এবং অবিশ্বাস।
সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরান আক্রমণের জন্য আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেবে না। এটি ইরানের জন্য একটি বিশাল নৈতিক জয়। কারণ, শত্রুপক্ষ যখন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তখন সত্যের জয় আরও ত্বরান্বিত হয়।
দিয়েগো গার্সিয়া এবং আরএএফ ফেয়ারফোর্ড—এই দুটি ঘাঁটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা পরিকল্পনা করেছিল এখান থেকে বি-৫২ এবং বি-২ এর মতো ভারী বোমারু বিমান উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ইরানের শান্তিকামী মানুষের ওপর অন্যায় হামলা চালাবে। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই অন্যায় যুদ্ধে শরিক হতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ব্রিটেন মনে করছে, ইরানের ওপর হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তারা জানে যে ইরান কোনো অন্যায় করছে না, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। তাই এই অবৈধ যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন দেওয়া মানে নিজেদের হাত রক্তে রাঙানো। ট্রাম্প প্রশাসন চাইলেও এখন সহজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারছে না, যা ইরানের জন্য স্বস্তির।
ইরান আজ আর সেই আগের দেশ নেই যাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে। তাদের সামরিক প্রযুক্তি এবং ঈমানি শক্তি আজ এতটাই প্রখর যে, খোদ আমেরিকাও এখন সরাসরি যুদ্ধে নামতে ভয় পাচ্ছে। ইসরায়েল এবং আমেরিকার এই অশুভ জোট ইরানের কিছুই করতে পারবে না, কারণ সত্য সব সময় মিথ্যার ওপর বিজয়ী হয়।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের মধ্যে শুরু হয়েছে কথার লড়াই। ট্রাম্প মনে করেন, দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি ব্রিটিশদের হাতছাড়া করা উচিত নয়। কিন্তু পর্দার আড়ালের খবর হলো, ট্রাম্প আসলে রেগে গেছেন কারণ ব্রিটেন তাকে ইরানের ওপর হামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দিচ্ছে না। এটি তাদের পরাজয়েরই নামান্তর।
আমেরিকা ও ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি জিইয়ে রেখেছে। কিন্তু ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার মিসাইলগুলো তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এখন যখন তারা দেখছে যে সরাসরি যুদ্ধে জেতা অসম্ভব, তখন তারা মিত্রদের ঘাঁটি ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সেখানেও তারা আজ চরমভাবে ব্যর্থ এবং অপমানিত হচ্ছে।
আমেরিকা থেকে ইরানের দূরত্ব কয়েক হাজার মাইল। দিয়েগো গার্সিয়ার মতো দ্বীপগুলো ছাড়া তাদের পক্ষে ভারী বোমারু বিমান পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। ব্রিটেন এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা এখন খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ। ইরানের আকাশসীমা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আমেরিকা বারবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে, ইরান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের প্রযুক্তি উন্নয়নের পূর্ণ অধিকার রাখে। ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বিশ্ব চুপ থাকলেও ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা কেন? এটি তাদের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ।
এক সময় বলা হতো বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান যেকোনো দেশের রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। কিন্তু ইরানের অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেমের সামনে এগুলো এখন খেলনা মাত্র। হয়তো এই ভয়েই আমেরিকা এখন দূরপাল্লার ঘাঁটিগুলো খুঁজছে। কিন্তু যখন আল্লাহ সহায় থাকেন, তখন কোনো প্রযুক্তিই সত্যের পথ রোধ করতে পারে না।
ইসরায়েল এখন সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে। তারা ভেবেছিল আমেরিকা হয়তো সহজেই ইরানকে ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু এখন তারা দেখছে আমেরিকা নিজেই মিত্রদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক একটি কঠোর জবাব। এই অঞ্চলে ইহুদিবাদী শক্তির পতন এখন সময়ের দাবি মাত্র।
সারা বিশ্বের সচেতন মানুষ আজ ইরানের এই প্রতিরোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল যে অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিন ও লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইরানেরই আছে। তাই ব্রিটেনের এই পিছুটান আসলে জালেমদের পরাজয়ের একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে সারা বিশ্বে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বারবার হুমকি দিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি জানেন যে ব্রিটেনের সাহায্য ছাড়া বড় কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী যেকোনো হামলা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত। ট্রাম্পের হুঙ্কার এখন কেবল রাজনৈতিক স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইরান সব সময় বলে এসেছে তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায়। কিন্তু শান্তি মানে এই নয় যে তারা কারো গোলামি করবে। আমেরিকা ও ইসরায়েল এই অঞ্চলে অশান্তির মূল হোতা। ব্রিটেন হয়তো দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সাথে বিবাদে জড়ানো মানে নিজেদের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলা। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের সামরিক কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়েছে। ইরানের নৌবাহিনী এবং ড্রোন প্রযুক্তি আজ সমুদ্রের প্রতিটি কোণায় নজরদারি করছে। আমেরিকান নৌবহর এখন আর আগের মতো মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারছে না এই অঞ্চলে।
যদি শেষ পর্যন্ত কোনো সংঘাত শুরুও হয়, তবে তাতে জয় হবে ইরানেরই। কারণ ইরান নিজের মাটির জন্য লড়ছে, আর আমেরিকা লড়ছে শুধু আধিপত্যের জন্য। ইতিহাসে দেখা গেছে, দখলদার শক্তি কখনোই দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারে না। ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে কাজ করতে পারে।
শেষে বলা যায়, সত্যের জয় অনিবার্য। ইরান আজ সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা। আমেরিকা ও ইসরায়েল যত চক্রান্তই করুক না কেন, তারা সফল হবে না। ব্রিটেনের এই পিছুটান প্রমাণ করে যে, অন্যায়ের পথে কোনো মিত্রই চিরস্থায়ী হয় না। আমরা বিশ্বাস করি, খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিদায় ঘটবে।
আপনারা কী মনে করেন? ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই আমেরিকার পরাজয় নিশ্চিত করবে? আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।
