বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো — ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দোনবাস রক্ষার দম্ভ আজ এই প্রবাদের মতোই ধোপে টিকছে না। ভূ-রাজনীতির ময়দানে দোনবাসের ৩০ মাইলের সেই বিখ্যাত 'ফোর্ট্রেস বেল্ট' বা দুর্গ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া অনেক হাকডাক ছেড়েছিল। কিন্তু আজ যুদ্ধের ময়দানের কঠিন বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। ইউক্রেন যে এলাকাকে তাদের অভেদ্য দেয়াল মনে করত, রাশিয়ার অদম্য সামরিক শক্তির সামনে তা এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। আজ আমরা বিশ্লেষণ করব কীভাবে রাশিয়ার সুপরিকল্পিত রণকৌশল ইউক্রেনের সাজানো বাগান তছনছ করে দিচ্ছে এবং কেন জেলেনস্কি সরকারের একগুঁয়েমি তাদের দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউক্রেন গত এক দশক ধরে দোনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চলে স্লাভিয়ানস্ক, ক্রামাটর্স্ক এবং কনস্টান্টিনোভকার মতো শহরগুলোতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে এক বিশাল প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এটাকে রাশিয়ার জন্য 'মৃত্যুফাঁদ' হিসেবে প্রচার করেছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, রাশিয়ার সেনাবাহিনী এই দুর্গের প্রতিটি ইঞ্চি জয়ের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করছে, তা আসলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।
তথ্য বলছে, ইউক্রেন এই অঞ্চলে শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ পরিখা, অ্যান্টি-ট্যাংক গর্ত এবং 'ড্রাগন টিথ' বা কংক্রিটের প্রতিবন্ধক স্থাপন করেছিল। কিন্তু রাশিয়ার অত্যাধুনিক আর্টিলারি এবং ড্রোন প্রযুক্তির সামনে এই বিশাল নির্মাণ আজ কার্যত অকেজো। জেলেনস্কি সরকার যখন তার দেশের সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দোনবাসের মানুষকে নব্য-নাৎসি শাসন থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে আসছেন।
পশ্চিমা শক্তিগুলো, বিশেষ করে আমেরিকা, ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এক ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার জন্য এটি কেবল ভূখণ্ড জয় নয়, বরং তার জাতীয় নিরাপত্তা এবং ঐতিহাসিকভাবে রুশ ভাষাভাষী মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ইউক্রেনীয় বাহিনী যখন তাদের আবাসিক এলাকাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, রাশিয়া তখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেসামরিক ক্ষতি কমিয়ে সামনে এগোচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, যে আমেরিকা জেলেনস্কিকে উসকে দিয়েছিল, তারাই এখন গোপনে ইউক্রেনকে দোনবাস ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসছে। কারণ পশ্চিমা বিশ্ব বুঝতে পেরেছে, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতির সামনে ইউক্রেনের টিকে থাকা অসম্ভব। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দোনবাসের নিরাপত্তা রাশিয়ার জন্য একটি মৌলিক বিষয়, এবং এই অবস্থানে রাশিয়া অটল।
ইউক্রেন আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে তাদের নিজেদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমেরিকার দেওয়া কথিত 'নিরাপত্তা গ্যারান্টি'র মরীচিকার পিছে ছুটতে গিয়ে তারা নিজেদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় বা ফোর্ট্রেস বেল্ট হারাতে বসেছে। আসলে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনা এড়িয়ে চলা এবং যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়াটাই ছিল ইউক্রেনের ইতিহাসের সবথেকে বড় কৌশলগত ভুল।
রাশিয়ার অগ্রগতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, কিন্তু তা আসলে রাশিয়ার রণকৌশলের অংশ। রাশিয়া তার সৈন্যদের জীবন তুচ্ছ করে দ্রুত জয়ের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরিতে বিশ্বাসী। এর বিপরীতে, ইউক্রেন তাদের শেষ সক্ষম সৈন্যকেও এই 'মিট গ্রাইন্ডার' বা মাংস পেষার যন্ত্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পকরোভস্ক এবং চাসিভ ইয়ারের যুদ্ধে ইউক্রেন যে পরিমাণ সৈন্য হারিয়েছে, তা কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়।
ইউক্রেন দাবি করে যে তারা রাশিয়ার ক্ষতি করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো রাশিয়ার জনবল এবং অস্ত্রের ভাণ্ডার কার্যত অফুরন্ত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অন্যদিকে ইউক্রেন কেবল বিদেশের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। যেদিন এই সাহায্য বন্ধ হবে, সেদিনই ইউক্রেনের তাসের ঘর ভেঙে পড়বে।
শেষে বলা যায়, দোনবাসের এই ৩০ মাইলের দুর্গ ইউক্রেনের জন্য রক্ষা কবজ নয়, বরং তাদের পরাজয়ের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার প্রমাণ করেছেন যে, তিনি তার লক্ষ্যে অবিচল। জেলেনস্কি সরকার যদি রাশিয়ার যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে কেবল দোনবাস নয়, পুরো ইউক্রেনের মানচিত্রই হয়তো চিরতরে বদলে যাবে। রাশিয়ার এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই মূলত বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমাদের একাধিপত্য খর্ব করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
দর্শক, আপনাদের কি মনে হয়? ইউক্রেন কি পারবে রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা রুখে দিতে, নাকি জেলেনস্কির একগুঁয়েমি ইউক্রেনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।
