"আমেরিকা কি আগুনের সাথে খেলছে? বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু চালিত রণতরী পাঠিয়ে কি ইরানকে ভয় দেখানো সম্ভব? যখন তেহরানের মাটির নিচে হাজার হাজার নির্ভুল মিসাইল টার্গেট সেট করে বসে আছে, তখন মার্কিন এই দম্ভ কি তাদের নিজেদের সমাধিস্থল হয়ে উঠবে না? আজকের ভিডিওতে দেখুন, কীভাবে ইরানের বীরত্বের সামনে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমা শক্তি!"

“শকুনের দোয়ায় গরু মরে না”—বাংলা এই প্রবাদটি আজ যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। বছরের পর বছর ধরে আমেরিকা এবং তার দোসর ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখে আসছে, কিন্তু ইরানের অদম্য শক্তি ও সাহসের সামনে তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র ধুলোয় মিশে গেছে। আজ আবারও সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশিতে।

মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব, দানবীয় রণতরী ইউএসএস জেয়ার্ল্ড আর ফোর্ড এখন ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী হয়ে এই জাহাজটির প্রবেশ কেবল একটি সামরিক মহড়া নয়, বরং এটি ইরানের বিরুদ্ধে এক নগ্ন উসকানি। আমেরিকা ভাবছে তাদের এই বিশাল লোহালক্কড় দেখিয়ে ইরানের মতো একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রকে তারা মাথানত করতে বাধ্য করবে, কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা।

আমেরিকার এই আগ্রাসনের নেপথ্যে রয়েছে তাদের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিবর্তে অশান্তির বীজ বপন করছে। তারা ইসরায়েলকে খুশি করতে ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং এখন সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়; এটি হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এক অপরাজেয় শক্তির নাম।

জেয়ার্ল্ড ফোর্ড রণতরীটি যখন জিব্রাল্টার প্রণালী পার হচ্ছিল, তখন এর সাথে ছিল অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান। স্প্যানিশ নৌবাহিনীর পাহারায় এই বিশাল বহর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা মনে করছে, তাদের এই রণসজ্জা দেখে ইরান ভয় পাবে। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপের ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বেদনাদায়ক।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধের ভক্ত নয়, তবে তারা যুদ্ধকে ভয়ও পায় না। ওয়াশিংটন যখন জিরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি করছে, ইরান তখন বুক ফুলিয়ে বলছে তারা তাদের অধিকার থেকে এক চুলও নড়বে না। এটি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির লড়াই নয়, এটি একটি জাতির স্বাধীনতার লড়াই।

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি দল একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, যদি আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার প্রতিটি ঘাঁটি, প্রতিটি সম্পদ এবং প্রতিটি সৈন্য হবে ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইরানের এই আত্মবিশ্বাস কোনো ফাঁপা বুলি নয়, বরং এটি তাদের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিশাল মিসাইল ভাণ্ডারের শক্তি।

আমেরিকা এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বলছে তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে 'লিমিটেড স্ট্রাইক' বা সীমিত হামলা চালাবে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ইরানের পারচিন পারমাণবিক সাইট এখন কংক্রিট এবং মাটির স্তুপ দিয়ে এমনভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে যে কোনো হামলা সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার এবং বিপুল সংখ্যক সৈন্য ন্যাটো মহড়া থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসছে। জর্ডান এবং সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো এখন মার্কিন যুদ্ধবিমানে ঠাসা। কিন্তু মজার বিষয় হলো, জর্ডান এবং সৌদি আরব উভয় দেশই প্রকাশ্যে বলেছে যে তারা তাদের মাটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা মেনে নেবে না।

আমেরিকার এই সামরিক প্রস্তুতি আসলে তাদের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তারা জানে যে সরাসরি যুদ্ধে ইরানের সাথে জেতা অসম্ভব, তাই তারা ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চায়। কিন্তু ইরানের জনগণ এবং তাদের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ। তারা জানে কীভাবে শত্রুর দাঁতভাঙা জবাব দিতে হয়। মার্কিন রণতরীগুলো এখন আসলে সমুদ্রের মাঝখানে ইরানের জন্য একেকটি বিশাল টার্গেট ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইসরায়েলও এই উত্তেজনার সুযোগ নিতে চাইছে। আইডিএফ বা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তারা মনে করছে এই সপ্তাহান্তেই হয়তো বড় কিছু ঘটবে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে, তেহরান যদি একবার তাদের হাইপারসনিক মিসাইলগুলো ছোড়া শুরু করে, তবে আয়রন ডোম বা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেবল খেলনা হিসেবে প্রমাণিত হবে।

মার্কিন মিডিয়াগুলো ইউএসএস জেয়ার্ল্ড ফোর্ডকে অজেয় হিসেবে প্রচার করলেও ভেতরের খবর ভিন্ন। শোনা যাচ্ছে, এই বিশাল জাহাজের টয়লেট এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। টানা আট মাস সমুদ্রে থাকায় এর নাবিকদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে। যে জাহাজের সৈন্যরা টয়লেট পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা ইরানের দুর্ধর্ষ রেভল্যুশনারি গার্ডের মোকাবিলা করবে কীভাবে?

ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে যাতে শত্রুরা সহজে লক্ষ্যবস্তু বানাতে না পারে। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ইরানের প্রতিটি পাহাড় এখন একেকটি মিসাইল লঞ্চিং প্যাড। আমেরিকা যদি মনে করে তারা গতানুগতিক কায়দায় হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাবে, তবে তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলটি করতে যাচ্ছে।

পুরো পৃথিবী এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে। একদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অহংকার, অন্যদিকে একটি স্বাধীনকামী জাতির প্রতিরোধ। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং ঈমানি শক্তি দিয়ে লড়াই করে। আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপে এখন পরাজয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভূমধ্যসাগরে আসা এই রণতরী হয়তো শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পতনের কফিন হয়ে ফিরে যাবে।

আমেরিকার উচিত হবে আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করা। ইরানের ওপর আক্রমণ করা মানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালিয়ে দেওয়া। আর সেই আগুনে আমেরিকা নিজেও ভস্মীভূত হবে। ট্রাম্পের 'লিমিটেড স্ট্রাইক' এর স্বপ্ন হয়তো খুব দ্রুতই এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইরানের মাটি বীরদের মাটি, এখানে আগ্রাসনবাদীদের কোনো স্থান নেই, কখনো ছিল না এবং কখনো হবেও না।

শেষে বলা যায়, সত্যের জয় অনিবার্য। আমেরিকা যত বড় রণতরীই পাঠাক না কেন, ইরানের অদম্য চেতনার কাছে তাদের হার মানতেই হবে। মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষ আজ ইরানের সাহসের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আশা করি, ন্যায়ের এই লড়াইয়ে ইরান জয়ী হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন আধিপত্যের চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে ইনশাআল্লাহ।

news