চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর সাম্রাজ্যবাদ বোঝে না মানবতার বাণী। বিশ্বরাজনীতিতে আজ এক কালো অধ্যায় রচিত হলো। যে মানুষটি কয়েক দশক ধরে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন, সেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কাপুরুষোচিতভাবে হামলা চালিয়ে শহীদ করা হয়েছে। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের এই যৌথ বর্বরতা কি কেবল একজন নেতার প্রস্থান, নাকি এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ? ট্রাম্পের উল্লাস কি শেষ পর্যন্ত তাদের নিজের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করবো এই আগ্রাসনের পেছনের আসল সত্য।

শনিবার ভোরে যখন পুরো বিশ্ব ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখন তেহরানে নেমে আসে মার্কিন ও ইসরায়েলি মিসাইল। ট্রাম্প সদম্ভে ঘোষণা করেছেন যে, তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছে। ট্রাম্প এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে 'ন্যায়বিচার' বলে আখ্যা দিলেও, বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো সবসময়ই স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করতে চায়।

আয়াতুল্লাহ খামেনি দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অপরাধ ছিল একটাই—তিনি আমেরিকার দাসত্ব মেনে নেননি। তিনি বারবার বলেছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা নয়, বরং শান্তিপূর্ণ জ্বালানি চায়। কিন্তু আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে সহ্য করতে পারেনি। তারা চায় মুসলিম বিশ্ব সবসময় তাদের ওপর নির্ভরশীল থাকুক। খামেনির মৃত্যুতে তারা আজ আনন্দিত হলেও তার আদর্শ চিরকাল অম্লান থাকবে।

ইরান কিন্তু এই হামলা চুপচাপ সয়ে নেয়নি। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। গালফ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল। কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে শুরু করে দুবাইয়ের বিলাসবহুল এলাকাগুলোতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের মাটিতে আঘাত করলে শত্রুর আঙিনাও আর নিরাপদ থাকবে না।

ট্রাম্প ইরানি জনগণকে উস্কানি দিচ্ছেন যেন তারা রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন, এই জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ট্রাম্পের 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টগুলো আসলে তার সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তারা মনে করছে ইরানের নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই দেশটি তাদের কবজায় চলে আসবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহান নেতাদের শাহাদাত আসলে বিপ্লবের আগুনকে আরও বেশি শক্তিশালী এবং বেগবান করে তোলে।

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও সম্পদের ওপর নজর দিয়ে আসছে। ইসরায়েলকে ব্যবহার করে তারা এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রেখেছে। লেবানন থেকে ইয়েমেন, সবখানেই তারা প্রতিরোধের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করেছে। খামেনির ওপর এই হামলা সেই ষড়যন্ত্রেরই চূড়ান্ত রূপ। তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক এখন মনে করছেন।

২০২৫ সালের জুন মাসেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিন্তু আজকের এই উত্তেজনা প্রমাণ করে ইরান কতটা শক্তিশালী। খামেনি বারবার পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি দেশ কীভাবে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে পারে। আমেরিকার রক্তপিপাসু থাবা আসলে ইরানের এই আত্মনির্ভরশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।

বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যেভাবে আমেরিকার পা চেটে চলছে, তার ফলাফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে জায়গা দিয়ে তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। ইরানি ড্রোন ও মিসাইল যখন এসব অঞ্চলে আঘাত হানছে, তখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে জায়নবাদী শক্তির বন্ধু হয়ে কেউ শান্তিতে থাকতে পারবে না। এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ইরানের নয়, এটি পুরো অঞ্চলের।

আয়াতুল্লাহ খামেনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক। তাকে হত্যার মাধ্যমে আমেরিকা হয়তো মনে করছে তারা জিতে গেছে, কিন্তু বাস্তবে তারা একটি নতুন প্রতিরোধের জন্ম দিয়েছে। তেহরান থেকে বৈরুত, সর্বত্র এখন প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে এমন এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখান থেকে তাদের ফেরার কোনো পথ থাকবে না।

শেষে বলা যায়, সত্যের জয় অনিবার্য। খামেনি যে সাহসের পরিচয় দিয়ে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই জোটবদ্ধ আক্রমণ আসলে তাদের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। তারা সম্মুখ সমরে না পেরে অন্ধকারের সুযোগ নিয়েছে। তবে ইরানি জনগণ এবং বিপ্লবী বাহিনী যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তাতে এটুকু নিশ্চিত যে, এই অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদের দিন ফুরিয়ে এসেছে।

news