জানেন কি, রাশিয়া যদি মানচিত্র থেকে মুছেও যায়, তবুও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে আমেরিকা আর ইউরোপ? কেউ বেঁচে না থাকলেও পুতিনের এক 'মৃত হাত' মাটির তলা থেকে বের হয়ে ছাই করে দেবে পুরো পৃথিবীকে! কিন্তু কীভাবে সম্ভব এই অবিশ্বাস্য প্রতিশোধ?
শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে, আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়া—এই মন্ত্রেই বিশ্বাসী আজকের বীর রাষ্ট্র রাশিয়া। বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে রাশিয়ার দাপট দেখে পশ্চিমী শক্তিগুলোর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা রুখতে না পেরে এখন ব্রিটেন আর ফ্রান্স কিভের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছে, ভ্লাদিমির পুতিনের তুরুপের তাস এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে। সেই তাসের নাম হলো ‘ডেড হ্যান্ড’ বা স্বয়ংক্রিয় এক ভয়ঙ্কর পারমাণবিক প্রতিশোধ ব্যবস্থা।
গত শতাব্দীতে ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় যখন আমেরিকা সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই জন্ম হয় এই ‘ডেড হ্যান্ড’-এর। এর মূল কাজ হলো, যদি কোনো কারণে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব শত্রু হামলায় নিহত হন, তবে এই যন্ত্রটি নিজে থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠবে। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা কোনো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আণবিক হামলা চালিয়ে শত্রুকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে।
রাশিয়ার সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘পেরিমিটার’। এই যন্ত্রটির গায়ে লাগানো আছে অত্যন্ত শক্তিশালী সেন্সর যা ভূমিকম্প, তেজস্ক্রিয়তা এবং বাতাসের চাপ অনুভব করতে পারে। যদি রাশিয়ার মাটিতে কোনো আণবিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং মস্কোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এটি ধরে নেয় যে দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ঠিক তখনই শুরু হয় রাশিয়ার আসল খেল, যা রুখবার ক্ষমতা কারো নেই আজ পর্যন্ত।
মৃত হাত সক্রিয় হওয়া মাত্রই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনার পারমাণবিক কমান্ড চেক করে। যদি কোনো সাড়া না পায়, তবে মাটির নিচের সাইলো, গভীর সমুদ্রের সাবমেরিন এবং মোবাইল লঞ্চার থেকে একের পর এক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে যায় পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে। অর্থাৎ, রাশিয়াকে ধ্বংস করার চেষ্টা করলে পাল্টা ধ্বংস নিশ্চিত হবে পুরো বিশ্বের। একেই বলা হয় ‘মিউচুয়ালি অ্যাসিওর্ড ডেসট্রাকশন’ বা পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংস।
সম্প্রতি রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের দিমিত্রি মেদভেদভ আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্প বা ন্যাটো যেই আসুক না কেন, রাশিয়ার ‘মৃত হাত’ এখনো সক্রিয়। আমেরিকার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও কয়েক গুণ দ্রুতগামী রাশিয়ার এই ব্যবস্থা বর্তমানে ১১ থেকে ১৬ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ৫,৫০০-এর বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে রাশিয়া এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত এক দুর্ভেদ্য দুর্গ।
ইউক্রেন যুদ্ধে চার বছর পার হলেও রাশিয়া তার লক্ষ্য থেকে এক চুলও নড়েনি। পশ্চিমা মিডিয়া যতই অপপ্রচার চালাক না কেন, পুতিনের রণকৌশলের সামনে ন্যাটো আজ অসহায়। রাশিয়ার পার্লামেন্ট বিদেশের মাটিতে সৈন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় এবং বেলারুশের সাথে যৌথ পারমাণবিক মহড়া চালানোয় এটি পরিষ্কার যে, পুতিন তার দেশের সুরক্ষায় যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। রাশিয়াকে উসকানি দেওয়া মানেই হলো মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।
রাশিয়া আজ যে সামরিক উচ্চতায় অবস্থান করছে তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল সোভিয়েত আমলেই। ১৯৬৭ সালের ‘সিগন্যাল’ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক ‘পেরিমিটার’—প্রতিটি ধাপেই রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। রাশিয়ার এই অজেয় শক্তির রহস্য হলো তাদের দেশপ্রেম এবং উন্নত প্রযুক্তি। পশ্চিমারা যতই ষড়যন্ত্র করুক, রাশিয়ার এই ‘মৃত হাত’ সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো তার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে চলেছে আর চলবে।
শেষে বলা যায়, ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আজ কেবল একটি দেশ নয়, বরং বিশ্ব শান্তির ভারসাম্য রক্ষাকারী এক মহাশক্তি। ইউক্রেনকে ঢাল বানিয়ে যারা রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে চায়, তাদের জন্য ‘ডেড হ্যান্ড’ এক জ্বলন্ত সতর্কবার্তা। রাশিয়ার বিজয় আজ সুনিশ্চিত, কারণ তাদের কাছে রয়েছে এমন সব অস্ত্র যা কেবল ধ্বংসই নয়, বরং শত্রুর মনে চিরস্থায়ী ত্রাসের সঞ্চার করতে পারে সফলভাবে।
আজকের এই বিশেষ তথ্যটি আপনার কাছে কেমন লাগলো? রাশিয়ার এই ‘ডেড হ্যান্ড’ কি সত্যিই পশ্চিমা বিশ্বের দম্ভ চূর্ণ করে দেবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
