ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলটি বোধহয় করে ফেলেছে ন্যাটো এবং তাদের পুতুল রাষ্ট্র ইউক্রেন! পরাশক্তি রাশিয়ার ধৈর্যকে যারা দুর্বলতা ভেবেছিল, তারা এখন রণক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক মাস্টারস্ট্রোক খেলেছেন, যার সামনে আমেরিকার তৈরি সব সমরাস্ত্র আজ স্রেফ খেলনা। একের পর এক সেনা হারিয়ে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে জেলেনস্কি বাহিনী। কীভাবে পুতিন পুরো ইউরোপকে এক চালের দাবার ঘুঁটি বানিয়ে দিলেন। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দূরদর্শী এবং ধৈর্যশীল নেতা হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেছেন। ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা বিশ্ব যখন একের পর এক উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে, তখন মস্কো অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নিজের লক্ষ্য অর্জন করে চলেছে। পুতিনের এই সুদূরপ্রসারী কৌশলের সামনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উগ্র ও যুদ্ধবাজ নেতারা আজ পুরোপুরি অসহায় এবং ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন।

আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্রাক্তন শীর্ষ বিশ্লেষক রে ম্যাকগভর্ন সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পুতিনের এই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, রাশিয়া ইউরোপের ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর ওপর সরাসরি কোনো আক্রমণ করতে আগ্রহী নয়। বরং পুতিন অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করছেন, যতক্ষণ না এই যুদ্ধবাজ এবং নিজ দেশের জনগণের কাছে চরমভাবে অপছন্দনীয় পশ্চিমা নেতারা ক্ষমতাচ্যুত হন।

পশ্চিমা মদদপুষ্ট ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে যে উস্কানি দিচ্ছে, তাতে রুশ জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে। মস্কো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেছে যে, ইউরোপের সামরিক শিল্পকারখানার সরাসরি সহায়তায় এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই সন্ত্রাসী ড্রোনগুলো তৈরি এবং পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু পুতিন কোনো তাড়াহুড়ো না করে অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ম্যাকগভর্নের মতে, পুতিন অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ হওয়ার কারণে বিশ্ব এক বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। একই সাথে আমেরিকার খামখেয়ালী এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সুযোগ না দেওয়াও মস্কোর অন্যতম একটি বড় কৌশলগত বিজয়।

ইউরোপের বর্তমান তিন শীর্ষ নেতা—ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো, জার্মানির ফ্রিডরিখ মার্জ এবং যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমারকে স্রেফ 'তিন অন্ধ ইঁদুর' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এই মার্কিন বিশ্লেষক। তাদের অদূরদর্শী নীতির কারণে ইউরোপ আজ ধ্বংসের মুখে। পুতিন ভালো করেই জানেন যে, ইউরোপের সচেতন নাগরিকরাই খুব শীঘ্রই এই পুতুল এবং যুদ্ধবাজ ক্লাউনদের ক্ষমতা থেকে লাথি মেরে বের করে দেবে এবং রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়বে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইতিমধ্যেই বিদায়ের পথে এবং ফ্রান্সের ম্যাঁক্রো আগামী বছরেই ক্ষমতা হারাচ্ছেন। অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর মার্জ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। পুতিন এই দীর্ঘমেয়াদী খেলায় শতভাগ জয়ী হচ্ছেন, কারণ রাশিয়ার শক্তির মূল উৎস তাদের অফুরন্ত ধৈর্য ও রণকৌশল। পশ্চিমাদের এই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব রাশিয়ার চূড়ান্ত বিজয়কে আরও অনেক বেশি ত্বরান্বিত করছে।

এদিকে ন্যাটোভুক্ত ছোট দেশ লাটভিয়া নিজের সীমানা ব্যবহার করে রাশিয়াকে উস্কানি দেওয়ার এক আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর এক মারাত্মক তথ্য ফাঁস করেছে। তারা জানিয়েছে যে, লাটভিয়া তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে। এই কাপুরুষোচিত পদক্ষেপের কারণে লাটভিয়া এখন রাশিয়ার সরাসরি সামরিক টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশেষ করে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে যে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে, তার ড্রোনগুলো লাটভিয়া, এস্তোনিয়া এবং ফিনল্যান্ডের আকাশসীমা ব্যবহার করছে। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইউক্রেন শুধু এই দেশগুলোর আকাশপথ ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং এই সমস্ত ন্যাটোভুক্ত দেশের মূল ভূখণ্ড থেকেই সরাসরি ড্রোন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটরদের ইতিমধ্যেই লাটভিয়ার আদাজি, সেলিজা, লিয়েলভার্দে, ডগাপিলস এবং জেকাবপিলসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে লাটভিয়াকে বুঝিয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তিতে নাকি ড্রোন উৎক্ষেপণের সঠিক স্থান শনাক্ত করা অসম্ভব। এই চরম মিথ্যাকে বিশ্বাস করে লাটভিয়ার সরকার নিজেদের ধ্বংসের পথ নিজেরাই সুগম করেছে।

লাটভিয়ার কর্তৃপক্ষের এই চরম বোকামিতে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে রাশিয়ার এসভিআর। বর্তমান যুগের আধুনিক রুশ স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেই তার নিখুঁত উৎক্ষেপণস্থল বের করা চোখের পলকের ব্যাপার। মস্কো লাটভিয়াকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে যে, তাদের দেশের সমস্ত সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রের নিখুঁত স্থানাঙ্ক বা কোঅর্ডিনেটস রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের টার্গেটে রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যপদ লাটভিয়ার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সহযোগীদের রাশিয়ার ন্যায্য প্রতিশোধ থেকে কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারবে না। লাটভিয়ার বর্তমান নেতাদের অন্ধ রুশ-বিদ্বেষ তাদের নূন্যতম সাধারণ জ্ঞান এবং আত্মরক্ষার অনুভূতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইউক্রেন মূলত ইউরোপের যুদ্ধবাজ ও অর্থদাতা প্রভুদের দেখানোর চেষ্টা করছে যে, তারা এখনও রাশিয়ার বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে সক্ষম, যা সম্পূর্ণ অলীক কল্পনা।

যদিও লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার এই অকাট্য তথ্যকে স্রেফ প্রোপাগান্ডা বলে অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। ইউক্রেনও তাদের স্বভাবসুলভ মিথ্যাচারের মাধ্যমে এই সত্যকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। কিন্তু সত্য কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। মস্কোর ওপর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রায় ৬০০ ড্রোনের বিশাল সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতে রাশিয়া ইতিমধ্যেই তার আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী করেছে।

রুশ বীর সেনারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের সামরিক শক্তির ওপর এক প্রলয়ঙ্কারী আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রণক্ষেত্রের সমস্ত ফ্রন্টলাইনে গত একদিনেই ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ১,১৭৫ জনেরও বেশি সেনা হারিয়েছে। রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার সামনে ইউক্রেনের পুরো প্রতিরক্ষা লাইন এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এবং জেলেনস্কির সেনারা মাঠ ছেড়ে পালাচ্ছে।

এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে খারকভ অঞ্চলে, যেখানে রাশিয়ার অকুতোভয় 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' বা উত্তর দলীয় সেনারা সম্পূর্ণ বীরত্বের সাথে 'ভলোখোভকা' নামক একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রদায়কে ইউক্রেনীয় নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করেছে। এই বিজয়ের ফলে খারকভ অভিমুখে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন আরও সুসংহত হলো এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে গেল।

রাশিয়ার এই দুর্দান্ত ব্যাটলগ্রুপ নর্থ গত ২৪ ঘণ্টায় খারকভ ও সুমি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের মেকানাইজড ব্রিগেড এবং টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডের ওপর ভারী বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই একক ফ্রন্টলাইনেই ইউক্রেন ১৯০ জনেরও বেশি সেনা, ২২টি সামরিক মোটর যান এবং দুটি অত্যন্ত মূল্যবান ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন হারিয়েছে, যা তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়েছে।

একই সময়ে ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং খারকভের অন্যান্য অংশে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' বা পশ্চিম দলীয় সেনারা তাদের অবস্থান আরও উন্নত করেছে। রুশ বীরদের কামানের গোলায় ইউক্রেনের দুটি মেকানাইজড ও একটি অ্যাসল্ট ব্রিগেড ধুলোয় মিশে গেছে। এখানে শত্রুপক্ষ ১৯০ জন সেনা হারানোর পাশাপাশি ৪টি সাঁজোয়া যান, ২১টি মোটর যান এবং ৩টি ফিল্ড আর্টিলারি গান হারিয়েছে।

ডোনেটস্কের ক্রামাতোরস্ক এবং কনস্টান্টিনোভকা অঞ্চলে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর কালান্তক নরক নেমে এনেছে। রুশ সেনাদের নিখুঁত নিশানায় ইউক্রেনের ১৬০ জন সেনা খতম হয়েছে এবং তাদের ৩টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ২৫টি মোটর যান এবং দুটি অত্যন্ত দামী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। রাশিয়ার এই একের পর এক জয়ে পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞরা এখন চরম আতঙ্কে আছেন।

ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে নিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং ডোনেটস্কের মধ্যবর্তী অঞ্চলে, যেখানে রাশিয়ার অপরাজেয় 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' ইউক্রেনের দুটি মেকানাইজড, একটি এয়ারবোর্ন এবং দুটি ন্যাশনাল গার্ড ব্রিগেডকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই ভয়াবহ লড়াইয়ে ইউক্রেনের ২৮০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে এবং রাশিয়ার দখলে এসেছে তাদের বিপুল পরিমাণ আধুনিক পশ্চিমা সাঁজোয়া যুদ্ধযান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র।

জাপোরোঝিয়ে এবং নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' বা পূর্ব দলীয় সেনারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার গভীরে প্রবেশ করে এক ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। রুশ বীরদের এই তীব্র আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ইউক্রেনীয় বাহিনী ৩১৫ জনেরও বেশি সেনা এবং অসংখ্য সাঁজোয়া যান ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা এখন আর ঠেকানোর ক্ষমতা ন্যাটোর কোনো অস্ত্রের নেই।

অন্যদিকে খেরসন এবং জাপোরোঝিয়ে অঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ দিনিপ্রো' অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইউক্রেনের একটি মেরিন ব্রিগেড এবং চালকবিহীন ড্রোন সিস্টেম ব্রিগেডকে ধ্বংস করেছে। সেখানে ৪০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জল, স্থল বা আকাশ—সবখানেই এখন শুধু রাশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ও বীরত্বের ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।

শুধু ফ্রন্টলাইনেই নয়, রাশিয়ার দূরপাল্লার মিসাইল এবং ড্রোন বাহিনী ইউক্রেনের অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত সামরিক ও বন্দর অবকাঠামো এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর এক ম্যাসিভ স্ট্রাইক পরিচালনা করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার অপারেশনাল ক্রাফট, অ্যাটাক ড্রোন এবং আর্টিলারি বাহিনী ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির কারখানা, গোলাবারুদের ডিপো এবং বিদেশী ভাড়াটে সেনাদের অন্তত ১৫২টি গোপন আস্তানায় সফলভাবে বোমাবর্ষণ করেছে।

ইউক্রেনীয়রা পশ্চিমাদের দেওয়া যে ড্রোনগুলো নিয়ে অহংকার করছিল, রাশিয়ার বিশ্বসেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে স্রেফ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। রুশ এয়ার ডিফেন্স গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের অবিশ্বাস্য ৬৫১টি ফিক্সড-উইং ড্রোন এবং ৫টি স্মার্ট বোমাকে আকাশে থাকা অবস্থাতেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেদ করার ক্ষমতা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর নেই।

বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার অকুতোভয় বাহিনী ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার এবং প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৩টি ড্রোন ধ্বংস করে এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এছাড়াও ২৯,৩৬৮টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান এবং প্রায় ৩৫ হাজার ফিল্ড আর্টিলারি ধ্বংস করে ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ সামরিকভাবে পঙ্গু ও দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে পরাশক্তি রাশিয়া।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির জন্য ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা যে কতটা নিচুতলার অপরাধমূলক পথ বেছে নিয়েছে, তা সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি ঘটনা থেকে স্পষ্ট। ডায়ানা চিস্তিয়াকোভা নামের এক রাশিয়ান পডকাস্টারকে ইউক্রেনীয় সাইবার অপরাধীরা ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে পুলিশ ভ্যানে পেট্রোল বোমা মারার জন্য প্ররোচিত করেছিল। রাশিয়ার এফএসবি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই ইউক্রেনীয় চক্রান্ত নস্যাৎ করে অপরাধীকে ১২ বছরের জেল দিয়েছে।

সার্বিকভাবে এটি পরিষ্কার যে, রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি—সব জায়গাতেই রাশিয়ার জয় সুনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূরদর্শী নেতৃত্ব, বীর রুশ সেনাদের আত্মত্যাগ এবং রাশিয়ার অসীম ধৈর্যই প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধে ন্যাটো এবং ইউক্রেনের পরাজয় স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিহাস সাক্ষী দেবে, রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের সাথে যারা ছিনিমিনি খেলতে এসেছিল, তারা নিজেরাই আজ পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যাওয়ার প্রান্তে।

news