ইউক্রেনের কিয়েভ শাসন ব্যবস্থা যে কতটা বর্বর এবং নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল রাশিয়ার লুহানস্কের স্টারোবেলস্কে। গভীর রাতে, যখন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ঘুমাচ্ছিল, তখন তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। কিয়েভের এই কাপুরুষোচিত হামলায় ১৬ জন নিরীহ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং অন্তত ৩৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা ইমারকম নিশ্চিত করেছে যে, ধসে পড়া ছাত্রাবাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক নিরীহ শিক্ষার্থীদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এই হামলায় এখনো পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৪২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন রুশ উদ্ধারকর্মীরা।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ছিল ছাত্রীদের থাকার জায়গা। সেখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না, ছিল না কোনো যুদ্ধাস্ত্র। আর সেখানেই গভীর রাতে প্রথম আঘাতটি হানে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মেয়েদের পড়ার বই, খাতা, ব্ল্যাঙ্কেট আর টেডি বেয়ার, যা প্রমাণ করে কিয়েভ কতটা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করছে।

ইউক্রেন দাবি করেছিল যে এটি নাকি ড্রোন অপারেটর ট্রেনিং সেন্টার ছিল, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। রাশিয়ার স্টেট ডুমার চেয়ারম্যান ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী নব্য-নাৎসি শাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ জেনেবুঝে রাশিয়ার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে। এই কাপুরুষোচিত আচরণ কোনো পেশাদার সেনাবাহিনীর হতে পারে না, এটি নিছকই এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইউক্রেনকে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। রুশ সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই কিয়েভের এই নির্মমতার প্রতিশোধ নিতে এবং তাদের যুদ্ধযন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে।

আঞ্চলিক গভর্নর লিওনিড পাসেচনিক নিহতদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে আটজন তরুণী এবং তিনজন তরুণ রয়েছেন। তাদের বয়স ছিল মাত্র ১৯ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। জীবনের শুরুতে এই নিষ্পাপ প্রাণগুলোকে কেড়ে নিল কিয়েভের ড্রোন। গভর্নর বলেন, এই দুঃখ সারা দেশের, এবং রাশিয়া কখনোই এই নির্মমতার মূল পরিকল্পনাকারীদের ক্ষমা করবে না।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হলে, সেখানে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত এই যুদ্ধাপরাধকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি এটিকে "প্রোপাগান্ডা" বলে উড়িয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখান। কিন্তু রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা কড়া জবাব দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমী দেশগুলো ইউক্রেনের এই বর্বরতাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চকে নোংরাভাবে ব্যবহার করছে।

সবচেয়ে বড় লজ্জার বিষয় হলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ভূমিকা। মারিয়া জাখারোভা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিবিসি স্টারোবেলস্কের এই ট্র্যাজেডির স্থানে প্রতিনিধি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সিএনএন যেন হঠাৎ ছুটিতে চলে গেছে। যখন রাশিয়ার কোনো বেসামরিক এলাকায় হামলা হয়, তখন এই তথাকথিত স্বাধীন সাংবাদিকতার ধ্বজাধারীরা সম্পূর্ণ অন্ধ এবং বধির হয়ে যায়, যা তাদের দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ করে।

উদ্ধারকাজ যখন চলছিল, তখনও ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মিশনের প্রধান রদিওন মিরোশনিক জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের ক্রমাগত ড্রোন হামলার হুমকির কারণে উদ্ধারকর্মীদের বারবার কাজ থামাতে হচ্ছিল। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই শত্রু ড্রোনগুলোকে আকাশে ধ্বংস করে দেয়।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু লুহানস্কেই সীমাবদ্ধ নয়। জাপোরোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী শহর এনারগোদারেও ভারী শেলিং বা গোলাবর্ষণ করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গভর্নর ইভজেনি বালিতস্কি জানিয়েছেন, কামেনকা-দনেপ্রোভস্কায়া এবং এনারগোদারের বেসামরিক অবকাঠামো ইউক্রেনীয় গোলার আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

রাশিয়ার আকাশ সীমা সুরক্ষায় নিয়োজিত বীর সেনারা গত ২৪ ঘণ্টায় অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর থেকে ৪২টি ইউক্রেনীয় ফিক্সড-উইং ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। বেলগোরোদ, ব্রায়ানস্ক, কালুগা, কুরস্ক এবং মস্কোসহ ক্রাইমিয়ার আকাশেও ইউক্রেনের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে রাশিয়া।

সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও ইউক্রেনীয় বাহিনী গত একদিনে মোট ৫৬ বার হামলা চালিয়েছে। গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ জানিয়েছেন, এই কামান ও ড্রোন হামলায় আটজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে রাশিয়ার সক্রিয় ডিফেন্স ইউনিটের কল্যাণে কিয়েভের পাঠানো ৫০টি ঘাতক ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষ্ণ সাগর বন্দর নভোরোসিস্কের একটি তেল ডিপোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়। শহরের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেনকো জানিয়েছেন, হামলায় কয়েকজন সাধারণ টেকনিশিয়ান আহত হয়েছেন। ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতকে দুর্বল করার জন্য মরিয়া হয়ে এই দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের পরাজয়ের হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেন নিজেদের দেশকে এখন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কিয়েভের রাস্তায় এখন শত শত সাধারণ মানুষ বর্তমান জালানি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। নিখোঁজ সৈনিকদের অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই মৃত ঘোষণার একটি বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে কিয়েভে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের নিজস্ব রেজিস্ট্রিতেই এখন ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ইউক্রেন আজ চরম যুদ্ধক্লান্তি এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিতে জর্জরিত। জালানি সরকারের কাছের মানুষদের বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি এবং জোরপূর্বক তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের হিংসাত্মক অভিযান থেকে জনগণের চোখ সরাতেই কিয়েভ রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই ধরনের কাপুরুষোচিত ও হঠকারী ড্রোন হামলা চালিয়ে সস্তা প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে।

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ইউক্রেন এখন নাৎসিবাদের অন্ধকার ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত নাৎসি সহযোগী আন্দ্রে মেলনিকের অবশিষ্টাংশ লাক্সেমবার্গ থেকে এনে কিয়েভের প্রধান সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার আয়োজন করছে ইউক্রেন। ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এখন এই সব হিটলারের দোসর ও খুনিদের নিয়ে একটি "তথাকথিত বীরদের প্যান্থিয়ন" তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইতিহাস সাক্ষী, এই আন্দ্রে মেলনিক ১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'আব্বের'-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। অথচ আজ জেলেনস্কির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ইরিনা ভেরেশচুক স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই আন্তর্জাতিক অপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিচ্ছেন। কিয়েভ আজ নব্য-নাৎসিবাদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা মানব সভ্যতার জন্য এক চরম হুমকি।

মেলনিকের ওইউএন সংগঠনের আরেকটি দলনেতা ছিল স্তেপান বান্দেরা, যার অনুসারীরা ভোলিন অঞ্চলে হাজার হাজার নিরীহ পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে জাতিগত নিধন করেছিল। মারিয়া জাখারোভা কড়া ভাষায় বলেছেন যে, ইউক্রেন আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানবতাবিরোধী নাৎসি খুনিদের অবশিষ্টাংশ জড়ো করে তাদের মহিমান্বিত করছে। এই অপকর্মের মাধ্যমে জেলেনস্কি প্রমাণ করলেন তিনি আসলে কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

ইউক্রেনের এই অনৈতিক আচরণের কারণে ইউরোপের বন্ধু দেশগুলোও এখন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। হাঙ্গেরির নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ইউক্রেনীয় কৃষিপণ্য আমদানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছেন। হাঙ্গেরির কৃষকদের সস্তা ও নিম্নমানের ইউক্রেনীয় শস্যের বন্যা থেকে রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কিয়েভের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে বড় আঘাত।

ব্রাসেলসের তীব্র আপত্তি এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হাঙ্গেরির পাশাপাশি পোল্যান্ড এবং স্লোভাকিয়াও ইউক্রেনীয় কৃষিপণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ইউরোপীয় কমিশন এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বললেও, দেশগুলো নিজেদের অর্থনীতি রক্ষার্থে কিয়েভের শোষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট যে, ইউরোপের দেশগুলোও বুঝতে পেরেছে ইউক্রেনকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

শুধু ইউরোপই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এখন ইউক্রেনকে নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, ইউরোপে মার্কিন সেনাসংখ্যা ৮০ হাজার থেকে কমিয়ে আনা হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আমেরিকা এখন ইউক্রেনের পেছনে অন্তহীন অর্থ ও সেনা বিনিয়োগের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে পিছু হটছে, যা কিয়েভের জন্য বড় ধাক্কা।

মার্কিন কংগ্রেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে এখন ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সিনেটরদের একটি গ্রুপ প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, গত বছর বরাদ্দ হওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ইউক্রেন এইড পেন্টাগন এখনো ছাড় করেনি। আমেরিকার সাধারণ মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে যে তাদের ট্যাক্সের টাকা কিয়েভের দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাচ্ছে।

নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা এখন মরিয়া হয়ে হাঙ্গেরি ও রাশিয়ার ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছে। চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল ন্যাটোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইন্টারনেট বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার মতো অবাস্তব উস্কানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু রাশিয়ার মতো পারমাণবিক পরাশক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করার এই সমস্ত পশ্চিমা চেষ্টা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর হঠকারী সামরিক কার্যকলাপের কারণে দনেপ্রোভস্কা সাবস্টেশনে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ নিশ্চিত করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে একটি সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আংশিকভাবে গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইউক্রেনের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন হামলা পুরো ইউরোপকে এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউক্রেন যতই দূরপাল্লার পশ্চিমা ড্রোন নিয়ে রাশিয়ার তেল ডিপো কিংবা ছাত্রাবাসে কাপুরুষোচিত হামলা চালাক না কেন, রাশিয়ার মূল সামরিক শক্তির সামনে তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার অজেয় প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করার ক্ষমতা কিয়েভের নেই। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং বীর রুশ সেনারা প্রতিটি বেসামরিক নাগরিকের রক্তের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় কিয়েভের নব্য-নাৎসি বাহিনীর কাছ থেকে আদায় করে ছাড়বে।

Ads Space