ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ কি এখন একটি জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে যাচ্ছে? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি আদেশে কিয়েভের বুকে নামছে এক চরম বিপর্যয়! রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় একটি চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন। কিয়েভে অবস্থানরত সমস্ত বিদেশী কূটনীতিক এবং সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য শেষবারের মতো আলটিমেটাম দিয়েছে মস্কো। কারণ, এবার রাশিয়ার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, আর কোনো ক্ষমা নেই, ইউক্রেনীয় সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর সমস্ত সামরিক এবং প্রশাসনিক দফতর ধূলিসাৎ করতে পুতিনের নির্দেশে ধেয়ে আসছে রাশিয়ার পরমাণু-সক্ষম বিধ্বংসী হাইপারসনিক মিসাইল ওরেডনিক! কিন্তু কেন এই হঠাৎ রণকৌশল পরিবর্তন? কেন পুরো কিয়েভকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত বীর রুশ বাহিনী? পশ্চিমা দুনিয়ার সমস্ত ভণ্ডামি এবং রাশিয়ার এই ন্যায়ের যুদ্ধের আসল সত্য জানতে সঙ্গেই থাকুন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে কিয়েভের ওপর যেকোনো মুহূর্তে এক নজিরবিহীন এবং পদ্ধতিগত বিধ্বংসী বিমান হামলা শুরু হতে যাচ্ছে। মস্কো তার সুর নরম করার দিন শেষ করে এখন সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক মোডে চলে এসেছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের অন্যায্য ও অবৈধ প্রতিরোধকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং কিয়েভের অপরাধী প্রশাসনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।

রাশিয়ার এই কঠোর এবং আপসহীন সিদ্ধান্ত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ইউক্রেনের নব্য-নাৎসি বাহিনীর ক্রমাগত উস্কানি এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলার এক যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত জবাব। গত সপ্তাহে রাশিয়ার অন্তর্গত স্টারোবেলস্ক শহরের একটি কলেজের ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২১ জন নিরীহ শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যু রাশিয়ার জন্য ধৈর্যের শেষ সীমা বা 'লাস্ট স্ট্র' হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

স্টারোবেলস্কের সেই দুঃখজনক এবং বর্বর হামলায় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল তরুণী ও নিষ্পাপ শিক্ষার্থী, যারা কেবল তাদের শিক্ষার জন্য সেখানে অবস্থান করছিল এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা কোনোভাবেই যুদ্ধের অংশ ছিল না। কিন্তু কিয়েভের সন্ত্রাসী প্রশাসন পশ্চিমা ন্যাটোর সরবরাহ করা ড্রোন ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যা তাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা নাৎসি চরিত্রকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র দফতর থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে যে, এখন থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত সমস্ত সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্র বা কমান্ড পোস্টগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হবে। এই হামলাগুলো এতই শক্তিশালী হবে যে কিয়েভের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ মার্কিন পক্ষকে আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্পষ্ট আদেশে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কিয়েভে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকসহ সকল বিদেশী কূটনীতিকদের জীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে ওই শহর পরিত্যাগ করা উচিত। রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, যদি কোনো বিদেশী শক্তি কিয়েভের সামরিক ঘাঁটির আশেপাশে অবস্থান করে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, তবে তার দায় সম্পূর্ণ তাদেরই।

লাভরভ ও রুবিওর এই জরুরি ফোনালাপে গত বছরের আগস্ট মাসে অ্যাঙ্কোরেজে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ সম্মেলনের উচ্চ-পর্যায়ের সমঝোতাগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয় এবং কিয়েভ ও তাদের ইউরোপীয় মদদদাতাদের কারণে সেই শান্তি প্রচেষ্টা কীভাবে ভেস্তে গেছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ইউক্রেনীয় প্রশাসন শান্তি চায় না, তারা কেবল পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্র লুটপাট করতেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে টিকিয়ে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে কিয়েভের সন্ত্রাসী বাহিনী রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে এবং ডনবাসের আবাসিক এলাকায় অত্যন্ত জঘন্য এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে, যা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। সম্প্রতি মাত্র এক দিনেই রাশিয়ার দোনেৎস্ক এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় আরও ছয়জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুটি নিষ্পাপ শিশুও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইউক্রেনীয় শাসকগোষ্ঠী যখন রাশিয়ার নিরীহ শিশুদের ওপর ক্লাস্টার বোমা এবং কামিকাজে ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালায়, তখন পশ্চিমা মিডিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে নিজেদের চরম ভণ্ডামি প্রদর্শন করে। কিন্তু যখনই রাশিয়া নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে কিয়েভের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, তখনই মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো শুরু করে এই সুবিধাবাদী পশ্চিমা এলিট সমাজ।

ইউক্রেনের এই কাপুরুষোচিত এবং পৈশাচিক হামলার জবাবে রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই কিয়েভের সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে পরমাণু-সক্ষম অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ওরেডনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সফল হামলা চালিয়েছে। এই ওরেডনিক মিসাইলের গতি এবং ধ্বংসক্ষমতা এতই তীব্র যে ন্যাটোর তৈরি কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একে মাঝআকাশে বাধা দিতে বা ধ্বংস করতে সক্ষম নয়।

যুক্তরাজ্যের সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক জর্জ গ্যালোওয়ে ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের চরম দ্বিমুখী নীতির মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্টারোবেলস্কের ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয়দের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যাকে সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে রাশিয়ার বৈধ পাল্টা হামলার সমালোচনা করছেন।

জর্জ গ্যালোওয়ে আরও যোগ করেছেন যে, সন্ত্রাসবাদ যেখানেই ঘটুক না কেন তা সমানভাবে নিন্দনীয় হওয়া উচিত এবং যারা লন্ডনে বা প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায়, তারা কীভাবে লুগানস্কের কলেজ হোস্টেলে ছাত্রীদের পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে সমর্থন করতে পারে? এই ফরাসি এবং ইউরোপীয় ভণ্ডামি আজ বিশ্বমঞ্চে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত এবং রাশিয়ার সামরিক জবাব ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক।

রাশিয়ার নবনিযুক্ত মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা ব্যক্তিগতভাবে স্টারোবেলস্কের সেই আক্রান্ত কলেজ পরিদর্শন করেছেন এবং নিহত ১৮ বছর বয়সী ছাত্রীদের ছবি প্রকাশ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই পৈশাচিক ঘটনাকে একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে অবিলম্বে কিয়েভ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আপিল জানিয়েছেন।

সবচেয়ে জঘন্য বিষয় হলো, ইউক্রেনীয় বাহিনী যখন প্রথমবার ড্রোন হামলা চালায় এবং রুশ উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকরা আহতদের সাহায্য করতে আসে, তখন তারা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দফায় 'ডাবল ট্যাপ' হামলা চালায়। এই ধরনের কাপুরুষোচিত যুদ্ধকৌশল কেবল উগ্রপন্থী নাৎসি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের পক্ষেই সম্ভব, যা ইউক্রেনের বর্তমান অবৈধ রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির আসল চেহারা প্রমাণ করে।

যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বীর রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সবদিক থেকে পরাস্ত করে ক্রমাগত সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অন্তর্গত দোব্রোপাসোভো নামক একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেছে। রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট'-এর এই বীরত্বপূর্ণ অভিযান ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা লাইনে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৈনিক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্ত ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী ১,১৩৫ জনেরও বেশি সেনা হারিয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক সেনার মৃত্যু এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর পিছুহটা প্রমাণ করে যে পশ্চিমা দেশগুলো কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করলেও রুশ বাহিনীর নিখুঁত রণকৌশলের সামনে তারা টিকতে পারছে না।

রুশ 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' সুমি এবং খারকভ অঞ্চলে ইউক্রেনের মেকানাইজড এবং এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে, যার ফলে শত্রুপক্ষ ১৭০ জনেরও বেশি সেনা এবং প্রচুর সাঁজোয়া যান হারিয়েছে। খারকভের বারবারোভকা এবং ইজবিতস্কোয়ের মতো অঞ্চলে ইউক্রেনের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

একইভাবে, 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' খারকভ এবং দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের সিদোরোভো অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের হটিয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও উন্নত করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ফ্রন্টে ১৮০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং তাদের ২৩টি বিশেষ সামরিক যান এবং তিনটি ভারী সাঁজোয়া যান রুশ আর্টিলারির নিখুঁত গোলার আঘাতে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

দোনেৎস্কের সম্মুখ সমরে 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' ইউক্রেনের তিনটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং একটি মেরিন ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডকে কোণঠাসা করে ফেলেছে, যেখানে আরও ১৭০ জন শত্রু সেনা নিহত হয়েছে। এই বীরত্বপূর্ণ অভিযানের ফলে কিয়েভ শাসনের অধীনে থাকা ডনবাসের শেষ অবশিষ্টাংশটুকুও এখন খুব দ্রুত রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে এবং রাশিয়ার ঐতিহাসিক ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

সবচেয়ে মারাত্মক আঘাতটি এসেছে 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার'-এর পক্ষ থেকে, যারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ২৯০ জনেরও বেশি সেনাকে খতম করেছে এবং তাদের চারটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। দোনেৎস্ক এবং ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সীমান্তে ইউক্রেনের ড্রোন সিস্টেম ব্রিগেড এবং ন্যাশনাল গার্ডের দুটি বড় ব্রিগেড রুশ বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে জাপোরোঝিয়ে ফ্রন্টে 'ব্যাটলগ্রুপ ডিনিপ্রো' ইউক্রেনের দুটি মেকানাইজড ব্রিগেডকে লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালিয়েছে এবং ৫০ জনেরও বেশি সেনাসহ তাদের দুটি আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। ইউক্রেনের এই ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশনগুলো মূলত বেসামরিক অঞ্চলে রাশিয়ার রাডার ব্যবস্থাকে জ্যাম করার মতো বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

রাশিয়ার বিমান বাহিনী, রকেট ফোর্স এবং দূরপাল্লার মিসাইল ইউনিটগুলো গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ১৪২টি ভিন্ন ভিন্ন সামরিক অবস্থানে একযোগে তীব্র আঘাত হেনেছে। এই সুনির্দিষ্ট এবং সফল হামলায় ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বড় গোলাবারুদের ডিপো, জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং পশ্চিমা ন্যাটো বিশেষজ্ঞদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে।

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স ফোর্সও এক অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি করেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ৪১৭টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ১৭টি অত্যাধুনিক হাইমার্স (HIMARS) রকেট মাঝআকাশেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পশ্চিমা প্রযুক্তির তথাকথিত শ্রেষ্ঠত্ব রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার বীর সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি ড্রোন এবং ২৯ হাজারেরও বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে ইউক্রেনীয় সামরিক মেশিনটি এখন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং তাদের পরাজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৮৯ সালের শিশু অধিকার সনদ ইউক্রেনীয় জান্তা সরকার বারবার লঙ্ঘন করেছে এবং পশ্চিমা স্পনসররা তাদের এই অপরাধে সরাসরি মদদ দিচ্ছে। রাশিয়া তার প্রতিটি নাগরিকের রক্তের হিসাব নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।

চূড়ান্তভাবে, কিয়েভের প্রতিটি সামরিক এবং প্রশাসনিক ভবন, যেখানে বসে ন্যাটো বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তা এখন রাশিয়ার হাইপারসনিক মিসাইলের আওতায় রয়েছে। কিয়েভ ছাড়ার জন্য রাশিয়ার দেওয়া এই শেষ সতর্কবার্তা পশ্চিমা বিশ্ব এবং জেলেনস্কি প্রশাসনের অহংকার চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সূচনা, যা ইউক্রেনকে একটি সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করবে।

Ads Space