ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
Logo
logo

আদালতের নির্দেশে তালা খুলতেই চমক: শেখ হাসিনার ব্যাংক লকারে ধরা পড়লো ৮৩২ ভরি সোনার গয়না! 


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১১ পিএম

আদালতের নির্দেশে তালা খুলতেই চমক: শেখ হাসিনার ব্যাংক লকারে ধরা পড়লো ৮৩২ ভরি সোনার গয়না! 

অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাংক লকার। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে চমক দেওয়া তথ্য। অগ্রণী ব্যাংকের তাঁর দুটি লকার থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৮৩২ ভরি সোনার গয়না!

মঙ্গলবার আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লকার দুটি খোলা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লকার খোলার এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

রাজধানীর দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় শেখ হাসিনার এই দুটি লকার ছিল। সম্পদ গোপন করে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসেই এনবিআরের গোয়েন্দা শাখা লকার দুটি জব্দ করে।

এনবিআরের সিআইসির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনেই লকার দুটি খুলেছি। ভেতরে আমরা ৮৩২ ভরি সোনার গয়না পেয়েছি। এখন শেখ হাসিনার আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত সম্পদের তালিকার সঙ্গে এই গয়নার মিল আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।"

মজার বিষয় হলো, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর, পূবালী ব্যাংকের আরেকটি লকার জব্দ করে এনবিআর। সেটিও শেখ হাসিনার। রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারটি ছিল সেটি।

একই শাখায় শেখ হাসিনার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়। সেই অ্যাকাউন্ট দুটির একটিতে ছিল ১২ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত) এবং অন্যটিতে ছিল ৪৪ লাখ টাকা নগদ।

বর্তমানে এনবিআর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে। অন্যদিকে, দুদক তদন্ত করছে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির সাথে জড়িত কিনা। ইতিমধ্যেই, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং তাদের সাথে জড়িত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে আদালত তাঁর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট এক বিশাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনই সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যান। এর পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির তদন্ত চালাচ্ছে।