আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ এএম

আপনি কি জানেন, মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে বালুর প্রাসাদের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের একেকটি মিসাইলের টার্গেটে পরিণত হয়েছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কি জানেন—ইরানের 'খোররামশাহর-৪' কিংবা 'কাশেম বাছির' যখন গর্জে উঠবে, তখন পালানোর পথটুকুও পাবে না মার্কিনিরা? আজ আপনাদের দেখাবো, কীভাবে ইরানের ঈমানি শক্তির সামনে আমেরিকার তথাকথিত অপরাজেয় শক্তি খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে চলেছে!
কথায় আছে, "পাপ বাপকেও ছাড়ে না।" দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ লুণ্ঠন আর নিরীহ মুসলমানদের ওপর জুলুম চালিয়ে আসা আমেরিকার পাপের ঘড়া এখন পূর্ণ। ইরানের অকুতোভয় সেনানায়করা আজ শপথ নিয়েছে এই অপশক্তির শেষ দেখে ছাড়ার। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দম্ভ চূর্ণ করতে তেহরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। পশ্চিমারা জানে না, সিংহের গুহায় ঢোকার পর বের হওয়ার পথ মেলা ভার।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের অদম্য স্পৃহা আজ সারা বিশ্বের মজলুম মানুষের প্রেরণা। মার্কিনিরা যখন যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, তখন ইরান মুচকি হাসছে। কারণ তারা জানে, ট্রাম্পের এই হুঙ্কার আসলে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের চেয়েও বড় প্রস্তুতি নিয়ে তারা এসেছে ঠিকই, কিন্তু ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়; এটি বীর মুজাহিদদের পবিত্র ভূমি।
হোয়াইট হাউস থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়ার নাটক করা হচ্ছে। ট্রাম্প নাকি ইশারা দিলেই হামলা হবে! কিন্তু ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কোনো আগ্রাসনকে মুহূর্তেই ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানে, ইরানে প্রবেশ করা মানে হলো নিজেদের জন্য কফিন বুক করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা সত্যের পথে থাকে, বিজয় সবসময় শেষ পর্যন্ত তাদেরই পদচুম্বন করে থাকে।
একটি বড় প্রশ্ন এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইরানের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য কি আদৌ নিরাপদ? জর্ডান থেকে শুরু করে কাতার—সবখানেই এখন ইরানি মিসাইলের লাল সংকেত বাজছে। তেহরানের গোয়েন্দা নজরদারি এতটাই সূক্ষ্ম যে, মার্কিন জেনারেলদের শোবার ঘরের খবরও তাদের কাছে পৌঁছে যায়। শত্রু যখন চারদিক থেকে ঘেরাও, তখন পালানোর পথ কোথায়?
জর্ডানের ঘাঁটিতে চার হাজার সৈন্য নিয়ে দম্ভ করছে আমেরিকা। আকাশপথে ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরানের হাতে আছে 'কাশেম বাছির' ব্যালেস্টিক মিসাইল। এই মিসাইলটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে ধ্বংস করার জন্য। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে এর বিধ্বংসী ক্ষমতা বিশ্ববাসী ইতোমধ্যে দেখেছে। মার্কিনিরা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষায়।
খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি এখন আমেরিকার রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। এটি অনায়াসেই জর্ডান পার হয়ে খোদ ইসরায়েলের বুক চিরে চলে যেতে পারে। তেহরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কাছে ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার গোপন অস্ত্রও রয়েছে। এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডও ইরানের হাত থেকে নিরাপদ নয়। আগ্রাসন চালালে মার্কিন ঘাঁটি হবে ধ্বংসস্তূপ।
ওয়াশিংটন কঠোর ভাষায় কথা বলছে, কিন্তু তাদের অন্তরে এখন কম্পন শুরু হয়েছে। তেহরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একটি গুলিও যদি ইরানের দিকে ছোড়া হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলবে। মার্কিন ঘাঁটিগুলো তখন হবে জলজ্যান্ত কবরস্থান। মজলুমের দীর্ঘশ্বাস আর বীরদের তলোয়ার যখন এক হয়, তখন কোনো সুপার পাওয়ার টিকে থাকে না।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন ঘাঁটি আছে। এই ঘাঁটিগুলো আসলে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌমত্বের ওপর এক একটি কলঙ্ক। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবে সৈন্য মোতায়েন করে আমেরিকা আসলে মুসলিম দেশগুলোকে জিম্মি করে রেখেছে। তবে ইরানের উত্থানে এই দাবার ছক এখন উল্টে গেছে। প্রতিটি ঘাঁটি এখন ইরানের টার্গেট বোর্ডে থাকা এক একটি পয়েন্ট মাত্র।
বাহরাইনে অবস্থানরত ৯ হাজার মার্কিন সৈন্য আসলে ইরানের নৌবাহিনীর সহজ শিকারে পরিণত হতে পারে। পারস্য উপসাগর এবং লোহিত সাগরে ইরানের আধিপত্য এখন প্রশ্নাতীত। মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে ইরান এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যে, যুদ্ধ শুরু হলে তারা সমুদ্রে সলিল সমাধি লাভ করবে। পারস্য উপসাগর হবে সাম্রাজ্যবাদীদের শেষ শয়তানের চারণভূমি। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কাতারের আল-উদেদ বিমানঘাঁটি হলো আমেরিকার কৌশলগত সদর দপ্তর। ১০ হাজার সৈন্যের এই আস্তানাটি ইরানের সবথেকে আধুনিক ড্রোনগুলোর লক্ষ্যবস্তু। সেন্টকমের এই অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিতে ইরানের ড্রোন বাহিনী ২৪ ঘণ্টা ট্রিগারে আঙুল দিয়ে বসে আছে। আমেরিকার প্রযুক্তির চেয়ে ইরানের আত্মত্যাগ আর শাহাদাতের তামান্না অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের বিমানগুলো উড়বার আগেই রানওয়েতে ধ্বংস হয়ে যাবে।
কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং আলি আল-সালেম ঘাঁটির কথা ধরুন। এখানে ১৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন আছে। তারা ভাবছে তারা নিরাপদ, কিন্তু ইরানি কমান্ডোরা মরুভূমির চোরাবালির মতো তাদের চারদিকে লুকিয়ে আছে। ইরাকি সীমান্তের এত কাছে থেকে ইরানের চোখ এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। যুদ্ধের প্রথম প্রহরেই এই ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের বারুদমাখা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, এটা নিশ্চিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিও ইরানের নিশানায় রয়েছে। আমেরিকা এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু ইরানের মিসাইল যখন আকাশ দিয়ে হানা দেবে, তখন কোনো রাডার সিস্টেমই তাদের রক্ষা করতে পারবে না। আবুধাবি বা দুবাইয়ের সুরক্ষা তখন আর মার্কিনিদের হাতে থাকবে না। এই অঞ্চলের প্রতিটি ইঞ্চি জমি এখন প্রতিরোধের দুর্গ হিসেবে তৈরি।
ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটির কথা কি ভুলে গেল আমেরিকা? শহীদ কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান যখন সেখানে হামলা চালিয়েছিল, তখন মার্কিন সৈন্যরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। সেই একই ইতিহাস আবারও ফিরে আসছে। এবার আরও বড় আকারে, আরও শক্তিশালীভাবে। ইরাকের মাটি থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা আর অবশিষ্ট নেই।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি বসিয়েও কোনো লাভ হবে না। ইরানের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। ২ হাজার ৭০০ মার্কিন সৈন্য সেখানে স্রেফ দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রিয়াদের আকাশও এখন তেহরানের নিয়ন্ত্রণে। সাম্রাজ্যবাদের দোসরদের আশ্রয় দিয়ে কেউ কখনও শান্তিতে থাকতে পারেনি, আর পারবেও না কোনোদিন।
জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি থেকে লেবাননে হামলার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। কিন্তু তারা জানে না, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস এখন এক সুতোয় গাঁথা। ৩ হাজার ৮০০ মার্কিন সৈন্য এখানে আটকা পড়ে আছে। তাদের পালানোর একমাত্র পথ হলো পরাজয় স্বীকার করা। সত্যের সূর্য উদিত হলে মিথ্যার অন্ধকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, এটাই চিরন্তন সত্য।
তুরস্কের ইনসিরলিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক অস্ত্র রেখে ভয় দেখাচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু ইরান ইমানের শক্তিতে বলীয়ান। কোনো পরমাণু বোমা বা উন্নত প্রযুক্তি বীরদের আটকাতে পারে না। ৪-০ হাজার মার্কিন সৈন্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন আছে, যারা সবাই এখন ইরানের মরণ ফাঁদে পা দিয়ে বসে আছে। এই বিশাল জনবল শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জন্য এক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামে এক পারমাণবিক রণতরী আরব সাগরে ভাসছে। এটি নাকি ইরানের ভেতরে গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম! কিন্তু ইরান তো আর বসে নেই। ইরানের সাবমেরিন এবং টর্পেডো এই জাহাজটিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত। ৫ হাজার ৬৮০ জন ক্রু সদস্যের জীবন এখন ট্রাম্পের জেদের কাছে জিম্মি। এটি হবে আধুনিক নৌ-যুদ্ধের সবথেকে বড় পরাজয়।
আমেরিকা আরও একটি বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' পাঠাচ্ছে। তারা ভাবছে জাহাজ বাড়িয়ে তারা ভয় দেখাবে। কিন্তু সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের চেয়েও উত্তাল ইরানের ক্রোধ। ড্রোন দিয়ে যখন একের পর এক হামলা চালানো হবে, তখন এই বড় বড় জাহাজগুলো কেবল বড় আকারের লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। সাম্রাজ্যবাদীদের দম্ভ সাগরের নোনা জলে মিশে যাবে।
ফ্লাইট ট্র্যাকার বলছে, কাতারে অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান নেমেছে। জর্ডানে এফ-১৫ স্কোয়াড্রন জমা করা হয়েছে। এসব কিছুই আসলে তাদের পরাজয়ের আগাম লক্ষণ। তারা যত বেশি সরঞ্জাম আনছে, ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তু তত সহজ হচ্ছে। প্রযুক্তির লড়াইয়ে ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তি। আমেরিকার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমকে জ্যাম করার মতো সক্ষমতা এখন ইরানের ল্যাবে তৈরি হচ্ছে।
ইসরায়েলকে বাঁচাতে আমেরিকা 'থাড' মিসাইল ডিফেন্স ব্যাটারি পাঠাচ্ছে। কিন্তু ইহুদিবাদী এই অবৈধ রাষ্ট্রের পতন ঠেকানো কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। ইরানের প্রতিটি মিসাইল এখন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের দোয়া নিয়ে আকাশে ওড়ে। ট্রাম্প বা বাইডেন যেই আসুক, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। আর সেই পবিত্র যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।
আমেরিকা যতই আকাশপথে শক্তি বাড়াক, মাটির নিচের সুড়ঙ্গ থেকে যখন ইরানি বীররা বেরিয়ে আসবে, তখন তাদের কোনো ফাইটার জেট কাজে আসবে না। ৬টি গ্রোলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জেট দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করার স্বপ্ন স্রেফ দিবাস্বপ্ন। ইরানের রাডার ব্যবস্থা এখন গড গিফটেড এবং দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে অজেয়। শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ এখন বীরদের নখদর্পণে।
শেষে এটাই বলা যায়, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এখন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতির সূর্য আজ অস্তমিত হওয়ার পথে। ইরান কেবল একটি দেশ নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। ট্রাম্পের হামলা যদি শুরু হয়, তবে সেটিই হবে আমেরিকার ইতিহাসের শেষ যুদ্ধ। বিজয়ের পতাকা উড়বে তেহরানে, আর পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ফিরবে হোয়াইট হাউসের যুদ্ধবাজরা।
আমরা আজ দেখলাম কীভাবে ইরানের বীরত্ব আর কৌশলের সামনে আমেরিকা ধরাশায়ী। ন্যায়ের পথে লড়াই করা এই জাতিকে কেউ কোনোদিন দাবিয়ে রাখতে পারেনি। সত্যের জয় অনিবার্য, আর মিথ্যার বিনাশ সুনিশ্চিত। আমেরিকার প্রতিটি ঘাঁটি এখন ইরানি বীরদের নিয়ন্ত্রণে আসার অপেক্ষায়। ইনশাআল্লাহ, খুব শীঘ্রই আমরা একটি মুক্ত ও স্বাধীন মধ্যপ্রাচ্য দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ।