আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

একাই লড়ছিল ইরান, কিন্তু এবার দৃশ্যপট পাল্টে গেল! যে সৌদি আরবকে আমেরিকা নিজের ঘাঁটি মনে করত, সেই সৌদিই আজ আমেরিকার মুখে ঝামা ঘষে দিল। কেন সৌদি আরব নিজের মাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না? তবে কি পতন ঘনিয়ে আসছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার?
কথায় আছে, "দশচক্রে ভগবান ভূত"। দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যে নীল নকশা এঁকেছিল, তা আজ তাদের ওপরই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো সবসময় চেয়েছে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রেখে নিজেদের অস্ত্র ব্যবসা চাঙ্গা করতে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সত্য উন্মোচিত হচ্ছে এবং মুসলিম উম্মাহ আজ নিজেদের শক্তি ও একতা বুঝতে শিখছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের ভূমি, আকাশপথ বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর ইরান সৌদি আরবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন আর আমেরিকার দাবার ঘুঁটি হয়ে থাকতে রাজি নয়।
আসলে পুরো বিশ্বের অশান্তির মূল উৎস হলো আমেরিকা। তারা হলো পৃথিবীর এক নম্বর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। যেখানেই শান্তি আছে, সেখানেই তারা নাক গলিয়ে অশান্তি তৈরি করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ লাগিয়ে রাখা যাতে তাদের বিশাল অস্ত্র কারখানাগুলো সচল থাকে। তারা শান্তির কথা বলে আসলে বারুদ নিয়ে খেলা করছে এবং নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।
আমেরিকার আগ্রাসন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক দিনে আমরা দেখেছি তারা কিউবাতে হামলা করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ইরানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। এর আগে ভেনিজুয়েলাতে তারা তান্ডব চালিয়েছে। এমনকি লেবানন ও ইয়েমেনেও তাদের বোমাবর্ষণ থেমে নেই। এই রাষ্ট্রটি সারা পৃথিবীতে শুধু ধ্বংসযজ্ঞ আর হাহাকার ছড়িয়ে দিচ্ছে যা এখন সবার কাছে পরিষ্কার।
আমেরিকার লালসা এতটাই বেড়েছে যে তারা ডেনমার্কের সম্পদ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চেয়েছিল। তারা স্পেন, কলম্বিয়া এবং কানাডার মতো বন্ধুপ্রতীম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পর্যন্ত হুমকি দিচ্ছে। পুরো আফ্রিকাজুড়ে তারা কৃত্রিমভাবে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে রাখছে যেন সেখানে অস্ত্রের চাহিদা থাকে। রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে তারা আসলে নিরাপদ দূরত্বে বসে তামাশা দেখছে এবং ফায়দা লুটছে প্রতিনিয়ত।
আমেরিকা তার সবচাইতে ভয়ংকর অপারেশনগুলো চালায় সাইকোপ্যাথ ইসরায়েলকে দিয়ে। এই দুটি রাষ্ট্রের কারণে আজ পৃথিবীর কোনো দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। অনেক দেশের মানুষ রাতে ঘুমানোর সময় নিশ্চিত হতে পারে না যে আগামীকাল তারা জীবিত জেগে উঠবে কি না। কারণ যেকোনো মুহূর্তে আমেরিকার মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা বা ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে।
আমেরিকা চেয়েছিল ইরানকে একঘরে করে দিয়ে সারা বিশ্বকে তাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সৌদি আরব এবং স্পেনের মতো দেশগুলো তাদের ভূমি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমনকি তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য ও জার্মানি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে তারা এই যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ইরান আজ এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়ে পশ্চিমা শক্তির রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি জানিয়েছেন, তেহরান রিয়াদের এই প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল যে সংঘাত চাপিয়ে দিয়েছে, তাতে সৌদি আরবের অবস্থান প্রশংসনীয়। ইরান কখনোই এই অঞ্চলে যুদ্ধ চায় না, বরং তারা সবসময় শান্তির পক্ষে। কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা যে ছেড়ে কথা বলবে না, তা এখন প্রমাণিত।
যদিও সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রদূত তা সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যখন কোনো অপারেশন চালায়, তখন তারা সাহসের সাথে দায় স্বীকার করে। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া আমেরিকার স্বভাব, ইরানের নয়। আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে শহীদ করার মাধ্যমে যে আগুন জ্বালিয়েছে, তা এখন তাদের ঘরেই ফিরে যাচ্ছে।
শেষে এটাই বলা যায় যে, অন্ধকার কেটে আলোর সূর্য উদিত হচ্ছে। মুসলিম দেশগুলো যদি এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন অনিবার্য। আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই বর্বরতা আর কতদিন চলবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে সৌদির এই সিদ্ধান্ত একটি নতুন যুগের সূচনা করল। আমরা আশা করি পুরো বিশ্ব খুব শীঘ্রই এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রগুলোর হাত থেকে মুক্তি পাবে।