আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৩ এএম

কথায় আছে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না!’ আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যাকে এতদিন ‘বাপ’ ডেকে মাথায় তুলেছিল, আজ সেই আমেরিকা তাদের জন্য ‘পাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমান, কাতার, আমিরাত আজ কান্নাকাটি করছে যুদ্ধ থামানোর জন্য, কিন্তু ইরান বলছে—নাটক অনেক হয়েছে, এবার খেলা হবে মুখোমুখি! ট্রাম্প কি আসলেই আলোচনায় বসতে চান, নাকি পরাজয়ের ভয়ে পালানোর পথ খুঁজছেন? সত্যটা জানলে আপনিও চমকে উঠবেন!
আল জাজিরার তথ্য বলছে, ইরানের প্রায় ৮০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন, কিন্তু ইরান এক চুলও নড়তে রাজি নয়। তারা সমঝোতা চায় না, তারা চায় অধিকার। অথচ দেখুন, যারা যুদ্ধের উসকানি দিয়েছিল, সেই ওমান, কাতার আর আরব আমিরাত এখন ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য আকুতি জানাচ্ছে। তারা বুঝতে পেরেছে, ইরানকে দমানো অসম্ভব।
গত রাতেই দুবাইতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে ইরানের মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন প্রমাদ গুনছে। তারা বলছে, ইরান শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই নয়, বরং সিভিলিয়ান এরিয়াতেও আঘাত হানছে। তাদের বিশাল অংকের সম্পদ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। আসলে তারা এখন বুঝতে পারছে যে, এই তথাকথিত ‘পাগলা ট্রাম্প’ তাদের কোনো নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
যাদের এতদিন প্রভু মেনে আরব দেশগুলো নিজেদের মাটি ইজারা দিয়েছিল, সেই আমেরিকা আজ তাদের রক্ষা করতে পারছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আরবরা যাকে রক্ষাকর্তা ভেবেছিল, সে আসলে তাদের ধ্বংসের মূল কারণ। ট্রাম্প নিজেই কল্পনা করতে পারেননি যে ইরান এতো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। এখন ট্রাম্প বলছেন ইরান আলোচনায় আসতে চায়, কিন্তু ইরান স্রেফ না করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের এখনকার বক্তব্যগুলো অনেকটা পাগলের প্রলাপের মতো শোনাচ্ছে। তিনি দাবি করছেন ইরান দেরি করে ফেলেছে, অথচ বাস্তবতা হলো ইরানই তার সাথে বসতে রাজি নয়। ট্রাম্পের অতীত ইতিহাস বলে, তিনি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে অভ্যস্ত নন। তিনি অভ্যস্ত ছোট ছোট আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে অন্যায্য দাবি আদায় করতে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে তার সেই পুরনো ফর্মুলা আর কাজ করছে না।
গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা চালিয়ে ট্রাম্প ভেবেছিলেন তিনি বিজয়ী। কিন্তু ইরান এবার সেই সুযোগ দিচ্ছে না। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগে প্রতিরোধ হবে, তারপর চুক্তি। দুই-চারটা বোমা মেরে যুদ্ধের বিধ্বস্ত ছবি মিডিয়ায় দেখিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করার দিন শেষ। ইরান এখন আর ফিলিস্তিনিদের মতো অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করবে না, বরং তারা পাল্টা আঘাত করবে।
আমেরিকার দম্ভের প্রতীক F-15 আর বিলিয়ন ডলারের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আজ সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ব্যর্থ। এর ফলে মার্কিন অস্ত্র বাজারের শেয়ারে ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আস্থা নষ্ট হওয়ায় আমেরিকা এখন মারাত্মক আন্তর্জাতিক চাপে। শুধু তাই নয়, ইউরোপও এখন হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। স্পেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ট্রাম্প এখন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের হুমকি দিচ্ছেন।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপের অর্থনীতি যে ধাক্কা খাবে, তা আমেরিকাকে আরও কোণঠাসা করবে। এই চাপ সামলাতে ট্রাম্প হয়তো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব হারানো মানে বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভুত্বের রশি আলগা হয়ে যাওয়া। কিন্তু তেহরান প্রস্তুত তাদের সবটুকু শক্তি দিয়ে এই আধিপত্যবাদের শেকল ছিঁড়ে ফেলতে।
এখন সময় এসেছে আরব দেশগুলোর এটা বোঝার যে, বিলাসিতা আর আমেরিকার চামচামি করে টিকে থাকা যায়, কিন্তু মহান হওয়া যায় না। সৌদি আরব বা আমিরাত যা করেছে, ইরান তা করেনি। তারা মদ, নারী আর ভোগবিলাসে মত্ত না থেকে নিজেদের গড়ে তুলেছে জ্ঞান, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির শক্তিতে। আত্মমর্যাদার এক অভেদ্য দেয়াল তুলেছে তেহরান যা ভাঙা অসম্ভব।
শেষে বলা যায়, প্রভুত্ব টিকিয়ে রাখতে আমেরিকা হয়তো আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে, যারা নিজের ঘর খুঁড়ে প্রভুকে ঢুকতে দেয়, তারা শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হয়। ইরান আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে কীভাবে লড়াই করতে হয়। ট্রাম্পের নাটক আর আমেরিকার দম্ভ—দুই-ই এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এই বীর জাতির সামনে।