ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ভোটের মাঠে জামায়াতের ভরাডুবি নিয়ে আমির শফিকুরের মিথ্যাচার ফাঁস


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৩ এএম

ভোটের মাঠে জামায়াতের ভরাডুবি নিয়ে আমির শফিকুরের মিথ্যাচার ফাঁস

আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে—একথা কি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বিশ্বাস করবে? নাকি এটি স্রেফ পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার এক নির্লজ্জ অজুহাত? আজ আমরা উন্মোচন করবো জামায়াত আমিরের সেই স্ববিরোধী বক্তব্য এবং তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের আসল রূপ। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ জামায়াতের এই নতুন ষড়যন্ত্র আপনার চোখ খুলে দেবে!

কথায় আছে, "চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী"। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলামীও ঠিক তেমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও তারা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে। সম্প্রতি সিলেটে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যা বললেন, তা শুনে হাসবে না কাঁদবে তা সাধারণ মানুষ ভেবেই পাচ্ছে না। পরাজয় মেনে নেওয়ার সৎ সাহস তাদের নেই।

সিলেটের সেই অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, তারা নাকি হারেননি বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের বক্তব্য কেবল হাস্যকরই নয় বরং দেশের সচেতন ভোটারদের বুদ্ধিমত্তার প্রতি এক চরম অবমাননা। বছরের পর বছর ধরে গুপ্ত থাকা এই দলটি এখন হারের অজুহাত খুঁজছে। তারা আসলে বুঝতে পারছে না যে এদেশের মানুষ তাদের উগ্রবাদী রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে চিরতরে।

শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, জামায়াত নাকি এখন দেশের প্রধান বিরোধী দল। অথচ সংসদের ভেতরে বা বাইরে তাদের কোনো শক্তিশালী জনভিত্তি নেই। তারা নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পিত বিজয়ের গল্প সাজাচ্ছে। যে দলটি দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল ঐতিহাসিকভাবে, তারা কীভাবে নিজেদের প্রধান বিরোধী দল দাবি করে তা সত্যিই এক বিশাল বড় রহস্যময় প্রশ্ন।

১০ থেকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজয়কে তিনি বলছেন ইচ্ছাকৃত বা সাজানো। এটা স্পষ্ট যে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য আসলে নিজ দলের হতাশ কর্মীদের চাঙ্গা করার এক সস্তা চেষ্টা মাত্র। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট বলে দেয় যে, সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের জবাব দিয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্র নয় বরং জনগণের অনাস্থাই তাদের এই ভরাডুবির একমাত্র এবং প্রধান কারণ বলে মনে করে সুশীল সমাজ।

শফিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করছেন ঠিকই, কিন্তু এর পেছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। একসময় যারা পুলিশের ওপর হামলা চালাত, আজ তারা পুলিশের বন্ধু হওয়ার ভান করছে। এটি আসলে তাদের কৌশলগত গিরগিটির মতো রূপ পরিবর্তন। প্রশাসনকে নিজেদের পক্ষে টানার এই মরণপণ চেষ্টা আসলে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ লড়াই। তবে জনগণ জানে বাঘ কখনো ঘাস খায় না, জামায়াতও বদলায়নি।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শফিকুর রহমান যে হুঙ্কার দিচ্ছেন, তাতে অশনি সংকেত দেখছে দেশবাসী। তিনি বলছেন দেশের প্রতিটি জায়গায় তারা প্রার্থী দেবেন। এর মানে হলো তৃণমূল পর্যায়ে আবার অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করছে এই দলটি। ভালো মানুষের মুখোশ পরিয়ে তারা আসলে নিজেদের পুরনো ক্যাডারদের ক্ষমতায় বসাতে চায়। দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে তারা আসলে ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করতে চায় সবসময়।

শফিকুর রহমান বলছেন তারা নাকি দেশবাসীকে ভালো কিছু দেবেন। অথচ ইতিহাস সাক্ষী দেয় জামায়াত জাতিকে কেবল রক্তক্ষয় এবং অরাজকতা উপহার দিয়েছে। তাদের হাতে দেশপ্রেমের কথা শুনলে মনে হয় শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া। দেশপ্রেম আর জামায়াত যে দুটি বিপরীত মেরুর শব্দ, তা বাংলার প্রতিটি সচেতন মানুষ জানে। তাদের স্বচ্ছতার দাবিও এক বিশাল জোকস ছাড়া আর কিছুই নয় বর্তমানে।

জামায়াতের এই তথাকথিত ঐক্য আসলে বালুর বাঁধের মতো নড়বড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের সাথে ভিড়ে যায়। কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে উগ্র মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। শফিকুর রহমানের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে তারা পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি। বরং তারা আবার নতুন উদ্যমে মিথ্যাচার আর বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

জামায়াত আমির বলছেন মানুষ নাকি বিমানবন্দরে তাকে বলেছে তারা হতাশ। আসলে হতাশ শফিকুর রহমান নিজেই। কারণ তার নেতৃত্বে দলটির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। জনবিচ্ছিন্ন এই দলটি এখন কেবল কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে টিকে থাকতে চায়। কিন্তু বাংলার মাটিতে আর কোনো উগ্রবাদী শক্তির উত্থান হবে না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা জানে কার হাতে দেশের ভবিষ্যৎ আসলে নিরাপদ থাকবে।

শফিকুর রহমানের এই মিথ্যে আস্ফালন এবং বানোয়াট তথ্য দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে তারা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। অথচ তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কেমন নির্বাচন হয়েছিল তা সবার জানা। নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোই হলো জামায়াতের পুরোনো নীতি। এই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে তাদের বের হওয়ার কোনো পথ নেই আর।

শেষে বলা যায়, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এখন স্রেফ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের মতো নেতারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কতদিন কর্মীদের ধরে রাখবেন তা নিয়ে সংশয় আছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন আর শান্তি চায়, জামায়াতের সেই জ্বালাও-পোড়াও বা বিভ্রান্তিকর রাজনীতি নয়। সত্যের জয় হবেই এবং মিথ্যার বেসাতি করা জামায়াত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হবে খুব দ্রুতই।