আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

একটি প্রবাদ আছে— 'সবুরে মেওয়া ফলে, কিন্তু শহীদের রক্তে বিপ্লব জ্বলে।' আজ ইরানের আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে একটিই সংবাদ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই আর নেই। ইরানে ঘোষণা করা হয়েছে ৪০ দিনের শোক। কিন্তু এই শোক কি শুধু কান্নার? নাকি এটি ইসরায়েল আর আমেরিকার বিনাশের শুরু? প্রিয় নেতার বিদায়ে ইরান আজ কী শপথ নিচ্ছে? বিস্তারিত জানতে সাথেই থাকুন।
আজ সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য এক কালো দিন। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পথপ্রদর্শক, মজলুমের কণ্ঠস্বর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই শাহাদাত বরণ করেছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে ইরান সরকার পুরো দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তেহরানের প্রতিটি রাস্তায় আজ শুধু কান্নার রোল। কিন্তু এই কান্না পরাজয়ের নয়, এই কান্না হারানো এক বটবৃক্ষের জন্য শ্রদ্ধার।
"ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দোসররা আজ খুশিতে আত্মহারা। ট্রাম্প দাবি করছেন, খামেনেইকে হত্যার মাধ্যমে তারা নাকি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ ইতিহাস জানে, ট্রাম্পের হাত কত নিরীহ মানুষের রক্তে রাঙানো। যারা ফিলিস্তিনের শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বোমা বর্ষণে মদদ দেয়, তারা যখন ন্যায়ের কথা বলে, তখন পৃথিবীর বিবেকবান মানুষ ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্পের এই আস্ফালন তাঁর নিজের পতনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।"
"রয়টার্সের তথ্যমতে, ইসরায়েলি ঘাতকরা দাবি করছে যে তারা খামেনেইর দেহের ছবি ও ভিডিও পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে। মোসাদ নাকি ইরানের ভেতরে এমনভাবে প্রবেশ করেছে যে তারা প্রতিটি সেকেন্ডের খবর রাখছিল। এই কাপুরুষোচিত হামলা প্রমাণ করে যে, সম্মুখ যুদ্ধে ইরানকে হারানোর ক্ষমতা ইসরায়েলের নেই। তাই তারা রাতের অন্ধকারে চোরের মতো হামলা চালায়। কিন্তু তারা জানে না, একজন খামেনেইর রক্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুজাহিদ জন্ম নেয়।"
"ইরানে আজ ৪০ দিনের শোক চলছে। কিন্তু এই ৪০ দিন হবে প্রতিরোধের শপথ নেওয়ার দিন। আইআরজিসি এবং ইরানের প্রতিটি নাগরিক আজ প্রিয় নেতার রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিচ্ছে—এই জুলুমের বদলা নেওয়া হবেই। ট্রাম্প ভাবছেন ইরানিরা আত্মসমর্পণ করবে, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন পারস্যের বীররা মরে যেতে জানে, কিন্তু মাথা নত করতে জানে না। খামেনেইর শূন্যতা ইরানকে আরও বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করবে।"
"আমেরিকা চাচ্ছে ইরানের সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে ফাটল ধরাতে। তারা অনাক্রম্যতার লোভ দেখাচ্ছে। কিন্তু ইরানের দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা কি এতটা সস্তা? খামেনেইর আদর্শে যারা বড় হয়েছে, তারা কি জালেমের দেওয়া টোপ গিলবে? কখনোই না। আমেরিকার এই নোংরা কূটনীতি ব্যর্থ হতে বাধ্য। খামেনেই কোনো একক ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি আদর্শ, একটি চেতনা যা কখনো মরে না।"
"ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে উল্লাস করছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই হাসি খুব দ্রুতই কান্নায় পরিণত হবে। কারণ ইরান তার নেতার রক্তের বদলা নিতে জানে। খামেনেই সারাজীবন যে স্বপ্ন দেখেছেন—পবিত্র আল-আকসার মুক্তি—সেই পথ আজ আরও প্রশস্ত হলো। শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। এই ৪০ দিনের শোক শেষে যে আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হবে, তাতে জায়নবাদী ইসরায়েল ছাই হয়ে যাবে।"
"আজ শুধু ইরান নয়, সারা বিশ্বের প্রতিটি মুমিন মুসলমানের ঘরে শোকের মাতম চলা উচিত। কারণ আমরা আমাদের একজন অভিভাবককে হারিয়েছি। খামেনেই সবসময় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা বলতেন। আজ তাঁর বিদায়ে আমাদের কাজ হবে বিভেদ ভুলে এক হওয়া। আমেরিকা আর ইসরায়েল আমাদের শত্রু, তারা ইসলামের শত্রু। এই সত্যটি আজ খামেনেইর শাহাদাতের মাধ্যমে আবারও পরিষ্কার হয়ে গেল।
"হে পরওয়ারদেগার, আপনি প্রিয় নেতা খামেনেইকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। এই ৪০ দিনের শোককে আপনি শক্তিতে রূপান্তর করার তৌফিক দিন। ইরানের বীর সন্তানদের হাতকে আরও শক্তিশালী করুন যাতে তারা জালেমদের দর্প চূর্ণ করতে পারে। বীর কখনো মরে না, তিনি বেঁচে থাকেন মানুষের মিছিলে। খামেনেই অমর হয়ে থাকবেন আমাদের বিপ্লবে।