আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, কিন্তু শত্রুর ঘরে আগুন লাগলে পালানোর পথ থাকে না। ইরানের ওপর কি তবে নেমে এলো সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত? আমেরিকা আর ইসরায়েল কি সত্যিই পারবে ইরানের সিংহদের খাঁচায় বন্দি করতে? আজকের ভিডিওতে আমরা দেখাবো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সেই নোংরা নীলনকশা।
কথায় আছে, "অতি দর্পে লঙ্কা দাহ।" আজকের বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকা আর ইসরায়েল যেন সেই দর্পেই অন্ধ হয়ে গেছে। গত শনিবার সকালে ইরানের ওপর তারা যে নগ্ন হামলা চালিয়েছে, তা কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর কুঠারাঘাত। তারা মনে করেছে তেহরানের আকাশে বোমা বর্ষণ করলেই ইরানের তেজ কমে যাবে, কিন্তু তারা জানে না আগ্নেয়গিরি শান্ত থাকলেও তার ভেতরে আগুন সবসময় জ্বলতে থাকে।
এই হামলার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ৮৭ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে পাশ্চাত্য শক্তির চোখের বালি হয়ে আছেন। আমেরিকা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় কারণ তিনি তাদের অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেন না। শোনা যাচ্ছে, খামেনেইকে সুরক্ষিত রাখতে তেহরানের এক গোপন বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার সাথে আছেন তার সুযোগ্য উত্তরসূরি মুজতবা খামেনেই, যাকে নিয়ে ইসরায়েলের ভয় সবচেয়ে বেশি।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের হিটলিস্টের দ্বিতীয় নামটি হলো আলী লারিজানি। তিনি খামেনেইর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ইরানের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যার হাত দিয়ে আসে। আমেরিকা তাকে সরাতে চায় কারণ তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক শক্তিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। তার সাথে আছেন আলী শামখানি, যিনি ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। এই দেশপ্রেমিক নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে তারা ইরানকে নেতৃত্বশূন্য করার যে দিবাস্বপ্ন দেখছে, তা কোনোদিনই সফল হতে দিবে না ইরানি জনগণ।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এখন শত্রুদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে। ১ লক্ষ ৯০ হাজার দুর্ধর্ষ যোদ্ধার এই বাহিনী ইরানের প্রধান রক্ষাকবচ। ইসরায়েল মনে করছে এই বাহিনীর ওপর হামলা চালালে ইরানের মনোবল ভেঙে যাবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বিপ্লবী গার্ডের একজন শহীদ হলে হাজারো যোদ্ধা তৈরি হয় যারা সাম্রাজ্যবাদীদের কবর রচনা করতে প্রস্তুত।
বিপ্লবী গার্ডের পাশাপাশি ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী বা ‘আর্টেশ’ এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। গোলাম আলী রশিদ এবং আমির হাতামির মতো অভিজ্ঞ সেনানায়করা খামেনেইর নির্দেশে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। আবদোররহিম মৌসাভি, যিনি একাধারে সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের সমন্বয় করছেন, তিনিও রয়েছেন শত্রুর টার্গেটে। এই বীর সেনানিরা প্রমাণ করেছেন যে, বাইরের কোনো শক্তি এসে ইরানের মাটিকে অপবিত্র করতে পারবে না, তারা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন এখন বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে টার্গেট করছে। বাসিজ হলো ইরানের সাধারণ মানুষের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী যারা দেশের বিপদে সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিমারা তাকে নিয়ে ভয় পায় কারণ তার নেতৃত্বে লেবানন, ইয়েমেন এবং সিরিয়াতে প্রতিরোধের এক বিশাল দেয়াল তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল মনে করছে সোলাইমানিকে সরালে তাদের পথ পরিষ্কার হবে, কিন্তু তারা জানে না বাসিজের প্রতিটি সদস্যই একেকজন জীবন্ত অগ্নিপিণ্ড।
শেষে আলোচনায় আসে কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানির নাম। ইরাক ও সিরিয়া থেকে শিয়া মিলিশিয়াদের একত্রিত করে তিনি যে শক্তি গড়ে তুলেছেন, তা ইসরায়েলের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে আজ যে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তা আসলে পশ্চিমাদের পরাজয়ের আগাম সংকেত। ইরান আজ একা নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের বিবেকবান মানুষ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ইনশাআল্লাহ, সত্যের জয় হবেই এবং অন্যায়ের পরাজয় নিশ্চিত হবে খুব শীঘ্রই।