ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইসরায়েল আমেরিকার দম্ভ চূর্ণ করতে ইরানের পাশে কিম জং উন


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

ইসরায়েল আমেরিকার দম্ভ চূর্ণ করতে ইরানের পাশে কিম জং উন

অধর্মের জয় সাময়িক হলেও ন্যায়ের সংগ্রাম চিরকাল অম্লান থাকে। ভেবেছিল ইরানকে একা পেয়ে ধ্বংস করে দেবে? কিন্তু হিসেব উল্টে গেল! যখনই আমেরিকা আর ইসরায়েল ইরানের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালালো, তখনই বাঘের মতো গর্জে উঠলেন কিম জং উন। ওয়াশিংটন আর তেল আবিব এখন আতঙ্কে কাঁপছে। কারণ, ইরান আর উত্তর কোরিয়ার এই বন্ধুত্ব এখন সাম্রাজ্যবাদীদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে প্রস্তুত। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

শনিবারের সেই কালো দিনটি বিশ্ববাসী কোনোদিন ভুলবে না। যখন তথাকথিত শান্তির রক্ষক আমেরিকা আর ইসরায়েল নগ্নভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানলো। তারা ভেবেছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শহীদ করে দিলেই ইরান শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা জানে না, বীরের রক্তে নতুন বিপ্লবের জন্ম হয়। এই কঠিন সময়ে ইরানের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার মহান নেতা কিম জং উন এই নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা আর ইসরায়েল যে কাজ করেছে তা কোনো যুদ্ধ নয়, বরং এটি সরাসরি একটি অবৈধ আগ্রাসন। কিম জং উন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের এই গ্যাংস্টার সদৃশ আচরণ আর সহ্য করা হবে না। তারা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে আজ চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে সারা বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হলেও, মানুষের চোখের পানি এখন বারুদের মতো জ্বলছে। উত্তর কোরিয়া মনে করে, এই হামলা শুধু ইরানের ওপর নয়, বরং সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী এবং শান্তিকামী মানুষের ওপর একটি সুপরিকল্পিত নগ্ন আঘাত।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই পরমাণু কর্মসূচির অজুহাতে স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া বলছে, আমেরিকার এই কৌশল এখন পুরনো হয়ে গেছে। তারা আসলে সারা বিশ্বে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। ওয়াশিংটন আর তেল আবিব যে রক্তক্ষয়ী খেলা শুরু করেছে, তার ফলাফল তাদের জন্য শুভ হবে না। কিম জং উনের হুঁশিয়ারি শুনে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষও আজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলো বুঝতে পারছে যে আমেরিকা শুধু বিভেদ সৃষ্টি করতে জানে। ইসরায়েল নামক বিষবৃক্ষটিকে টিকিয়ে রাখতে তারা মধ্যপ্রাচ্যকে নরক বানাতে চায়। কিন্তু ইরান আর উত্তর কোরিয়ার এই জোট এখন পশ্চিমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদীদের পতনের দিন এখন অনেক বেশি নিকটে চলে এসেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইরানের সরকার এই হামলার পর সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই ছুটি বিশ্রামের জন্য নয়, বরং পরবর্তী কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের এই বিপদে সামরিক ও নৈতিকভাবে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। কিম জং উন বিশ্বাস করেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে আমেরিকার তথাকথিত অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে খুব দ্রুত।

ইসরায়েল যে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছে। তারা মনে করে আকাশপথে হামলা চালিয়ে একটি মহান জাতিকে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু ইরান হচ্ছে বীরদের দেশ, যেখানে একজন নেতা গেলে হাজারো নেতা তৈরি হয়। পিয়ংইয়ংয়ের মুখপাত্র কড়া ভাষায় বলেছেন, ইরান একা নয়, আমেরিকার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিটি দেশ এখন তেহরানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। যেখানে একদিকে আছে আমেরিকা ও ইসরায়েলের মতো দখলদার শক্তি, আর অন্যদিকে আছে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো সাহসী দেশগুলো। কিম জং উনের এই সরাসরি সমর্থন প্রমাণ করে যে, আমেরিকার দিন ফুরিয়ে আসছে। ইরানের ওপর এই আঘাত আসলে তাদের নিজেদের ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কখন সেই মোক্ষম জবাবটি আসে।

শেষে বলা যায়, সত্যের জয় অনিবার্য। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু পাশে থাকায় ইরানের মনোবল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমেরিকা ও ইসরায়েল যে আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে, সেই আগুনেই একদিন তাদের সাম্রাজ্য ছাই হয়ে যাবে। সারা বিশ্বের মানুষ এখন ইরানের সাহসী প্রতিরোধের দিকে তাকিয়ে আছে পরম শ্রদ্ধাভরে।