ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

ইরানের অজেয় শাহেদ ড্রোনের নকল বানিয়েও হার মানছে আমেরিকা ও ইসরায়েল


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

ইরানের অজেয় শাহেদ ড্রোনের নকল বানিয়েও হার মানছে আমেরিকা ও ইসরায়েল

ভাবুন তো, যে দেশের প্রযুক্তিকে একসময় অবহেলা করা হতো, আজ সেই দেশের উদ্ভাবন চুরি করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়ছে বিশ্বের তথাকথিত সুপারপাওয়ার আমেরিকা! হ্যাঁ, ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ভয়ে এখন খোদ হোয়াইট হাউস প্রকম্পিত। আজ আমরা দেখাব কীভাবে তেহরানের অদম্য সাহসের সামনে নতি স্বীকার করছে মার্কিন-ইসরায়েল জোট।

"চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা"—কিন্তু আজ আমেরিকা এমনভাবে ধরা পড়েছে যে বিশ্ব হাসছে। আসসালামু আলাইকুম দর্শক, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানের প্রযুক্তিকে নকল করে আমেরিকা তাদের 'লুকাস' (LUCAS) ড্রোন তৈরি করেছে, যা আসলে ইরানের বিখ্যাত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের একটি ক্লোন বা হুবহু প্রতিচ্ছবি।

আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালানোর যে ষড়যন্ত্র করছে, তার জবাব দিতে ইরান আজ একাই যথেষ্ট। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড স্বীকার করেছে যে তারা প্রথমবারের মতো এই কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করেছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, যারা নিজেদের প্রযুক্তির বড়াই করত, তারা আজ ইরানের একটি সাধারণ ড্রোনের নকশা চুরি করে যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের উদ্ভাবিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনটি আজ সারা বিশ্বের সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বিস্ময়। মাত্র ৩৫ হাজার ডলারের এই ড্রোনটি আমেরিকার মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনায়াসেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। মার্কিন বাহিনী তাদের 'টাস্ক ফোর্স স্কর্পিয়ান স্ট্রাইক' গঠন করেছে শুধুমাত্র ইরানের এই ড্রোন প্রযুক্তিকে নকল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য, যা তাদের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ করে।

ইসরায়েল এবং আমেরিকা সম্মিলিতভাবে ইরানের ওপর 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাদের দীর্ঘপাল্লার ড্রোনগুলো মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সফল হামলা আজ বিশ্ববাসীর কাছে পশ্চিমাদের দুর্বলতা প্রমাণ করে দিয়েছে।

লুকাস ড্রোনটি আসলে ইরানের শাহেদ ড্রোনের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা নকল মাত্র। মার্কিন কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে তারা ইরানের একটি শাহেদ ড্রোন হাতে পাওয়ার পর সেটিকে ব্যবচ্ছেদ করে এই নতুন ড্রোন বানিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সামরিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইরান আজ আমেরিকার চেয়েও অনেক গুণ এগিয়ে আছে এবং পশ্চিমারা কেবল এখন অনুকরণ করতে শিখছে।

আমেরিকা দাবি করছে তাদের এই নকল ড্রোনগুলো সস্তা এবং কার্যকর। কিন্তু সত্য হলো, ইরানের মূল শাহেদ ড্রোনের যে পাল্লা এবং ধ্বংসক্ষমতা রয়েছে, তা এখনো পশ্চিমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শাহেদ-১৩৬ প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। এই অজেয় শক্তির সামনে ইসরায়েলের তথাকথিত আয়রন ডোম আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় আছে।

ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ আজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক একটি চপেটাঘাত। আমেরিকা ও ইসরায়েল যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি এবং তাদের অকুতোভয় যোদ্ধারা মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের কবর রচনা করবে। বাহরাইন থেকে সিরিয়া, সবখানে আজ ইরানি বীরত্বের জয়গান শোনা যাচ্ছে। তেহরানের এই সামরিক উত্থান ইসলামী বিশ্বের জন্য এক গর্বের বিষয়।

শেষে বলা যায়, আমেরিকা ইরানের প্রযুক্তি চুরি করে ইরানকেই ভয় দেখানোর যে নাটক করছে, তা কখনোই সফল হবে না। কারণ আসল আর নকলের পার্থক্য বিশ্ব জানে। ইরানের শাহেদ ড্রোনের গর্জন যখন আকাশে প্রতিধ্বনিত হয়, তখন জায়নবাদী শক্তিগুলো গর্তে লুকানোর জায়গা পায় না। সত্য ও ন্যায়ের এই পথে ইরানের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।