ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

পুতিনের ব্রহ্মাস্ত্র হাতে ইরানি সিংহের হুঙ্কার ইসরায়েল ও আমেরিকার পতন কি আসন্ন


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

পুতিনের ব্রহ্মাস্ত্র হাতে ইরানি সিংহের হুঙ্কার ইসরায়েল ও আমেরিকার পতন কি আসন্ন

"বন্ধুর বিপদে বন্ধু আসবে না তো কে আসবে? যখন পশ্চিমারা একজোট হয়ে ইরানকে ধ্বংস করতে চাইছে, ঠিক তখনই রাশিয়ার জাদুকরী অস্ত্র নিয়ে ময়দানে নেমেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। আমেরিকার কয়েক সপ্তাহের অহংকার কি তবে ধুলোয় মিশে যাবে? আজ জানাবো কীভাবে পুতিনের 'ব্রহ্মাস্ত্র' হাতে নিয়ে ইজরায়েল আর আমেরিকাকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ আজকের তথ্য আপনার রক্ত গরম করে দেবে!"

কথায় আছে, "বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো"। আমেরিকা আর ইসরায়েল ভেবেছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সরিয়ে দিলেই কেল্লাফতে, কিন্তু তারা জানে না যে সিংহের থাবায় কত বিষ। আজ তেহরানের আকাশে যে ক্ষেপণাস্ত্রের মেলা দেখছেন, তা কেবল ট্রেলার মাত্র। রাশিয়ার বন্ধুত্বের হাত ধরে ইরান এখন যে রণমূর্তি ধারণ করেছে, তাতে হোয়াইট হাউসের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন কয়েক সপ্তাহেই ইরান দখল করবেন, কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তো ভয়ে কাঁপছেন, তাই বলছেন যুদ্ধ হবে দীর্ঘস্থায়ী। আসলে তারা বুঝতে পেরেছে, ইরানের ৩০০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেবল সংখ্যা নয়, এগুলো একেকটি সাক্ষাৎ আজরাইল। ফাত্তাহ-১ এর মতো হাইপারসনিক মিসাইল যখন ইসরায়েলের দিকে ছুটবে, তখন পালানোর পথও খুঁজে পাবে না জায়নবাদীরা।

ইরানের ড্রোন শক্তি আজ সারা বিশ্বের বিষ্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে থাকা ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো যেভাবে পশ্চিমাদের দম্ভ চূর্ণ করেছে, এবার সেই একই ড্রোন আমেরিকার ঘাঁটিতে আগুন জ্বালাবে। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন যখন আকাশ ছেয়ে ফেলবে, তখন আয়রন ডোমও ফেল মারবে। তেহরানের এই ড্রোন প্রযুক্তি এখন পশ্চিমের উন্নত সমরাস্ত্রের জন্য এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকা। শোনা যাচ্ছে, ইরানকে রক্ষায় পুতিন তার সবচেয়ে শক্তিশালী 'ব্রহ্মাস্ত্র' অর্থাৎ এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স এবং এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছেন। যদি ইসকান্দার ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের হাতে পৌঁছায়, তবে ইজরায়েলের একটি ইটও আস্ত থাকবে না। রাশিয়ার এই নিঃস্বার্থ সমর্থন ইরানকে এখন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করেছে, যা পশ্চিমাদের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন।

শুধু তাই নয়, ইরান চাইলে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ধসিয়ে দিতে পারে। হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে, যেখান দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। যদি তেহরান তাদের ফাতেহ ও গাদির ডুবোজাহাজ নিয়ে এই পথ বন্ধ করে দেয়, তবে আমেরিকার ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হবে। এই কৌশলগত শক্তিই ইরানকে এই অসম যুদ্ধে অনেক বেশি এগিয়ে রাখছে শত্রুদের তুলনায়।

ইরানের ওপর আঘাত মানেই কিন্তু একা ইরানের ওপর নয়। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি আর ফিলিস্তিনের হামাস—সবাই এখন এক জোট। ইজরায়েলকে এখন চারদিক থেকে ঘেরাও করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্রন্টে যখন হামলা শুরু হবে, তখন মার্কিন সাহায্য নিয়েও তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। এটি কেবল যুদ্ধ নয়, এটি সাম্রাজ্যবাদীদের পতনের এক মহাকাব্যিক শুরু হতে যাচ্ছে খুব দ্রুতই।

খামেনেইর শাহাদাতের পর গঠিত নতুন নেতৃত্ব আরও বেশি কঠোর। তারা এখন আপসের পথে নয়, বরং 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে লড়াই করার শপথ নিয়েছে। মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মোহসেনি এজেয়ি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইসলামের এই পবিত্র ভূমি থেকে পশ্চিমাদের বিদায় না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে। পুতিন আর ইরানের এই অজেয় বন্ধনই বিশ্বের মানচিত্রে নতুন এক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে আসবে।

শেষে বলা যায়, আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই অন্যায় আগ্রাসন তাদের নিজেদেরই কবর খুঁড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে এবং ইরানের নেতৃত্বে এক নতুন ভোরের সূচনা হচ্ছে। অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং ঈমানি শক্তি আর রাশিয়ার মতো প্রকৃত বন্ধুর সহযোগিতায় ইরান আজ অজেয়। ইতিহাসের পাতায় খুব শীঘ্রই লেখা হবে কীভাবে একদল সিংহ সাম্রাজ্যবাদী হায়েনাদের পরাজিত করেছিল এই যুদ্ধে।