আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

"যাদের রক্তে ভেজে তেহরানের মাটি, তারা মরেও অমর! আমেরিকা আর ইসরায়েল ভেবেছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে শহীদ করে তারা ইরানকে থামিয়ে দেবে? ভুল, মারাত্মক ভুল! সিআইএ আর মোসাদের হিটলিস্টে থাকা ১০ জন ইরানি সিংহ এখন জেগে উঠেছে। শুরু হয়েছে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’-এর পাল্টা জবাব। ইহুদিবাদের পতন কি তবে আসন্ন? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন!"
বাংলার একটি প্রবাদ আছে— "বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।" আমেরিকা আর ইসরায়েল ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরার যে শক্ত বাঁধন তৈরি করতে চাইছে, ঈমানি শক্তির সামনে তা খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের আকাশে যে বিশ্বাসঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আছড়ে পড়েছে, তা কেবল একটি জাতিকে আঘাত করেনি, বরং ঘুমন্ত এক আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে তুলেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর শাহাদাত বরণ ইরানের জন্য পরাজয় নয়, বরং এক নতুন বিজয়ের সূচনা। পশ্চিমারা ভাবছে তারা ইরানের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু তারা জানে না শিয়া যোদ্ধারা শাহাদাতকে ভয় পায় না, বরং তাকে আলিঙ্গন করে।
ইহুদিবাদী ইসরায়েল এই বর্বরোচিত হামলার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’, আর দাম্ভিক আমেরিকা বলছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। কিন্তু তাদের এই ক্রোধ আসলে তাদের ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন নেতানিয়াহু উল্লাস করছিলেন এবং ট্রাম্পকে লাশের ছবি দেখাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইরানের অলিগলি থেকে উচ্চারিত হচ্ছিল প্রতিশোধের স্লোগান। সিআইএ এবং মোসাদ এখন ইরানের ১০ জন শীর্ষ নেতাকে সরানোর স্বপ্ন দেখছে। তারা মনে করছে এই ১০ জনকে সরিয়ে দিলেই বুঝি পারস্যের মাটিকে তারা পরাধীন করতে পারবে। কিন্তু ইরানের প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ একেকজন খামেনেই তৈরি হচ্ছে।
মোসাদের হিটলিস্টের শীর্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২০২৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি পশ্চিমাদের চক্ষুশূল। কারণ তিনি খামেনেইর মতোই ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ আর ইয়েমেনের হুথিদের ভাইয়ের মতো আগলে রেখেছেন। উত্তর তেহরানে তাঁর কার্যালয়ে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র মেরেও তাঁকে থামানো যায়নি। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন এবং এখন গোপন ডেরা থেকে আইআরজিসিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পেজেশকিয়ান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি রাশিয়ার সাথে জোট বেঁধে পশ্চিমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া এক দুর্ধর্ষ কুশলী।
ইরান আজ কেন অপরাজেয়? কারণ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে ইরান এখন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরান এখন পারমাণবিক শক্তির দোরগোড়ায়। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ দ্রুত চলে, তা এখন ইরানের প্রধান শক্তি। সিআইএ ভালো করেই জানে, ইরানকে ধ্বংস করা তো দূরের কথা, তাদের পরমাণু বিজ্ঞানীদের ছোঁয়ার ক্ষমতাও মোসাদের নেই। বীরের রক্ত বৃথা যায় না, আর খামেনেইর রক্ত ইরানের প্রতিটি মিসাইলকে আরও লক্ষ্যভেদী করে তুলেছে। ইসরায়েলের আয়রন ডোম এখন ইরানের ড্রোন বৃষ্টির সামনে দিশেহারা।
হিটলিস্টের দ্বিতীয় নামটি হলো মহম্মদ বাঘের কালিবাফ। মজলিসের এই স্পিকার কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন দক্ষ কমান্ডার। খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর গর্জন কাঁপিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটনকে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, "ওরা লাল রেখা অতিক্রম করেছে, এখন আমাদের আঘাত হবে এমন যে ওদের ভিক্ষা করতে হবে।" তাঁর পাশেই আছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। মোসাদ তাঁকে দু-দুবার হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। লারিজানি হলেন ইরানের কূটনৈতিক মস্তিস্ক, যাঁর চালে বারবার কুপোকাত হচ্ছে হোয়াইট হাউস।
অনেকে ভাবছেন খামেনেইর পর কে? সিআইএ-র সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন মোজতবা খামেনেই। আয়াতুল্লাহ খামেনেইর সুযোগ্য পুত্র মোজতবা পর্দার আড়াল থেকে আইআরজিসি নিয়ন্ত্রণ করছেন। কট্টরপন্থীরা তাঁকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে দেখছেন। তাঁর নেতৃত্বে রেভল্যুশনারি গার্ড এখন আরও বেশি আগ্রাসী। আব্বাস আরাঘচি এবং সাদেক লারিজানির মতো প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা যখন পাশে থাকেন, তখন ইরানের পতন অসম্ভব। ইসরায়েলি গণমাধ্যম যতই দাবি করুক যে তারা কমান্ডারদের হত্যা করেছে, সত্য হলো ইরানি কমান্ডারেরা একেকজন ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠেন।
আমেরিকা এখন পুরনো চাল চালছে। তারা নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভিকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে চায়। যে পহলভি পরিবার ১৯৭৯ সালে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে, তাদের দিয়ে বিপ্লব সম্ভব নয়। সিআইএ মনে করছে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও তারা নিজেদের পছন্দের পুতুল বসাবে। কিন্তু ইরান কোনো লাতিন আমেরিকান দেশ নয়, এটি ইমামদের পবিত্র ভূমি। ট্রাম্প যতই বোমাবর্ষণের ঘোষণা দিন না কেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, পাল্টা আঘাত দেওয়ার ক্ষমতা ইরানের কতটা প্রবল। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ইরানের সামনে অসহায়।
ইরান আজ তিন সদস্যের এক শক্তিশালী কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করছেন যে, প্রশাসনিক কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে, ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি পাথরের মতো শক্ত। খামেনেই শহীদ হয়ে অমর হয়েছেন, আর তাঁর আদর্শ হয়ে উঠেছে কোটি কোটি মুসলিমের অনুপ্রেরণা। আমেরিকা আর ইসরায়েল আসলে নিজেদের কববর নিজেই খুঁড়ছে। ইরান দখল করা তো দূরের কথা, নিজেদের অস্তিত্ব টেকাতেই এখন তাদের হিমশিম খেতে হবে। জয় ইনশাআল্লাহ ইরানেরই হবে।