ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইউক্রেনকে পারমাণবিক বোমা দিচ্ছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, পুতিনের গুপ্তচরদের হাতে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

ইউক্রেনকে পারমাণবিক বোমা দিচ্ছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, পুতিনের গুপ্তচরদের হাতে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ

পুরানো চাল ভাতে বাড়ে—আর শত্রুর ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ফাঁস হয়! ইউক্রেনকে সামনে রেখে ব্রিটেন আর ফ্রান্স কি তবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে রাশিয়াকে মুছে দেওয়ার নীল নকশা চূড়ান্ত করে ফেলেছে? পুতিনের গুপ্তচরদের হাতে আসা এক গোপন রিপোর্ট এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে। আজ আপনাদের জানাবো কীভাবে পর্দার আড়ালে কিভকে পরমাণু শক্তিধর বানানোর এক আত্মঘাতী খেলায় মেতেছে পশ্চিমা দেশগুলো।

কথায় আছে, "চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের এক দিন।" ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পার হতে না হতেই ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সেই চুরির পরিকল্পনা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে রাশিয়ার চৌকস গুপ্তচরবাহিনী। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে আড়ালে থেকে পরমাণু অস্ত্র সরবরাহ করছে এই দুই দেশ। রাশিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে জেলেনস্কি প্রশাসনের হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তুলে দেওয়ার এই চক্রান্ত এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অত্যন্ত শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর একটি গোপন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লন্ডন এবং প্যারিস গোপনে কিভকে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। যদিও ইউক্রেন এই তথ্য অস্বীকার করে রাশিয়াকে মিথ্যাবাদী বলছে, কিন্তু রাশিয়ার গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের নির্ভুলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই ষড়যন্ত্র এখন বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি।

রাশিয়া অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে ১৯৬৮ সালের পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসারণ চুক্তি বা এনপিটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও জেলেনস্কিকে পরমাণু বোমা দিয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে তারা যেভাবে আণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঘটাচ্ছে, তাতে পুরো পৃথিবীর নিরাপত্তা আজ ঝুঁকির মুখে। পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে আইন ভাঙতে দ্বিধা করছে না।

রুশ গোয়েন্দাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলে একটি বড় ধরণের নাটক মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমারা। তারা দেখাতে চায় যে, ইউক্রেন নাকি নিজস্ব প্রযুক্তিতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু আসল সত্য হলো, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে গোপনে এই মরণাস্ত্র কিভের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি সুগভীর এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

সরাসরি স্থলপথে ধরা পড়ার ভয়ে ইংরেজ এবং ফরাসিরা এখন সামুদ্রিক পথ বেছে নিয়েছে। রুশ রিপোর্ট বলছে, তারা বিশ্বাস করে ইউক্রেনের হাতে একটি 'ডার্টি বম্ব' বা নোংরা বোমা থাকলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যাবে। জেলেনস্কি তখন এই বোমার ভয় দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে দর কষাকষি করার সুযোগ পাবেন। রাশিয়ার অদম্য অগ্রযাত্রাকে থামাতেই তারা এখন এমন নিচু স্তরের রাজনীতিতে নেমে এসেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ পরমাণু বোমা তৈরি করা যতটা জটিল, নোংরা বোমা তৈরি করা ততটাই সহজ। সামান্য বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে সাধারণ বিস্ফোরকের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ঠিক এই প্রযুক্তিটিই জেলেনস্কির বাহিনীকে সরবরাহ করছে। রাশিয়ার সাধারণ মানুষকে তেজস্ক্রিয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার এই পরিকল্পনা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয় এবং রাশিয়া এর উচিত জবাব দেবে।

সেনা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ইউক্রেনকে সরাসরি বোমা না দিলেও তেজস্ক্রিয় কাঁচামাল বা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলেনস্কি বাহিনী এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লন্ডন এবং প্যারিসের এই হটকারী সিদ্ধান্ত পুরো ইউরোপকে একটি নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সতর্ক অবস্থান এখন সময়ের দাবি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কিভের হাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। এটি রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত। পশ্চিমা শক্তিগুলোর এই দ্বিমুখী নীতি রাশিয়াকে কঠোর হতে বাধ্য করছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইলেও, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের এই উসকানিমূলক আচরণ যুদ্ধের পরিস্থিতিকে এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় দিয়ে ফেলেছে।

রাশিয়ার এই অকাট্য প্রমাণের পর ইউক্রেন এবং ফ্রান্স বরাবরের মতোই মিথ্যে সাফাই গাইছে। ইউক্রেনীয় মুখপাত্র হিওরহি তিখি এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি প্যারিসের ফরাসি দূতাবাসও একে মিথ্যাচার বলছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্রিটেনের কিয়ের স্টার্মার সরকার এই বিষয়ে এখনো রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। তাদের এই নীরবতাই প্রমাণ করে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।

পশ্চিমাদের এই ষড়যন্ত্রের মোক্ষম জবাব দিতে রাশিয়া ইতিমধ্যে পরমাণু মহড়া চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে এই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেখানে হাইপারসনিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বেলারুশকে সাথে নিয়ে রাশিয়ার এই রণপ্রস্তুতি প্রমাণ করে যে, কোনো ধরণের পারমাণবিক উসকানি দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এখন যেকোনো সময় পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে প্রস্তুত।

এক সময় ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকলেও ১৯৯১ সালে তারা আলাদা হয়ে যায়। এরপর থেকেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো জোটের প্ররোচনায় তারা রাশিয়ার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নিজের দরজার সামনে শত্রুর উপস্থিতি কোনো দেশই মেনে নেয় না, রাশিয়াও নেয়নি। ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া এবং ২০২২ সালের সামরিক অভিযান ছিল মূলত রাশিয়ার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পশ্চিমারা ইউক্রেনকে ব্যবহার করছে মাত্র।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করলেও, ব্রিটিশ এবং ফরাসিদের এই নতুন ষড়যন্ত্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের সাথে পুতিনের আলোচনার আগেই ব্রিটেন এবং ফ্রান্স চাচ্ছে জেলেনস্কিকে পরমাণু ক্ষমতাধর করতে। ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথা বলা হবে। রাশিয়া কখনোই পশ্চিমাদের এই ব্ল্যাকমেইলিং মেনে নেবে না।

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনার ঠিক আগেই এই ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে প্রমাণিত হয় যে পশ্চিমারা আসলে শান্তি চায় না, বরং তারা যুদ্ধকে পরমাণু স্তরে নিয়ে যেতে চায়। পুতিন প্রশাসনের অটল অবস্থান এবং গোয়েন্দাদের তৎপরতা কিভকে বড় ধরণের ভুল করা থেকে বিরত রাখবে। জেলেনস্কি যদি পরমাণু বোমার পথে হাঁটেন, তবে ইউক্রেনের মানচিত্র বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

শেষে বলতে হয়, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুতিন যে কোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না। ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে রাশিয়াকে ধ্বংস করার পশ্চিমা স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। সত্যের জয় হবেই এবং রাশিয়ার শৌর্যবীর্যের সামনে এই সব ষড়যন্ত্র খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। বিশ্ব দেখবে কীভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তার শত্রুদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়। জয় নিশ্চিতভাবেই রাশিয়ার হবে।