ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ধ্বংসাত্মক হামলায় কঙ্কালসার দশা ইসরায়েলেরও ট্রিলিয়ন ডলারের আধুনিক অস্ত্র এখন তেহরানের নিশানায় কিয়ামত


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

ধ্বংসাত্মক হামলায় কঙ্কালসার দশা ইসরায়েলেরও ট্রিলিয়ন ডলারের আধুনিক অস্ত্র এখন তেহরানের নিশানায় কিয়ামত

আপনি কি জানেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকার কত কোটি ডলার ইরানের মরুভূমিতে ছাই হয়ে গেছে? ট্রাম্প বলছেন যুদ্ধ চলবে, কিন্তু পেন্টাগন কি জানে তাদের ভাঁড়ার খালি হয়ে আসছে? একদিকে ইরানের অদম্য ঈমানি শক্তি, আর অন্যদিকে আমেরিকার ঋণের পাহাড়। আজ ইতিহাস সাক্ষী হতে যাচ্ছে—কিভাবে একটি মজলুম দেশ বিশ্বশক্তির দম্ভ চূর্ণ করে দেয়! ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ যুদ্ধের আসল হিসাব কিতাব আজ ফাঁস হবে।

অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতি মানে চণ্ডাল। অর্থাৎ অহংকারই পতনের মূল কারণ। আজ বিশ্ব দেখছে আমেরিকার সেই দম্ভের পতন। ইরানের ওপর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এবং অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। তারা ভেবেছিল কয়েক দিনেই ইরানকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে, কিন্তু তেহরানের বীর সেনানিরা আজ তাদের হিসেব উল্টে দিয়েছে।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানের যুদ্ধবাজ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের এই তথাকথিত 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নাকি আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ১২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ঘাতক বাহিনী। তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার যে খোয়াব দেখছে, তা মূলত তাদের নিজেদের ধ্বংসই ডেকে আনছে।

এই অসম যুদ্ধে ইরান হারিয়েছে তাদের অভিভাবক, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। তেহরানে তার বাসভবনে কাপুরুষোচিত বিমান হামলা চালিয়ে তাকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা জানে না, একজন খামেনি শহীদ হলে কোটি খামেনি জন্ম নেয়। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন। এই রক্ত বৃথা যাবে না, বরং এই রক্তই আমেরিকার পতনকে ত্বরান্বিত করবে ইনশাআল্লাহ।

এখন চলুন দেখি, এই যুদ্ধ করতে গিয়ে আমেরিকার পকেট কতটা খালি হচ্ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলকে ২১.৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা। এছাড়া ইয়েমেন ও ইরানে নিজেদের অপারেশন চালাতে গিয়ে তাদের খরচ হয়েছে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ ইসরায়েলকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি গচ্চা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

আনাদোলু এজেন্সির রিপোর্ট শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতেই তারা খরচ করেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। মাত্র একটি রণতরী, যেমন 'ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড' পরিচালনা করতেই প্রতিদিন খরচ হয় ৬৫ লাখ ডলার। আমেরিকার সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এখন ইরানের আকাশে ধোঁয়া হয়ে উড়ছে।

আমেরিকা তাদের সবচেয়ে আধুনিক সব মরণাস্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে শুরু করে এফ-৩৫ এবং এফ-২২ র‍্যাপ্টর—কিছুই বাকি রাখেনি তারা। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। কুয়েতের আকাশে আমেরিকার তিনটি দামি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। যদিও তারা একে 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বলে ঢাকতে চাইছে, কিন্তু সত্য হলো ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমেরিকা এখন ইরানের উদ্ভাবিত ড্রোন প্রযুক্তির অনুকরণে তৈরি 'লুকাস ড্রোন' ব্যবহার করছে। অর্থাৎ, যে ইরানকে তারা একসময় অবজ্ঞা করত, আজ সেই ইরানের প্রযুক্তি চুরি করেই তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তবে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হোক বা টমাহক ক্রুজ মিসাইল—ইরানের পাহাড়সম দৃঢ়তার সামনে এসব ধাতব বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের এই দম্ভ বালুর বাঁধের মতো।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আমেরিকার বড় সমস্যা টাকা নয়, বরং অস্ত্রের মজুদ। প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা এসএম-৬ এর মতো ইন্টারসেপ্টরগুলো তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগে। ইরান যদি পাল্টা আক্রমণ চালিয়েই যায়, তবে আমেরিকার ভাঁড়ারে এসব মিসাইল কয়েক সপ্তাহের বেশি টিকবে না। তখন ইউক্রেন বা এশিয়ার অন্য কোথাও পাঠানোর মতো কোনো অস্ত্রই পেন্টাগনের হাতে থাকবে না। তারা আজ সবদিক থেকে অবরুদ্ধ।

ইসরায়েল ভেবেছিল আমেরিকার কাঁধে চড়ে তারা ইরানকে দখল করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। আমেরিকার ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটও এখন ইরানের হাজার হাজার কামিকাজে ড্রোন আর হাইপারসনিক মিসাইলের সামনে অসহায়। ইতিহাস সাক্ষী, যারা ন্যায়ের পথে থাকে, বিজয় তাদেরই হয়। ইরান আজ একা লড়লেও পুরো বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের দোয়া ও সমর্থন তাদের সাথে রয়েছে।

শেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ আমেরিকার বৈশ্বিক আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেক হতে যাচ্ছে। যে পরিমাণ অস্ত্র আর অর্থ তারা এখানে ব্যয় করছে, তাতে খুব শীঘ্রই মার্কিন অর্থনীতি ধসে পড়বে। ইরান আজ বীরের মতো বুক চিতিয়ে লড়ছে। সত্য ও মিথ্যার এই লড়াইয়ে মিথ্যার বিনাশ অনিবার্য। আজ অথবা কাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দখলদার বাহিনীকে পাততাড়ি গুটিয়ে পালাতেই হবে। ইরানের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।