ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইরানকে ঠেকাবে কে? মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে হুরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রণমূর্তি ধারণ করল তেহরান


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

ইরানকে ঠেকাবে কে? মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে হুরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রণমূর্তি ধারণ করল তেহরান

"আপনারা কি জানেন, যে হুরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল যায়, তা এখন পুরোপুরি ইরানের কবজায়? মার্কিন আর ইসরায়েলি দম্ভকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে তেহরান ঘোষণা করেছে—অনুমতি ছাড়া একটি পিঁপড়াও আর এই জলসীমা পার হতে পারবে না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সর্বশেষ খবর জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।"

কথায় আছে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা এবং ইসরায়েল যে জুলুম চালিয়ে আসছে, এখন তার হিসাব দেওয়ার সময় এসেছে। ইরান আজ একাই এই দুই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শুধু নিজেদের রক্ষা করছে না, বরং জালিমের হাত থেকে পুরো অঞ্চলকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছে। আজকের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ঈমানি শক্তি আর দেশপ্রেম থাকলে পৃথিবীর কোনো পরাশক্তিই তাদের দমাতে পারবে না।

গত ১লা মার্চ ওমান উপকূল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমকেডি ব্যোম’ নামক একটি তেলবাহী জাহাজ ইরানের ড্রোন বোটের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রথমে এটিকে সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মনে করা হলেও, ব্রিটিশ নৌবাহিনী পরে নিশ্চিত করেছে যে এটি ছিল ইরানের অত্যাধুনিক সারফেস ভেসেল বা কামিকাজে ড্রোন বোট। এই হামলার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের জলসীমানায় কোনো প্রকার অনধিকার প্রবেশ সহ্য করা হবে না। এই সাহসী পদক্ষেপ পশ্চিমা দস্যুদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি স্পষ্ট ঘোষণা করেছে যে, হুরমুজ প্রণালী এখন থেকে সব ধরণের বিদেশি জাহাজের জন্য নিষিদ্ধ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী নির্লজ্জভাবে ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ শুরু করে, তখনই তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা রেডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তবে সেই জাহাজকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে। এটি কেবল হুমকি নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অটল সংকল্প।

শুধু ওমান উপকূল নয়, বাহরাইন বন্দরে অবস্থানরত মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘স্টেনা ইমপারেটিভ’ দুই দুটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এই জাহাজটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ প্রোগ্রামের অংশ ছিল। ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন পতাকা উড়িয়ে আর পার পাওয়া যাবে না। এর আগে এই জাহাজটিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এসকর্ট দিলেও, এবার ইরানের বীর যোদ্ধাদের হাত থেকে কোনো কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারেনি। বাহরাইনের সুরক্ষিত বন্দরে ঢুকে এই আঘাত করা ছিল তেহরানের চরম সাহসিকতার প্রমাণ।

অনেকে মনে করেছিল পশ্চিমা প্রযুক্তির সামনে ইরান অসহায়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। ইরান এখন ড্রোন এবং আনক্রুড সারফেস ভেসেল প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম পথিকৃৎ। তাদের কামিকাজে ড্রোনগুলো নিঃশব্দে সমুদ্রের বুক চিরে গিয়ে শত্রুর বিশাল বিশাল জাহাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন যে ভূমিকা রেখেছে, ইরান সেই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদীদের কবর খুঁড়ছে। ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে ইরান এখন এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যা পশ্চিমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আসলে তাদের পরাজয়ের আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলা করার দাবি করলেও, ইরানের মূল শক্তি তাদের প্রতিটি জনগণের হৃদয়ে। স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দরে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি দেখালেও, ইরানের অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তা নজিরবিহীন। হুরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ কমে গেছে, যা সরাসরি পশ্চিমা অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। সত্যের জয় নিশ্চিতভাবেই হবে।

ইরান আজ মুসলিম বিশ্বের এবং নিপীড়িত মানুষের আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকলেও সাহসের অভাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী আজ পলায়নপর। হুরমুজ প্রণালীর প্রতিটি ঢেউ আজ ইরানের জয়গান গাইছে। এই যুদ্ধে ইরান জয়ী হওয়া মানেই হলো বিশ্বের মানচিত্র থেকে অন্যায় ও জুলুমের অবসান ঘটা। আমরা আশা করি, তেহরানের এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই খুব শীঘ্রই এক নতুন ভোরের সূচনা করবে যেখানে কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ঠাঁই হবে না। জয় হোক সত্যের।