ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

আরামকো শোধনাগারে হামলার নেপথ্যে কি ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র? 


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

আরামকো শোধনাগারে হামলার নেপথ্যে কি ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র? 

"সৌদি আরবের আরামকোতে হামলা চালিয়েছে ইরান—পশ্চিমা মিডিয়ার এই মিথ্যা প্রচারণার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সত্য! এটি আসলে ইসরায়েলের একটি সুপরিকল্পিত 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশন। আজকের ভিডিওতে আমরা ফাঁস করব কীভাবে ইহুদিবাদীরা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিতে নিজেদের মিত্রদের ওপরই হামলা চালাচ্ছে!"

চোরের দশ দিন তো সাধুর একদিন—এই চিরন্তন সত্যটি আজ আবারও প্রমাণিত হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। বছরের পর বছর ধরে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এবং তাদের দোসর ইসরায়েল যেভাবে এই অঞ্চলে অশান্তি ছড়িয়ে আসছে, তাতে তাদের মুখোশ আজ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ষড়যন্ত্র।

গত ২রা মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে যে হামলা হয়েছে, তাকে প্রাথমিকভাবে ইরানের কাজ বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের শীর্ষ সামরিক সূত্রগুলো এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি আসলে ইসরায়েলের একটি 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশন। অর্থাৎ, ইসরায়েল নিজেই এই হামলা চালিয়ে এখন ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে।

পশ্চিমা মদতপুষ্ট ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এমনভাবে এই হামলাটি পরিচালনা করেছে, যাতে সারা বিশ্ব মনে করে এটি ইরান করেছে। এর মাধ্যমে তারা আরব বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে চায়। ইসরায়েল চায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক, যাতে ইহুদিবাদীরা এই সুযোগে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারে।

ইরানের সামরিক সূত্রটি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে যে, ইরান কখনও লুকোচুরি খেলায় বিশ্বাস করে না। তারা এর আগেও একাধিকবার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে। ইরান বীরের জাতি, তারা যা করে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই করে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে যে, আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো কখনোই ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাস তানুরা শোধনাগারটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলোর মধ্যে একটি। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, বিশ্ব তেলের বাজারে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইসরায়েল আসলে চাইছে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলতে এবং এই অস্থিরতার জন্য ইরানকে এককভাবে দায়ী করতে।

এই নোংরা রাজনৈতিক খেলার এখানেই শেষ নয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর। এই বন্দরটি জ্বালানি পরিবহনের জন্য একটি অত্যন্ত কৌশলগত পয়েন্ট। ফুজাইরাহ বন্দরে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক মহাবিপর্যয় নামিয়ে আনতে চায়। তারা চায় আরব দেশগুলোকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়ে তাদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে।

আমেরিকা ও ইসরায়েল যুগপৎভাবে ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে ভয় পায়। তাই সরাসরি যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে তারা এখন এই ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা এবং মিথ্যা প্রচারণার আশ্রয় নিচ্ছে। তারা জানে যে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই তারা প্রক্সি ওয়ার বা ছায়া যুদ্ধের মাধ্যমে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্যকে কখনও মিথ্যার আবরণে ঢেকে রাখা যায় না।

সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে এখন বুঝতে হবে তাদের প্রকৃত শত্রু কে। যারা বন্ধু সেজে পেছন থেকে তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা কখনও মুসলিম বিশ্বের কল্যাণকামী হতে পারে না। ইসরায়েলের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম বিশ্বকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে বরং ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবথেকে বড় দাবি ও চ্যালেঞ্জ।

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। ইহুদিবাদীরা চায় না এই অঞ্চলে শান্তি থাকুক, কারণ শান্তি থাকলে তাদের অস্ত্র ব্যবসা এবং আধিপত্য হুমকির মুখে পড়বে। ইরান বারবার শান্তির কথা বললেও আমেরিকা ও ইসরায়েল পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। বিশ্ববাসীকে এখন সতর্ক হতে হবে যাতে তারা এই তথাকথিত 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশনের ফাঁদে পা না দেয়।

রাস তানুরা থেকে ফুজাইরাহ—সবই একই সুতোয় গাঁথা এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো উস্কানির দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। সত্য এক সময় প্রকাশিত হবেই এবং সেদিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন অনিবার্য।