আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

রাশিয়ার মেশচোভিস্ক এলাকায় এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত ঘটনার খবর সামনে এসেছে। ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তিন দিন ধরে নির্যাতনের শিকার হন এক ব্যক্তি। ঘটনার পর উভয় পক্ষের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে দু’জনকেই।
২০০৯ সালে রাশিয়ার মেশচোভিস্ক এলাকার একটি স্যালোঁকে কেন্দ্র করে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ৩২ বছর বয়সী ভিক্টর জাসিনস্কি নামের এক ব্যক্তি ওই স্যালোঁতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ভয় দেখিয়ে অর্থ লুট করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। স্যালোঁর ২৮ বছর বয়সী মালকিন ওলগা জাজাক, যিনি ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্টধারী, ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করেন। ভিক্টরের উপর আঘাত করে তাঁকে প্রায় অচেতন করে ফেলেন এবং পরে হেয়ার ড্রায়ারের তার দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে ফেলেন।
প্রাথমিকভাবে স্যালোঁর অন্যান্য কর্মচারীরা মনে করেছিলেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওলগা তাঁদের জানান যে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত এসে অভিযুক্তকে নিয়ে যাবে। কর্মচারীদের কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যাওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
কিন্তু এরপরই ঘটনার মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, সবাই চলে যাওয়ার পর ওলগা ভিক্টরকে স্যালোঁর পেছনের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে নগ্ন করে একটি চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়। ভিক্টর প্রথমে ধারণা করেছিলেন তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, কিন্তু পরে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গড়ায়।
ভিক্টরের অভিযোগ, তাঁকে জোরপূর্বক উত্তেজক ওষুধ খাওয়ানো হয় এবং তাঁর সম্মতি ছাড়াই শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। টানা তিন দিন ধরে তাঁকে একই অবস্থায় আটকে রাখা হয় এবং কোনো স্বাভাবিক খাবার দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এই সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভিক্টর পরে বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমি বাঁচব না। কী হচ্ছে বুঝতেই পারছিলাম না।”
তিন দিন পর মুক্তি পেয়ে ভিক্টর প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি থানায় গিয়ে ওলগার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওলগাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তবে ওলগা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, “আমি মাত্র দু-তিন বার ওর সঙ্গে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, ভিক্টরকে যথেষ্ট খাবার দেওয়া হয়েছিল এবং এমনকি নতুন পোশাক ও কিছু অর্থও দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে ভিক্টর ও ওলগা—উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে অস্বাভাবিক শাস্তির উদাহরণ হিসেবে দেখেন, আবার অনেকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিপজ্জনক দিকটি তুলে ধরেন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সংযত অবস্থান নেয়।