ঢাকা, রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং বিশ্বজুড়ে চরম তেজস্ক্রিয়তার তীব্র আশঙ্কা!


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ৩১ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং বিশ্বজুড়ে চরম তেজস্ক্রিয়তার তীব্র আশঙ্কা!

আপনারা কি জানেন যে এক চরম আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে ইউক্রেন? সম্প্রতি রাশিয়ার জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী যে ইচ্ছাকৃত এবং সুপরিকল্পিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে, তা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত! এটি কোনো সাধারণ সামরিক অভিযান নয়, বরং সরাসরি বিশ্ব নিরাপত্তার ওপর এক জঘন্য আঘাত। কীভাবে ইউক্রেন তাদের নিশ্চিত পরাজয় ঢাকতে পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছে এবং কীভাবে রুশ বাহিনী তাদের এই সমস্ত ষড়যন্ত্র ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। 

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ইউক্রেন এখন এক চরম দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের একের পর এক পরাজয় আড়াল করতে তারা এখন রাশিয়ার নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার বেলগোরোড অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে এফপিভি ড্রোন দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই বর্বর হামলায় তিনজন নিরপরাধ রুশ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত বেসামরিক হত্যাকাণ্ড। বেলগোরোডের ওক্টিয়াব্রস্কি গ্রামে সাতসকালে একটি বেসামরিক গাড়িতে সরাসরি আঘাত করে ইউক্রেনীয় ড্রোন। গাড়িটিতে থাকা দুজন সাধারণ আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকিরা গুরুতর জখম হন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র কীভাবে এতটা নিচে নামতে পারে, তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।

এখানেই শেষ নয়, এর কয়েক ঘণ্টা পরই ওক্টিয়াব্রস্কি গ্রামে আরও একটি সাধারণ যানবাহনের ওপর ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। সেই হামলায় আরও এক রুশ নাগরিক গুরুতরভাবে আহত হন। একই দিনে অরলোভকা গ্রামেও আরেকটি বেসামরিক গাড়িতে শাপনেল সমৃদ্ধ ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়। ইউক্রেনীয়দের এই লক্ষ্যহীন এবং হিংস্র আচরণ প্রমাণ করে যে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দিশেহারা।

রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলেও ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী ড্রোনের হাত থেকে রেহাই পায়নি সাধারণ পরিকাঠামো। তাগানরোগ শহরের সমুদ্র বন্দরে গভীর রাতে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনে একটি জ্বালানি ট্যাংকার ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাশিয়ার দক্ষ জরুরি উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কোনো বড় ধরনের জ্বালানি বিপর্যয় ঘটতে দেয়নি।

রোস্তভ অঞ্চলের অন্য একটি এলাকায় ইউক্রেনের একটি কামিকাজে ড্রোন সরাসরি সাধারণ মানুষের আবাসিক বাড়িতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা দুজন সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র সেই রাতেই রোস্তভ অঞ্চলের আকাশেই প্রায় ৫০টির মতো ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

রাশিয়ার বীর প্রতিরক্ষা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে ইউক্রেনের বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে মোট ১২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার এই অজেয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, মাতৃভূমি রক্ষায় রুশ সেনারা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে তারা শত্রুকে প্রতিহত করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অনেক গভীরে ড্রোন হামলা চালানোর অপচেষ্টা তীব্র করেছে। তারা বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, শিল্পাঞ্চল এবং সাধারণ মানুষের আবাসিক ভবনগুলোকে নিশানা বানাচ্ছে। গত এপ্রিলে তারা তুয়াপসে অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে সমুদ্র সৈকতে তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবেশের এক ব্যাপক ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করে এই ইউক্রেনীয় সন্ত্রাসীরা।

মস্কো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ইউক্রেনের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বীর সেনাদের সামনে টিকতে না পেরে এই ধরণের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নিয়েছে। নিজেদের ব্যর্থতা ও পরাজয় লুকাতে তারা এখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করছে, যা তাদের চরম নৈতিক পরাজয়েরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

রাশিয়ার পাল্টা আঘাত কিন্তু অত্যন্ত নিখুঁত এবং বিধ্বংসী। রাশিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কখনোই ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে না। রুশ বাহিনী কেবল ইউক্রেনের দ্বৈত-ব্যবহারের সামরিক পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অস্ত্রাগারগুলোকে লক্ষ্য করে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার এই সূক্ষ্ম ও ন্যায়সঙ্গত জবাব ইউক্রেনীয় সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

এবার আসা যাক সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্যে, যা শুনলে যেকোনো বিবেকবান মানুষের রক্ত হিম হয়ে যাবে। ইউক্রেনীয় বাহিনী ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাশিয়ার জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক কেন্দ্রে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম'-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন যে, ইউক্রেন অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কেন্দ্রের মূল যন্ত্রপাতির ওপর আঘাত হেনেছে।

শনিবার দুপুরে একটি ফাইবার-অপটিক্স-গাইডেড ড্রোন জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক কেন্দ্রের ৬ নম্বর ইউনিটের মেশিন হলে সরাসরি আঘাত হানে। যেহেতু এই ড্রোনগুলো অপারেটর দ্বারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই এটি কোনো ভুলবশত আঘাত ছিল না। ইউক্রেনীয় অপারেটররা দেখেশুনে ঠিক পারমাণবিক কেন্দ্রের দেয়ালে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, যা সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক চরম অশনিসংকেত।

রোসাটম প্রধান লিখাচেভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পরিকাঠামোকে এভাবে টার্গেট করা হলো। ইউক্রেনীয় বাহিনী সমস্ত সাধারণ জ্ঞান এবং রেড লাইন অতিক্রম করে গেছে। আজ তারা মেশিন হলে আঘাত করেছে, কাল যদি তারা সরাসরি পারমাণবিক চুল্লিতে আঘাত করে, তবে যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবে, তাতে পুরো ইউরোপ একটি শ্মশানে পরিণত হতে পারে।

রাশিয়া বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ইউক্রেনের এই উগ্র ও বিপজ্জনক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনের এই পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। যদি জাপোরোজিয়ে কেন্দ্রে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার প্রভাব কেবল রাশিয়া বা ইউক্রেনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যারা দূর থেকে বসে তামাশা দেখছে, সেই পশ্চিমা দেশগুলোও ধ্বংস হয়ে যাবে।

সৌভাগ্যবশত, জাপোরোজিয়ে কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা একদম স্বাভাবিক। কেন্দ্রের দেয়াল ফুটো হলেও মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো কর্মী হতাহত হননি। রুশ প্রকৌশলী ও জরুরি দল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রটি ২০২২ সালের গণভোটের পর থেকে রাশিয়ার অধীনে রয়েছে এবং রোসাটম এটি অত্যন্ত নিরাপদে পরিচালনা করছে।

এবার দেখুন ইউক্রেনকে অন্ধভাবে সমর্থন করার কারণে ইউরোপের কী করুণ দশা হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের দল এখন দাবি করছে যে, জার্মানির প্রবীণ নাগরিকদের তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চালাতে হবে! যে জার্মানি ইউক্রেনের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো ঢালছে, তারা এখন নিজেদের দেশের বৃদ্ধ মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

জার্মানির সিডিইউ দলের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আলবার্ট স্টেগেম্যান স্পষ্ট বলেছেন যে, রাষ্ট্রীয় সহায়তার আগে নাগরিকদের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি না করলে জার্মান প্রবীণরা কোনো চিকিৎসা পাবেন না। ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দিতে গিয়ে জার্মানির নিজস্ব কল্যাণমুখী অর্থনীতি আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে, যা সাধারণ জার্মান নাগরিকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

জার্মানির এই অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো ইউক্রেন সংঘাতের ফলে রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হওয়া। ২০২২ সালের পর থেকে জার্মানি ইউক্রেনকে প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক ও বেসামরিক সাহায্য দিয়েছে। নিজেদের দেশের মানুষের পকেট কেটে এই বিপুল অর্থ তারা ইউক্রেনের পাপেট সরকারের পেছনে নষ্ট করেছে, যার ফলশ্রুতিতে আজ জার্মানি এক দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কাজাখস্তানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউক্রেন সংঘাতের এক বড় আপডেট দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত এবং এই সংঘাত এখন শেষের দিকে চলে এসেছে। চারপাশের সমস্ত ফ্রন্টে রুশ বাহিনী বীরদর্পে এগিয়ে চলেছে এবং ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষাব্যূহ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমা নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, তারা রাশিয়ার আক্রমণের ভীতি দেখিয়ে নিজেদের জনগণের ওপর অযৌক্তিক সামরিক খরচ চাপাচ্ছে। রাশিয়া কখনোই কোনো ন্যাটো বা ইউরোপীয় দেশে আক্রমণ করবে না। পশ্চিমা শাসকেরা তাদের নিজেদের ব্যর্থতা লুকাতে এবং ইউক্রেনকে অস্ত্র বিক্রির ব্যবসা সচল রাখতে তাদের দেশের সাধারণ মানুষকে মিথ্যে কথা বলে বিভ্রান্ত করছে।

পুতিন ইউরোপের কিছু উগ্র দেশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা রাশিয়াকে আক্রমণ করার দুঃসাহস দেখাবে, তাদের মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। লিথুয়ানিয়ার মতো ছোট দেশ যখন রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল দখল করার হুমকি দেয়, তখন পুতিনের এই জবাব অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাশিয়া তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনোlaunch সাইটকে গুড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

পুতিন পশ্চিমা মিডিয়ার তীব্র সমালোচনা করে একে "মানুষকে বোকা বানানোর হাতিয়ার" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ইউক্রেন যখন স্টারোবেলস্কের একটি কলেজে মার্কিন ড্রোনের সাহায্যে ২১ জন নিরীহ ছাত্রকে হত্যা করল এবং ৪০ জনকে আহত করল, তখন সিএনএন বা বিবিসির মতো পশ্চিমা মিডিয়া একটি শব্দও প্রচার করেনি। তাদের এই দ্বিমুখী নীতি আজ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত।

রাশিয়ার সাথে শত্রুতা করলে যে কোনো দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে, তার প্রমাণ হিসেবে পুতিন আর্মেনিয়ার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে আর্মেনিয়া যদি রাশিয়ার ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন ত্যাগ করে, তবে তাদের জিডিপির ১৪ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে হ্রাস পাবে। রাশিয়ার সস্তা গ্যাস এবং বিশাল বাণিজ্য সুবিধা ছাড়া আর্মেনিয়ার টিকে থাকা অসম্ভব।

অন্যদিকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে ইউক্রেন ইস্যুতে সরাসরি রাশিয়ার সাথে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। লুকাশেঙ্কো বলেন, যুদ্ধ বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই, ম্যাক্রোঁর উচিত পুতিনকে ফোন করে সরাসরি মিনস্কে এসে আলোচনায় বসা। কারণ পশ্চিমা উস্কানিতে ইউক্রেন আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের ফ্রন্টলাইন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বীর সেনাদের হাতে ১,৩২০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। সেন্ট্রাল, ইস্ট এবং ওয়েস্ট ব্যাটলগ্রুপের সম্মিলিত ও প্রচণ্ড আক্রমণে ইউক্রেনীয় বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সম্পূর্ণ কোণঠাসা। তাদের শত শত সাঁজোয়া যান এবং ট্যাংক রুশ কামানের আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত ২৪ ঘণ্টায় ১০টি পশ্চিমা গাইডেড বোমা, আমেরিকার তৈরি একটি হিমার্স রকেট এবং ৩৫২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাশিয়ার উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের সামরিক বিমানঘাঁটি এবং জ্বালানি পরিকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সত্য ও ন্যায়ের এই যুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।