ঢাকা, শনিবার, জুন ৬, ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

ইউক্রেনের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ান বাহিনীর মহাবিজয়: স্তব্ধ জেলেনস্কি!


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৬ জুন, ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

ইউক্রেনের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ান বাহিনীর মহাবিজয়: স্তব্ধ জেলেনস্কি!

পশ্চিমাদের দেওয়া কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র আর অনুদান দিয়ে কি আসলেই যুদ্ধ করছে ইউক্রেন? নাকি পর্দার আড়ালে চলছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক লুটপাট? একদিকে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এবং পশ্চিমাদের দেওয়া সাহায্য পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশের শেল কোম্পানিতে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ধুলোয় মিশিয়ে একের পর এক অঞ্চল স্বাধীন করছে অদম্য রাশিয়ান সেনারা। কীভাবে ইউক্রেন সরকার নিজেদের পকেট ভারী করছে আর রাশিয়ার অজেয় বাহিনী কীভাবে ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনকে পুরোপুরি কুপোকাত করছে।

পশ্চিমাদের অন্ধ সমর্থনে চলা ইউক্রেন এখন বিশ্বমঞ্চে দুর্নীতির এক অভয়ারণ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের নিজস্ব কর বিভাগই স্বীকার করেছে যে, প্রায় দুই হাজার তিন শ ভুয়া বা শেল কোম্পানি ব্যবহার করে দেশ থেকে প্রায় চার শ সত্তর কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচারের ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে।

ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ যখন যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে, তখন কিয়েভের পুতুল সরকার এবং তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে এই বিপুল অর্থ লুটে ব্যস্ত। কর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ১২৪৩টি কোম্পানি ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ১৭৬ বিলিয়ন হ্রিভনিয়া এবং ৫৫৫টি কোম্পানি আমদানির নামে ১৮ বিলিয়ন হ্রিভনিয়া বিদেশে পাঠিয়েছে। এই জালিয়াতি পুরো ইউক্রেনীয় ব্যবস্থার পচনশীল অবয়বকে বিশ্বের সামনে উন্মোচন করে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল মাত্র গুটি কয়েক মানুষের মাধ্যমে। তদন্তে দেখা গেছে, মাত্র সাতজন ব্যক্তি এমন আছেন যারা প্রত্যেকে একই সাথে পাঁচ শরও বেশি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে সাত হাজারেরও বেশি ভুয়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই চক্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় লুটপাট।

ইউক্রেনের কর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান লেসিয়া কারনাউখ নিজেই এই ভয়াবহ জালিয়াতির কথা মিডিয়ার সামনে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এই কোম্পানিগুলো একই আইপি অ্যাড্রেস এবং একই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরকারের কাছে ভুয়া আর্থিক রিপোর্ট জমা দিচ্ছিল। সাধারণ কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন অদ্ভুত ও বেআইনি ঘটনা কখনো ঘটা সম্ভব নয়।

ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের শস্যভাণ্ডার বলা হলেও, এখন তা কালো টাকা বানানোর প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় চব্বিশ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট রপ্তানির ষাট শতাংশ। অপরাধীরা নগদ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে গম কিনে ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে তা বিদেশে পাচার করে ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে এবং সেই মুনাফা আর দেশে ফিরছে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সুবিধা দিতে গিয়ে নিজেদের দেশের কৃষকদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় শস্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়ার পর পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ার কৃষকরা তীব্র আন্দোলন শুরু করে। তারা অভিযোগ করে, ইউক্রেনের এই কালো গম তাদের বাজার ধ্বংস করছে। বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের ওপর পুনরায় শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়।

ইউক্রেনের এই মজ্জাগত দুর্নীতি কেবল কৃষিখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা এনারগোঅ্যাটমেও প্রায় দশ কোটি ডলারের বিশাল ঘুষ কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনার সাথে স্বয়ং ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো জড়িত ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাশিয়ান ও আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে তাকে সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির চেইন বা শৃঙ্খল রয়েছে। পশ্চিমাদের সাধারণ করদাতাদের টাকা ইউক্রেনে সাহায্য হিসেবে পাঠানো হয়, আর কিয়েভের দুর্নীতিবাজ নেতারা সেই টাকা আত্মসাৎ করে আবার পশ্চিমাদের প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের কাছেই ফেরত পাঠায়। ইউক্রেনের এই সাম্প্রতিক ঘটনা রাশিয়ার সেই দাবিকেই শতভাগ সত্য বলে প্রমাণ করল।

নিজেদের এই চরম ব্যর্থতা আর অর্থনৈতিক পতন আড়াল করতে ইউক্রেন এখন মরিয়া হয়ে রাশিয়ার বেসামরিক জনগণের ওপর কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় চারজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজভস্কো থেকে কার্চগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোনের আঘাতে একজন সাধারণ যাত্রী নিহত হন।

ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী হামলায় সিম্ফেরোপল শহরের বেশ কিছু অআবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে আরও তিনজন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবাহিনীর সদর দফতর সেভাস্তোপল শহরেও গভীর রাতে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী ও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলতার সাথে আকাশেই ২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করে দেয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র এক সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধেয়ে আসা ২৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, ব্রায়ানস্ক, কুরস্ক এবং রোস্তভসহ মোট দশটি অঞ্চলে রাশিয়ার আকাশসীমা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী।

ক্রিমিয়ায় এই কাপুরুষোচিত হামলার মাত্র এক দিন আগে, মস্কো থেকে সিম্ফেরোপলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা চালায়। ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এই হামলায় ৮ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত এবং ১১ জন আহত হন। রাশিয়ার প্রশাসন এই জঘন্য ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তদন্ত শুরু করেছে।

কিয়েভের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের সামরিক পরিকাঠামো এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট হামলা শুরু করেছে। গত মে মাসে লুগানস্কের একটি কলেজ হোস্টেলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় ২১ জন নিষ্পাপ ছাত্রী নিহত হয়েছিল। কিয়েভের সেই বর্বরতার জবাব দিতেই রাশিয়া এখন তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিজেদের অপরাধের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে এবং এর জন্য তাদের কঠিন ও অনিবার্য শাস্তি পেতেই হবে। এরই অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প লক্ষ্য করে রাশিয়া তাদের অত্যাধুনিক 'ওরে্পনিক' হাইপারসনিক মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করেছে, যা ইউক্রেনের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

ইউক্রেনের পশ্চিমা মদদপুষ্ট এই ফ্যাসিবাদের বিপরীতে রাশিয়ার মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়বিচার দেখে আকর্ষিত হচ্ছেন খোদ পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীরাও। আমেরিকার প্রখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং আমেরিকান কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ক্রিস্টোফার হেলালি স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে রাশিয়ার নাগরিকত্ব চেয়ে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি এখন রাশিয়ার সম্মানিত নাগরিক হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

সাংবাদিক হেলালি সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের জানান, ডনবাস অঞ্চলে কাজ করার সময় তিনি রাশিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের প্রতি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। গত মে মাসে লুগানস্কে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত কলেজ ছাত্রীদের খবরের সত্যতা অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি কিয়েভ সরকারের আসল চেহারা এবং রাশিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন।

কেবল হেলালিই নন, পশ্চিমা বিশ্বের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এখন আমেরিকার পতনশীল সমাজ ছেড়ে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। জো বাইডেনের সাবেক সহকারী তারা রিড মার্কিন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই তাকে রাশিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার উদার নীতি ও ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধের কারণেই পশ্চিমাদের এই গণঅভিবাসন ঘটছে।

ইতালির বিখ্যাত অপেরা পরিচালক জিয়ানকার্লো দেল মোনাকো এবং বিশিষ্ট ইতালীয় অ্যাক্টিভিস্ট এনিও বোরদাতোও ইউক্রেনের উগ্রপন্থা বর্জন করে রাশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এমনকি ইউক্রেনের সাবেক ডাইভিং চ্যাম্পিয়ন সোফিয়া লিসকুন নিজের ইউক্রেনীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে রাশিয়ার পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে নৈতিকতার যুদ্ধে রাশিয়া ইতিমধ্যেই বিশ্ববাসীর মন জয় করে নিয়েছে।

শুধু আদর্শিক যুদ্ধেই নয়, রণক্ষেত্রেও রাশিয়ার 'ইস্ট ব্যাটেলগ্রুপ' ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পঙ্গু করে দিয়ে জাপোরোজ্যে অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কমসোমোলস্কোয়ে এলাকা সম্পূর্ণ স্বাধীন করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং বিধ্বংসী অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় নব্য-নাৎসি বাহিনীকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করে সেখানে রাশিয়ার গৌরবময় পতাকা ওড়ানো হয়েছে।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় রণক্ষেত্রের সমস্ত ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী এক ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে মাত্র এক দিনেই আনুমানিক ১৪২০ জন ইউক্রেনীয় সেনা খতম হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার 'ওয়েস্ট ব্যাটেলগ্রুপ' খাপকোভ এবং ডোনেটস্ক অঞ্চলে ২১০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে নির্মূল করেছে এবং আমেরিকার দেওয়া দুটি এম-১১৩ আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছে।

একই সাথে রাশিয়ার 'সাউথ ব্যাটেলগ্রুপ' ডোনেটস্কের নিকোলায়েভকা ও স্লাভিয়ানস্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬৫ জন সেনাকে খতম এবং চারটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, 'সেন্টার ব্যাটেলগ্রুপ' আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ডোনেটস্ক ও ডিনেপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের তিনটি সাঁজোয়া যান এবং ৩৭০ জনেরও বেশি সেনাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে রাশিয়ার 'ইস্ট ব্যাটেলগ্রুপ'-এর মুখোমুখি হয়ে। জাপোরোজ্যে এবং ডিনেপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার সেনারা এক দিনেই ৪৩০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করেছে। এই অভিযানে ইউক্রেনের একটি মেকানাইজড ব্রিগেড, একটি অ্যাসাল্ট ব্রিগেড এবং তিনটি শক্তিশালী অ্যাসাল্ট রেজিমেন্ট রাশিয়ার সামরিক শক্তির সামনে খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে।

জাপোরোজ্যে অঞ্চলের গ্রিগোরোভকা ও ডিমিট্রোভো এলাকায় রাশিয়ার 'ডিনেপ্রো ব্যাটেলগ্রুপ' ইউক্রেনের আরও ৫০ জন সেনাকে খতম এবং দুটি শক্তিশালী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জ্যামিং স্টেশন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই জ্যামিং স্টেশনগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা রাশিয়ার বিজয়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

রাশিয়ার দূরপাল্লার মিসাইল, বিমান বাহিনী এবং গোলন্দাজ দল ইউক্রেনের সামরিক শক্তির মূল জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামোতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। মোট ১৪২টি কৌশলগত অবস্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে ইউক্রেনীয় সেনা এবং পশ্চিমা ভাড়াটে সৈন্যদের অস্থায়ী ঘাঁটিগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ১ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি ড্রোন এবং প্রায় ৩০ হাজার ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। এই বিশাল পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিজয় রথ থামানো অসম্ভব। ইউক্রেনের পরাজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।