আনন্দ খবর ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান কি কেড়ে নেওয়া হবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছ থেকে? রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাঝেই হঠাৎ কেন কিয়েভের ওপর ক্ষুব্ধ ওয়ারশ? শুধু তাই নয়, সেভাস্তোপলের ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম ধ্বংসের দাবি আর মস্কোর হাই-প্রোফাইল জেনারেল হত্যার পর উত্তপ্ত রণক্ষেত্র! আজ আমরা বিশ্লেষণ করছি ইউক্রেন যুদ্ধের এই নতুন ও ভয়ানক মোড়গুলো, যা বদলে দিচ্ছে সমীকরণ। বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।
পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক দশকের পুরনো এক নতুন ফাটল তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে তার অন্যতম প্রধান মিত্র পোল্যান্ড তার ওপর চরম অসন্তুষ্ট। যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার মোকাবিলায় ওয়ারশ কিয়েভের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইতিহাসের কিছু বিতর্কিত অধ্যায় এখন সামনে চলে এসেছে।
পোল্যান্ডের ক্ষোভের মূল কারণ হলো ইউক্রেনের জাতীয় বীর হিসেবে নাৎসি-সমর্থক জাতীয়তাবাদীদের প্রতি জেলেনস্কির সাম্প্রতিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী বাহিনী বা ইউপিএ-এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে জেলেনস্কির এই উদ্যোগকে পোল্যান্ড ভালোভাবে নেয়নি। পোল্যান্ডের মতে, এই বাহিনীগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক লাখের বেশি পোল্যান্ডের নাগরিক, ইহুদি এবং রাশিয়ানদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল, যা তাদের কাছে গণহত্যার শামিল।
এই উত্তেজনার ফলে জেলেনস্কি এখন পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, ‘অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ইগল’ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এটি ৩০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যবাহী সম্মান। ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ব্যক্তি এই সম্মান হারিয়েছেন, তাও আবার রাজনৈতিক কারণে। জেলেনস্কির ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে তা হবে কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য এক বড় ধাক্কা, যা যুদ্ধের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মে মাসের শেষের দিকে জেলেনস্কি আন্দ্রেই মেলনিকের পুনর্বাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যিনি ওইউএন-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তার এই পদক্ষেপকে পোল্যান্ডের ইতিহাসে ক্ষত হিসেবে দেখা হয়। মেলনিকের মতো ব্যক্তিদের ইউক্রেনের জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা কিয়েভ চালাচ্ছে, তাতে পোল্যান্ডের পলিটিক্যাল স্পেকট্রাম বা সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এটি কেবল ইতিহাস চর্চা নয়, বরং বর্তমানে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এর কয়েকদিন পর জেলেনস্কি ইউক্রেনের একটি কমান্ডো ইউনিটকে ‘ইউপিএ-এর হিরো’ উপাধি প্রদান করেন। এই ডিক্রি বা সরকারি আদেশ পোল্যান্ডকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ইউক্রেন দাবি করছে, এটি তাদের জাতীয় সেনাবাহিনী ও ইতিহাসের ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ। কিন্তু পোল্যান্ডের কাছে এটি নাৎসি মতাদর্শের মহিমান্বিতকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। দুই দেশের ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি এখানে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাউরোস্কি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পর্যন্ত সবাই এই নিয়ে চিন্তিত। যদিও তাদের প্রতিক্রিয়ার ধরনে ভিন্নতা আছে, তবুও জেলেনস্কির এই পদক্ষেপকে তারা রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। পোল্যান্ডের ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলছেন। তারা মনে করছেন, কিয়েভকে প্রশ্রয় দেওয়া পোল্যান্ডের আত্মমর্যাদার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
লেচ ওয়ালেসার মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি পোল্যান্ডের প্রথম পোস্ট-সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট, তিনিও জেলেনস্কির সমর্থন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনীয় পতাকার পিন পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এটি স্পষ্ট করে যে, কূটনৈতিক স্তরে পোল্যান্ডের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। ইউক্রেনীয় জনগণের প্রতি সমর্থন থাকলেও, জেলেনস্কির নেতৃত্বের প্রতি এই অনাস্থা ভবিষ্যতে সাহায্যের পথকে দীর্ঘ ও কঠিন করবে।
পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৪৩-১৯৪৪ সালের ভোলহিনিয়া গণহত্যা। পোল্যান্ড এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা বলে স্বীকার করে, অন্যদিকে ইউক্রেনীয় ইতিহাসবিদরা এটিকে কেবল যুদ্ধের একটি স্থানীয় ঘটনা বলে দাবি করেন। এই ভিন্নমত বছরের পর বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া ফেলেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অন্যদিকে, রণক্ষেত্রে ঘটে গেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। সেভাস্তোপলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘দ্য ডিফেন্স অফ সেভাস্তোপল’ ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ একে রাশিয়ার সংস্কৃতির ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি কোনো সাধারণ হামলা নয়, বরং রাশিয়ার পরিচয় ধ্বংস করার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এই ঘটনা রুশ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
১১৫ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪ মিটার উঁচু এই প্যানোরামাটি রাশিয়ার ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। ১৯০৫ সালে এটি তৈরি করা হয়েছিল ক্রিমিয়ান যুদ্ধের স্মরণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু তখন রাশিয়ানরা একে পুনর্নির্মাণ করে রক্ষা করেছিল। এখন ড্রোন হামলায় এর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় রাশিয়ান কর্মকর্তারা একে ‘বর্বরতা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর পুনরায় পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইউক্রেনের প্রায় ৩২৬টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। রাশিয়ার অনেক অঞ্চলে ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একই সাথে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ কেন্দ্রে বড় ধরনের পালটা হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরেও অনুভূত হচ্ছে।
মস্কোর কাছাকাছি বালাশিখাতে রাশিয়ার এক শীর্ষ সামরিক জেনারেল দামির দাভিদভকে গাড়ি বোমা হামলায় হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তিনি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। এটি গত কয়েক বছরে রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হওয়া ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
দাভিদভের মৃত্যুর পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এটি রাশিয়ার লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইনের জন্য এক বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও, এই ধরনের হামলাকে যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবেই দেখা হয়। রাশিয়ার সরকার একে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলে আতঙ্কের কারণে মানুষ পেট্রোল ও গ্যাস মজুদ করতে শুরু করেছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। স্থানীয় গভর্নররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন কিন্তু ড্রোন হামলার ভীতি জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন শুধু সম্মুখ সমরে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অর্থনীতি এবং ইতিহাসের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রুশ ব্যাংক এবং মাছের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা। লক্ষ্য একটাই, রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই সবচেয়ে বেশি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ লাভের পথ সুগম করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিয়েভ ও মলদোভার সাথে আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ইউক্রেন সংস্কারের ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে তিনি মনে করেন। পোল্যান্ডের সাথে বিরোধ থাকলেও, ইউরোপের রাজনৈতিক সমর্থন এখনো ইউক্রেনের দিকে ঝুঁকে আছে।
বুলগেরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা আর ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করবেন না। এটি ইউক্রেনের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। নতুন সরকারের অধীনে দেশগুলো এখন যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার সাথে লড়াই, অন্যদিকে মিত্রদের সাথে কূটনৈতিক দড়ি টানাটানি—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক অসম্ভব চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তবে মার্কিন প্রতিনিধিরা পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে শান্তি আলোচনার পথ দিন দিন সরু হয়ে আসছে। রাশিয়ার শর্তসমূহ ইউক্রেনের জন্য মানা অসম্ভব, আবার যুদ্ধের ভয়াবহতা বন্ধ হওয়াও জরুরি।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ‘ব্যাটলগ্রুপ নর্থ’ এবং ‘ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট’ ব্যাপকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিদিন ইউক্রেনের হাজার হাজার সৈন্য হতাহত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ইউক্রেনের অনেকগুলো মেকানাইজড ব্রিগেড বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতাকে ধাপে ধাপে ভেঙে দিচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে রাশিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করছে। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইউক্রেনের অনেক ড্রোন আটকালেও, বিপুল সংখ্যক হামলা রুখতে হিমশিম খাচ্ছে কিয়েভ। এই লড়াইয়ে টিকে থাকাটাই এখন ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জেলেনস্কি দাবি করছেন, তারা হার মানবেন না।
ভবিষ্যতে এই সংকট কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যেকার এই তিক্ত ইতিহাস কি সম্পর্কের ইতি টানবে? নাকি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ শত্রুতার খাতিরে তারা আবার এক হবে? বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস মুছে ফেলা অসম্ভব, তবে রাজনৈতিক প্রয়োজনে অনেক দেশই তিক্ত অতীত ভুলে এগিয়ে যায়। এখন দেখার পালা ইউক্রেন কোন পথে হাঁটবে।
জেলেনস্কির জন্য এই মুহূর্তটি খুব সংবেদনশীল। তাকে একদিকে দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মিত্রদের তুষ্ট রাখতে হচ্ছে। তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন অতি সাবধানতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিহাস বা জাতীয়তাবাদ নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো কি আসলে তার রাজনৈতিক কৌশল? এটি একটি গভীর চিন্তার বিষয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ কেবল গোলাবারুদ নয়, এটি মানুষের চেতনা এবং ইতিহাসের লড়াই। সেভাস্তোপলের শিল্পকর্ম ধ্বংস কিংবা পোল্যান্ডের সাথে ইতিহাস নিয়ে বিরোধ—এগুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ মানুষের রুচি এবং সংস্কৃতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যা শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছিল, তা কয়েক মিনিটের হামলায় ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।
আগামী দিনগুলোতে পোল্যান্ডের সিদ্ধান্তই হবে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পোল্যান্ড যদি সত্যিই জেলেনস্কির সম্মান প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা হবে ইউক্রেনের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক অপমান। রাশিয়ার প্রচারযন্ত্র এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না। এটি রাশিয়ার জন্য হবে এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক বিজয়, যা যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট।