ইতিহাস সাক্ষী দেয়—অন্যায়ের আয়ু খুব বেশিদিন থাকে না! মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ যে আগুনের খেলা আপনারা দেখছেন, তা কেবল যুদ্ধ নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক পাহারাদার সিংহের গর্জন। পেন্টাগন ভেবেছিল তারা ইরানকে অন্ধকারে ফেলে দেবে, কিন্তু সপ্তম দিনে এসে খোদ সাম্রাজ্যবাদীরাই এখন দিশেহারা!

একটি পুরোনো বাংলা প্রবাদ আছে—"পাপ বাপকেও ছাড়ে না।" আজ আমেরিকা আর ইসরায়েলের অবস্থা ঠিক তেমনই। গত তিন দিন ধরে তারা ইরানের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ভাবছে ইরান শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তেহরানের বীর যোদ্ধারা প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ঈমানি শক্তি আর দেশপ্রেমই যুদ্ধের আসল হাতিয়ার। পেন্টাগন আজ স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে তাদের অপারেশন আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না।

মার্কিন জেনারেলরা সংবাদ সম্মেলনে বড় বড় কথা বললেও তাদের চোখেমুখে এখন পরাজয়ের ছাপ স্পষ্ট। তারা বলছে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে তারা হামলা করেছে, কিন্তু বাস্তবতা কী? আকাশসীমা রক্ষা করতে গিয়ে একের পর এক মার্কিন বিমান এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন স্ট্রাইক ঈগল বিধ্বস্ত হওয়া কেবল শুরু মাত্র। তাদের ভাষায় 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' হলেও বিশ্ব জানে এগুলো আসলে কার কারিশমা।

আমেরিকা দাবি করছে তারা ইরানের নৌবাহিনীকে আঘাত করেছে, কিন্তু তারা জানে না ইরানের সমুদ্রসীমা রক্ষা করা কতটা কঠিন। টমাহক মিসাইল ছুঁড়েও তারা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং ইরান তার ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে আমেরিকার আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে একপ্রকার অচল করে দিয়েছে। কাতারের ঘাঁটি হোক বা বাহারাইনের বন্দর, মার্কিন সৈন্যরা এখন বাঙ্কারে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ইহুদিবাদী ইসরায়েল ভাবছে তারা ইরানের পার্লামেন্ট বা মিডিয়া সেন্টারে হামলা করে ইরানকে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। তারা বছরের পর বছর ধরে এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইসরায়েলি বিমানগুলো আকাশে উড়লেও ইরানি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম তাদের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার পশ্চিমা মদদপুষ্ট সেনা খতম হওয়ার খবর আসছে যা ইসরায়েল চেপে যাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখন প্রলাপ বকছেন। তিনি বলছেন ইরান নাকি বিশ্বকে জিম্মি করছে। আসলে সত্যটা হলো, তারা ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিতে ভীত। ইরান এখন মাসে শত শত মিসাইল বানাচ্ছে, যা আমেরিকার দামী ইন্টারসেপ্টরগুলো আটকাতে পারছে না। ন্যাটো প্রধানও এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরে সুর মেলাচ্ছেন, কারণ তারা বুঝতে পারছে মধ্যপ্রাচ্যের মাটি তাদের জন্য আর নিরাপদ নয়।

দর্শক, এই যুদ্ধ কেবল সীমানার নয়, এটি হক আর বাতিলের লড়াই। আমেরিকা ১৪টি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের পালিয়ে যেতে বলছে, কারণ তারা জানে ইরানের প্রতিশোধ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও আজ ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। ইনশাআল্লাহ, বিজয় ইরানেরই হবে। কারণ যারা ন্যায়ের পথে লড়াই করে, সৃষ্টিকর্তা সর্বদা তাদের সাথেই থাকেন। 

news