মাথার টুপিটা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নাকি ভোট পাওয়ার হাতিয়ার? এক হাতে তসবিহ আর মনে ক্ষমতার লোভ—এভাবে কি আর কতদিন বাংলার মানুষকে ঠকাবেন? নামাজের টুপি আর ব্যবসার টুপি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট হচ্ছে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। সাবধান! আপনাকে আবারও টুপি পরানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে।
কথায় আছে, "অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।" বাংলার গ্রাম-গঞ্জের এই অতি পরিচিত প্রবাদটি আজ যেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপির নেতাদের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। আমরা জানি টুপি হচ্ছে সম্মানের প্রতীক, টুপি হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবীর সুন্নত। কিন্তু সেই পবিত্র টুপিকে যখন কেউ রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। আপনারা হয়তো সেই ফলের দোকানদারের গল্পটা শুনেছেন, যে নামাজের জন্য আলাদা টুপি আর মূল্য বেশি পাওয়ার জন্য আলাদা ব্যবসার টুপি ব্যবহার করত।
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঠিক একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপির নেতাদের কর্মকাণ্ড দেখে আজ সেই ধূর্ত দোকানদারের কথা বারবার মনে পড়ছে। তাদের মাথায় এখন যে টুপিগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো কি আসলে নামাজের টুপি? নাকি আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট চুরির জন্য 'নির্বাচনী টুপি'? এই প্রশ্নটা আজ পুরো জাতির। তারা ইসলামের লেবাস ধরে মানুষের ইমোশন নিয়ে খেলা করছে। মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই এনসিপির নেতারাই কোটা আন্দোলনের সময় সাধারণ ছাত্রদের আবেগকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছিল। হাজার হাজার সহজ-সরল ছাত্র যখন অধিকারের দাবিতে লড়াই করছিল, তখন এরা ভেতরে ভেতরে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ছক কষছিল। তারা ছাত্রদের সাথে চরম বেইমানি করেছে এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে রাজপথ গরম করেছে। আন্দোলনের নামে তারা আসলে একটা সিঁড়ি তৈরি করছিল, যা দিয়ে তারা ক্ষমতার মসনদে পৌঁছাতে পারে। আজ সেই বিশ্বাসঘাতকতার রূপ পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এখন তারা নতুন কৌশল নিয়েছে। মাথায় টুপি দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় তারা খুব ধার্মিক। কিন্তু মনে রাখবেন, পবিত্র টুপি পরে যারা মিথ্যা বলে এবং মানুষের সাথে প্রতারণা করে, তারা আসলে ধর্মের বন্ধু নয়, বরং শত্রু। এনসিপির এই টুপি রাজনীতি মূলত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি অপকৌশল মাত্র। তারা জানে বাংলার মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাই ধর্মকে ঢাল বানালে সহজেই মানুষকে বোকা বানানো যায়। কিন্তু এবার আর সাধারণ মানুষ তাদের এই পাতানো ফাঁদে পা দেবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমাদের মনে রাখা উচিত, রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা চরম অবমাননাকর। রাজনীতির মাঠে টুপি নিয়ে তামাশা বন্ধ হওয়া দরকার। এনসিপি যে নতুন করে মানুষকে টুপি পরানোর মিশনে নেমেছে, তা আমাদের শক্ত হাতে রুখতে হবে। সঠিক পথ অবলম্বন করা এবং সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি। যারা একবার বেইমানি করেছে, তারা বারবার বেইমানি করবে। তাই তাদের মিষ্টি কথায় না ভুলে তাদের পেছনের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে শিখুন। ধর্মের লেবাস পরা শিয়ালদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শেষে এটাই বলব, নামাজের টুপি যেন অবশ্যই নামাজের জন্যই হয়, রাজনীতির ব্যবসার জন্য নয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন এবং এই ধরণের রাজনৈতিক ভণ্ডামি থেকে দেশকে রক্ষা করুন। এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের সামনে আসা উচিত। যারা ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করে, তাদের ঠাঁই এই বাংলার মাটিতে অন্তত সচেতন মানুষের হৃদয়ে হবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে এই টুপি রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং একটি সত্যনিষ্ঠ সমাজ গড়ে তুলি।
