আব্দুল্লাহ আল মাসুম : চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী— কথাটি হয়তো আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একদম পারফেক্ট। যখন আদর্শের বুলি দিয়ে মানুষের ভোট কেনা হয়, তখন সেই রাজনীতির ভবিষ্যৎ আসলে কোন অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে, তা ভাবার সময় এখন এসেছে।

সবাই যখন ক্ষমতার মোহে ব্যস্ত, তখন একদল বলছে তারা সরকারি গাড়ি-প্লট নেবে না! কিন্তু এই ত্যাগের আড়ালে কি কোনো ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে? সততার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কি পাপ মুছে যায়? আজ আমরা ফাঁস করব সেই 'টাকার খেলা' যা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন!

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির ভেতরে আর বাইরের পার্থক্যটা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। সম্প্রতি তাদের আইনজীবী শিশির মনির সাহেব একটি পূর্ব ঘোষণার কথা জানিয়েছেন যে, তাদের এমপিরা নাকি ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আর সরকারি প্লট নেবেন না। শুনে মনে হতে পারে দেশটা হয়তো ফেরেশতায় ভরে গেছে। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যাবে এর পেছনে রয়েছে বিশাল এক সাজানো প্রচারণার নাটক। এই নাটক সাজানো হয়েছে কেবল সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য, যা আসলে আদর্শিক রাজনীতির পরিপন্থী একটি ধূর্ত কৌশল।

যে দল নির্বাচনের আগে পাড়ায় পাড়ায় টাকার বান্ডিল নিয়ে ঘোরে, তাদের মুখে ত্যাগের বুলি শুনলে হাসি পায়। মানুষের ঈমান আর ভোট কেনার জন্য তারা পর্দার আড়ালে যে টাকার খেলা খেলে, তা কারো অজানা নয়। ইসলামের লেবাস পরে যখন অনৈতিকভাবে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, তখন সেই দলকে ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দিতেও সাধারণ মানুষের মনে চরম ঘৃণা জন্মায়। তাদের এই কর্মকাণ্ড পবিত্র ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।

নাটকের স্ক্রিপ্টটা অনেকটা এরকম যে, প্রথমে আপনি পর্দার আড়ালে কোটি কোটি টাকা খরচ করে মানুষের অভাবের সুযোগ নেবেন। তারপর যখন ক্ষমতা হাতে আসবে, তখন ক্যামেরার সামনে এসে বলবেন আমরা দুনিয়াদারিতে নেই। এই যে গাড়ি বা প্লট না নেওয়ার বাহানা, এটা আসলে সাধারণ মানুষের মন ভোলানোর একটা সস্তা পিআর স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ধরনের স্টান্ট দিয়ে তারা কেবল নিজেদের অপরাধ ঢাকতে চায়।

একটি পাজেরো গাড়ির দাম হয়তো কয়েক কোটি টাকা হতে পারে, কিন্তু সেই গাড়ি ত্যাগ করার খবর ছড়িয়ে যদি কোটি মানুষের কাছে নিজেকে সৎ প্রমাণ করা যায়, তবে সেই ইনভেস্টমেন্ট তো তাদের জন্য অনেক লাভজনক। জামায়াত এই কৌশলটিই এখন কাজে লাগাচ্ছে। তারা চাচ্ছে সাধারণ মানুষকে আবেগ দিয়ে অন্ধ করে রাখতে, যাতে তাদের পেছনের অন্ধকার কাজগুলো কেউ দেখতে না পায়। বিএনপির মতো একটি বৃহৎ ও জনপ্রিয় দল যেখানে মানুষের অধিকারের কথা বলে, সেখানে জামায়াত ব্যস্ত কেবল লোকদেখানো তথাকথিত ত্যাগের গল্পে।

ইসলামের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করবেন, আবার ভোটের সময় সেই ইসলামের বিধান যেমন ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ভুলে যাবেন, এই দ্বিচারিতা পাবলিক এখন ধরে ফেলেছে। আপনি গায়ের সাইনবোর্ড পাল্টে খুব সহজেই সৎ সাজতে পারেন, কিন্তু ভেতরের সেই পুরোনো সুবিধাবাদী চরিত্রটা বদলানো যে কত কঠিন, তা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আজ দেশের মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ আজ তরুণ প্রজন্মের কাছেও ধরা পড়ে গেছে।

জনগণের মনে আজ বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি না নেওয়াটা কি আসলেই সততা নাকি ভোট কেনার পাপ ঢাকার একটা পাতলা চাদর মাত্র? যে দলটির আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, তারা কেন এখন হঠাৎ করে এত বড় ত্যাগের অভিনয় করছে? আসলে জনসমর্থন হারানোর ভয়ে তারা এখন নতুন করে সততার জিকির তুলে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ এখন আর বোকা নেই, তারা ভালোভাবেই জানে কোন দল জনগণের সাথে প্রতারণা করছে।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে যারা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের আসল চেহারা উন্মোচন হওয়া জরুরি। কোটি কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের যে নীল নকশা তারা তৈরি করে, তা ত্যাগের চাদর দিয়ে ঢাকা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সচেতন সমাজ এখন আর এসব সস্তা কৌশলে ভুলবে না। তারা জানে কে আসলে খাঁটি আর কে কেবল অভিনয়ের রাজনীতি করছে। বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের বিপরীতে জামায়াতের এই চতুর পথচলা কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই।

ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা আর কতদিন চলবে? জামায়াতের এই পলিটিক্যাল স্টান্ট কি শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষা করতে পারবে? গাড়ি বা প্লট না নেওয়াটা যদি সত্যিই আন্তরিক হতো, তবে ভোটের মাঠে টাকার প্রবাহ বন্ধ হতো। কিন্তু যখন বাস্তব আর প্রচারণার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, যা জাতীয়তাবাদের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি অবস্থান।

দেশবাসীর কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা তথাকথিত ত্যাগের এই মোড়ক দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। রাজনীতির মাঠের এই ধূর্ত চালগুলো বুঝতে শিখুন। জামায়াতের এই সততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। মনে রাখবেন, অন্ধ আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, দেশ চলে সত্য আর সুশাসনের ভিত্তিতে যা এই দলের মধ্যে অনুপস্থিত। বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যেখানে মিথ্যা ত্যাগের কোনো স্থান নেই।

সত্যিই কি তারা সৎ, নাকি এটা কেবলই ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার একটি সুকৌশলী সিঁড়ি? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় সজাগ থাকুন। আমরা সত্যকে তুলে ধরবই। 

news