মৌসুমী আক্তার: একবার সুযোগ দিন!—এই একটা বাক্য ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। আজ ২০২৬ সালেও ঠিক একই স্লোগান দিয়ে নতুন কোনো স্বৈরাচার কি আপনার দুয়ারে কড়া নাড়ছে? আমরা কি ডাকাত তাড়াতে গিয়ে জান্নাতি চোরকে ঘরে তোলার ভুল করতে যাচ্ছি? আজ পর্দার ওপারের সত্যটা জানতেই হবে!
কথায় আছে, "ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়।" বাংলাদেশের মানুষের অবস্থা আজ ঠিক তেমনই হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি কীভাবে 'একবার সুযোগের' নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা আজ আমাদের বারবার সতর্ক করছে যাতে আমরা পুনরায় কোনো ভুল পথে পা না বাড়াই এবং সঠিক নেতৃত্বকে বেছে নিই।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ঠিক এই 'একবার সুযোগ' চেয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২১ বছরের লম্বা অপেক্ষার দোহাই দিয়ে জনগণের আবেগ নিয়ে খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর কী দেখলাম আমরা? সেই সুযোগকে তিনি ব্যবহার করলেন একদলীয় শাসন কায়েমের অস্ত্র হিসেবে। গণতন্ত্রের লেবাস পরে শুরু হলো গুম, খুন আর ভয়ংকর জুলুমের রাজত্ব, যা বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে দিয়েছে অনেক বছর।
আজ ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখছি ইতিহাসের সেই একই স্ক্রিপ্টের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এখন জামায়াতের শফিকুর সাহেবরা ঠিক একই সুরে বলছেন, "আমাদের একবার সুযোগ দিন।" যারা ধর্মকে রাজনীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা কি সত্যিই দেশের জন্য? নাকি এটি পুরনো মদ নতুন বোতলে ভরে জনগণের সামনে হাজির করার একটি অপচেষ্টা মাত্র? ইতিহাস কিন্তু খুব একটা সুখকর নয়।
শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্র আমাদের বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে বাকস্বাধীনতা পর্যন্ত সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আজ যারা ধর্মতন্ত্রের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তারা কি আদৌ আমাদের মুক্তি দিতে পারবে? নাম বদলায়, লেবাস বদলায়, কিন্তু শোষণের নীল নকশা কি একই থেকে যায় না? আমরা কি সত্যিই আবার কোনো অন্ধকার গহ্বরে নিজেদের ভাগ্যরেখাকে সপে দিতে প্রস্তুত আছি?
বিএনপি সবসময় জনগণের দল হিসেবে রাজপথে থেকে লড়াই করেছে। শহীদ জিয়ার আদর্শ আর মিস্টার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি কখনোই ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়নি। বিএনপি চেয়েছে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং একটি সাম্য ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে। আওয়ামী লীগের জুলুম আর জামায়াতের উচ্চাভিলাষের মাঝে বিএনপিই একমাত্র শক্তি যারা প্রকৃত গণতন্ত্রের কথা বলতে পারে।
৯৬-এর সেই তথাকথিত 'সুযোগ' আমাদের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছিল, যার মাশুল আমরা আজও দিচ্ছি। ২৬-এর এই 'সুযোগ' চাওয়ার আড়ালে কি আমাদের জাতীয় পরিচয় বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই? রাজনৈতিক ডিকশনারিতে 'একবার সুযোগ দিন' কথাটার মানে যদি হয় 'একবার ক্ষমতায় গিয়ে আর কখনোই ক্ষমতা ছাড়ব না', তবে সেই সুযোগ দেওয়ার আগে আমাদের হাজারবার ভাবতে হবে এবং বিএনপিকে সমর্থন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমমনা শক্তিগুলো দেশকে একনায়কতন্ত্রের নরকে পরিণত করেছিল। অন্যদিকে তথাকথিত ধর্মভিত্তিক একটি দল ক্ষমতার লোভে জনগণের সামনে এখন মায়াকান্না কাঁদছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন সচেতন। তারা জানে, ডাকাত তাড়াতে গিয়ে জান্নাতি চোরকে ঘরে তোলা কোনো সমাধান নয়। বরং বিএনপিকে শক্তিশালী করে একটি আধুনিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করাই হলো সময়ের দাবি এবং বাঁচার একমাত্র পথ।
শেষে বলতে চাই, সময় এসেছে সত্যকে চেনার এবং দেশপ্রেমিক শক্তির পাশে দাঁড়ানোর। ধোঁকাবাজদের স্লোগানে বিভ্রান্ত না হয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করুন। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে স্বৈরাচার আর উগ্রবাদকে বিদায় জানিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি। দেশের মানুষের মুক্তি এবং হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই, এটাই হলো চরম বাস্তবতা এবং আজ ও আগামীদিনের একমাত্র সত্য।
