অপেক্ষার অবসান! দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশের আকাশে উদিত হলো নতুন সূর্য। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার দেশনায়ক তারেক রহমান। কিন্তু এই পথ কি শুধুই কুসুমাস্তীর্ণ? নাকি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তাকে লড়তে হবে পর্বতসম ১০টি চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে? আজ জানাবো তারেক রহমানের আগামীর মহাপরিকল্পনা!

"কথায় আছে, ‘রাত যত গভীর হয়, সকাল তত নিকটে আসে।’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে গত ১৫ বছর যে ঘন অন্ধকার ছিল, আজ তা কেটে গিয়ে ভোরের আলো ফুটেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে বিএনপি আজ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে আজ আনন্দের জোয়ার, কারণ জননেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন।"

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা চেয়েছে এমন এক নেতৃত্ব, যিনি বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের মানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে পেরেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমান যেভাবে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১৮ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় চলছে। সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি এখন বঙ্গভবনের দিকে, যেখানে শপথ নেবেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান।

তারেক রহমানের সামনে প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা। বিগত সরকারের আমলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা মেরামত করা সহজ কাজ নয়। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে তার সরকারের অগ্রাধিকার। তারেক রহমান বারবার বলেছেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে শুরুতেই বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা হবে তার অর্থনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার, যা দেশের মানুষকে মুক্তি দেবে।

প্রশাসনে জেঁকে বসা দলীয়করণ দূর করা তারেক রহমানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী আমলারা যাতে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করতে না পারে, সেদিকে তাকে কড়া নজর দিতে হবে। দক্ষ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে প্রশাসনকে গতিশীল করতে হবে। তারেক রহমানের ভিশন হলো একটি নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র তৈরি করা। যেখানে কাজ হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়। এই সংস্কারই হবে নতুন বাংলাদেশের মেরুদণ্ড।

রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে তারেক রহমান জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সাথে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান রোধ করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে কোনো উগ্রবাদের স্থান হবে না। সকল ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিতে বসবাস করবে।

বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তারেক রহমান তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে আন্তর্জাতিক মহলে যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তা বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভিসা জটিলতা নিরসন এবং বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি তার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি চান সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। তার পেশাদার কূটনীতি বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এক সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তারেক রহমানের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তরুণদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা করেছেন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করা হবে। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, তরুণরাই হলো আগামীর বাংলাদেশ। তাই তাদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। মেধা পাচার রোধে নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে। ২৫শে ডিসেম্বর যখন তিনি দেশে ফিরলেন, তখন রাস্তার দুই পাশে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই মানুষের চোখে আজ নতুন স্বপ্নের হাতছানি। চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু তারেক রহমানের সাহসিকতা এবং দেশপ্রেম সেই বাধাগুলো অতিক্রম করতে সক্ষম। তিনি কেবল বিএনপির নেতা নন, তিনি আজ সারা বাংলাদেশের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। ইনশাআল্লাহ, তার হাত ধরেই আসবে প্রকৃত মুক্তি।

news